ক্যাফে কাব্যে যুবরাজ মাল

আমি বৃষ্টি হতে পারতাম তুমি বললে।
আমি মৃত্যু ও হতে পারতাম তুমি চাইলে-
সবকিছু প্রকাশের অবকাশযাপন চাইনি আমি।
আমি তোমার হৃদয়ের খোঁজ খবর রাখতাম।

কই, তুমি তো এক মুখো কড়া রৌদ্র তো ও চাওনি!
কেবল সরে যেতে চাওয়াই থমকে ছিলে-
আমি বুঝেও তোমার ভোরের মিষ্টি স্বপ্ন হতে চেয়েছিলাম, মন খারাপের চার্লি, সুখের সময় অব্যাবহারিত আঁচলের খুঁট।

তবুও বুঝতে পারোনি তুমি, কারণ স্বপ্নেও ছেড়ে যেতে চেয়েছিলে, মন খারাপের কারণ ভেবেছিলে আমাকে, আর সুখের দিনে সাত তাড়াতাড়ি কেটে যাওয়া অস্বস্তিকর সময় মনে করেছিলে আমাকে তুমি, তাই আমার ছায়া হয়ে বসে থাকার কারণ বোঝবার অবকাশ হয়নি তোমার।

হারিয়ে দিয়েছো আমাকে বারবার তোমার ইচ্ছের কাছে।
আমি চেয়ে থেকেছি কখন তুমি একটা বসন্ত চাইবে, আমি রং হয়ে ধরা দেবো তুমি দুহাত ভরে মেখে নেবে আর ফিরে যেতে চাইবে না বসন্ত থেকে আসছে গ্রীষ্মে।

না তাও হয়নি-
তুমি বসন্তে অন্যের উড়ানো আবীরের নিজেকে রাঙিয়ে নিয়েছো-
মেতেছো তাদের খুশির আগুনে।
আমি অবহেলায় পড়ে ছিলাম, এবং রয়েছি, তবে তোমার আমাকে দেখে ওঠবার মতো সময় হয়ে ওঠেনি ওই মনরম পরিবেশে।
জীবন ধারণ করেছি তখন চাতকের মতো বৃষ্টি রূপী তোমাকে ছোঁয়ায় অপেক্ষায়।

না তোমার ভালোবাসার সময় হয়ে ওঠেনি।
ছেড়ে যাওয়ার জন্য শুধু ঠুনকো কারণ খুঁজেছো।

তারপর আমার মুখে অনেক বার শুনেছো, আমি হাসি মুখে চলে যেতে পারি।
খুব খুশি হয়েছিলে- কিভাবে পারো তুমি?
প্রশ্ন টা মনে আছে?
আমি বলে ছিলাম ওটা আমার জীবন থেকে নেওয়া শিক্ষা।
অবশ্যই তুমি চাইলে বর্ষা হতে পারতাম, চাইলেই মৃত্যু।
কিন্তু প্রস্থান চাইলে, তাই হাসি মুখ নিয়ে দাড়িয়ে ছিলাম।

আর কতো মিথ্যা বলবি!
জানিনা কোনটা মিথ্যা ছিল, সত্যের প্রকাশ। না বলা সত্যের মোড় নেওয়া অন্য গল্প।
যাইহোক।
তোমার কথা, আমার মুখে হাসি হয়তো আমার ভালোবাসার সাখ্য বহন করতে পারে না, যারা ভালোবেসে চলে যায় তারা কি এতটাও সহজে মুখে হাসি আনতে পারে!
পারে না হয়তো, আমার এসে যায়।

জানো তো তুমি প্রস্থান চেয়ে ছিলে আমি থেকে যেতে।
তাই এতকাল পরেও তোমাকে না পোস্ট করা একটা চিঠি লিখছি।

তবে বলে রাখি, মানুষের মুখের হাসির সত্যতা তারাই জানে যারা মনের খোঁজ খবর রাখে।
কিন্তু মনের খবর রাখতে মনের মানুষ হওয়া টা জরুরি।
আমি পারতাম তোমার সুখী, মান ভাঙানোর কারণ খুঁজতে, তবে তুমি আমাকে চিনতে না।
চিনবেই বা কি করে, আমাকে তো মনের মানুষ করতে পারোনি,
তাই মুখের হাসিতে পড়ে ছিলে, মন বোঝোনি।
মনে রেখো- মনের হদিস সেই রাখে, মন আপন করে যাকে।

জানো তোমাকে চিঠি লিখতে গিয়ে রবী ঠাকুরের লেখা একটা কবিতার কয়েকটি লাইনের কথা খুব মনে পড়ছে।

ঢাকো তবে ঢাকো মুখ, নিয়ে যাও দুঃখ সুখ।
চেয়ো না চেয়ো না ফিরে ফিরে।
হেথায় আলো নাহি অনন্তের পানে চাহি
আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে, আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে, আঁধারে মিলাও ধীরে ধীরে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।