গল্পতে জয়ন্ত পাল

যত দোষ শয়তানের
একটা অমীমাংসিত দুরন্ত সম্ভোগ প্রতিযোগিতায় ক্লান্ত হয়ে আদম আর ইভ একটাঝিংকু মার্কা আপেল গাছের তলায় পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে কেৎরে পড়েছিল।
জাফরানি রঙের আকাশটা তখন যেন নির্বাক চলচ্চিত্র।
গোলগোল লাল ফলে গাছটা ছিল নমন্তি ফলনি বৃক্ষা!
এরই মধ্যে পড়ন্ত গোধূলির আলোয় আপেল ফল দেখে ইভের গাল দুটো লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো।
নস্টালজিয়া পেয়ে বসলো ইভ কে।
তোমার মনে পড়ে?
কি?
স্বর্গের নন্দন কাননের আপেল গাছটার কথা! তোমার মনে নেই?
মনে আছে। তবে স্বর্গোদ্যানে র গাছটা এত বড় ছিলনা। ফলনও কম ছিল।
দূর! তোমার কিছুই মনে নেই দেখছি!
কপট রাগ দেখিয়ে ইভ আদমের সংবেদনশীল জায়গায় একটা মোক্ষম চিমটি কাটলো।
আঃ! করোকী!
সত্যিই বলোতো আদম, তোমার কি কিছুই মনে পড়ছেনা?
চিমটির জন্য কিনা, জানিনা, আদমের অতীতের সমস্ত কথাই মনে পড়ে গেল।
হ্যাঁ! মনে পড়ে গেছে। স্বর্গের আপেল গাছটার একটা ফল আমরা খেয়েছিলাম।
তারপর কি হলো বলোতো?
ওই তো… ওই হলো।
(কি হলো আর ব্যাখ্যা করলামনা। যাঁরা ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়েছেন, তারা ঘটনাটা বিলক্ষণ জানেন।)
জানো আদম, শয়তানটা না থাকলে কী হতো!
কি আর হতো? আমরা বুড়োবুড়ি হয়ে যেতাম; কিন্ত মজাটা থেকে যেত অধরা।
যাঃ!
আর একটা মোক্ষম চিমটি পড়লো আদমের সংবেদনশীল জায়গায়।
চিমটির জোরে আদমের মনে পড়লো বেহায়ার মতন আপেল গাছটার গায়ে ধ্যামনার মত জড়িয়ে ছিলো একটা মস্ত বড় অজগর সাপ!
ফাজিল ছোকরার মতন সেই সাপটা গাছ থেকে একটা আপেল ছিঁড়ে মুখে নিয়ে টুক করে ফেলে দিয়েছিলো গাছের নীচে যেখানে উদোম গায়ে ওরা দুটিতে বসে এক্কা দোক্কা খেলছিলো।
তার পর ম্যাজিকের মত কি রকম কি রকম ভাব যেন এসে গেছিলো দুজনের।
আদম এখন বুঝতে পারে টিভির বিজ্ঞাপনের একটি বিশেষ তেলের সঙ্গে কেন সাপের উপস্থিতি।
আমরা দুজন আপেলটা খেয়েছিলাম ভাগাভাগি করে।
বললো ইভ।
না! তুমি একটু বেশি খেয়েছিলে আমার চাইতে।
বললো আদম।
আপেল খাওয়ার সময় আপেলের বিচি তোমার গলায় আটকে ছিলো আদম।
ভুল বললে ইভু সোনা। ওল্ড টেস্টামেন্ট ভুল বলেছে। বিচি গলায় আটকে থাকেনা। বিচি লটকে থাকার…
অসভ্য!
কপট রাগ দেখায় ইভ।
আমরা আপেল খাওয়ার পর কেমন শিশুর মতন হয়ে গিয়েছিলাম না আদম?
শিশুর মতন!!!
একটা ফিচলেমি হাসি হেসে আদম বলে __
কী বলছো ইভু ডারলিং। তুমিতো তখন সানি লিওনি হয়ে উঠেছিলে।
যাঃ! কী যে বলনা তুমি!
নারীর স্বভাবজাত লজ্জা ইভের শরীরে শিহরণ তোলে।
দাঁত দিয়ে নিজের কমলা লেবুর কোয়ার মত ঠোঁটটাকে মৃদু দংশন করলো।
তার পর মনে পড়ে আদম, কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত?
বাচ্চা!
নির্বোধের মত বলে আদম।
তুমি একটা গাম্বাট! তোমার কিছুই মনে থাকেনা।
আপেল খেয়ে আমাদের ইয়ে… হবার কথা শুনে গড দারুণ রেগে গিয়ে মুগুর নিয়ে আমাদের তাড়া করেছিলেন।
তোমার মনে নেই আদু?
মনে আছে সোনা।তবে আজও বুঝতে পারলামনা, গডের অত রাগ হওয়ার কারণ কী!
আসলে জানো ইভ,এ হলো এক ধরনের যৌন ঈর্ষা! বুড়ো গডের ক্ষমতা নেই….
ও কথা বলোনা সোনা।
ব্যস্ত হয়ে বাধা দিয়ে ওঠে ইভ।
ও কথা বলোনা গো! গড পাপ দেবে।
ভয় পেয়োনা ইভু!
ঈশ্বর ক্ষমতাহীন। হত বীর্য!
তিনি কিছুই দিতে পারবেনা।
তবুও শয়তান সাপের ছদ্মবেশে আমাদের একটা আপেল দিয়েছিলো।
পড়ন্ত গোধূলিতে দিগন্ত তখন লাল আভায় ছেয়ে গিয়েছিলো।
গোধূলির এই ম্যাজিক করা মুহূর্তে আদমের মনে জন্ম নিচ্ছিলো একটা আদিম আকাঙ্খা। আদমের ভেতরের বন্যতা জেগে উঠছে।
হটাৎ শয়তানের পোশাকের মত চতুর্দিকে নিকষ কালো হয়ে উঠলো।
ঝড় উঠেছে __ভীষণ ঝড়!
একটা দমকা বাতাসে আপেল গাছটা কেঁপে উঠল। গাছটার সমস্ত আপেল গুলি ঝরে পড়লো আদম আর ইভের সারা দেহে।
লাল টুকটুকে কম্বল তৈরি করে আচ্ছাদিত করে ফেললো দুজন আদিম মানব মানবীকে।
ঝড় উঠলো লাল কম্বলের তলায়ও।
তারপর?
দূর মশাই!
ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়েননি?