কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে জায়েদ হোসাইন লাকী (গুচ্ছ কবিতা)

১| সাঁতার প্রণালী

একটি দুগ্ধবতী নদীর রক্তস্রোতে সাঁতার কেটে-
কেটেছিল আমার ভ্রুণকাল।
কুমার নদীতে সাঁতার কেটে কৈশোর কেটেছে
অন্য এক অমৃত নদীতে সাঁতার কেটে কেটে
আমার যৌবন চলে যায় অবেলায়
সামনে আমার এক মহা-সমুদ্রজীবন
আমি মূলত একুরিয়ামে সাঁতার কাটা এক
মৎস্যপ্রজাতির মানুষ
শুধু, এ নদী, সে নদীতে সাঁতরে বেড়াই
কূলের নাগাল আর পাই না
সময়ের অন্তরীক্ষে ডুবে যেতে যেতে
বিভাজনে ভরে যায় আমার যাবতীয় সাঁতারকূল

২| মধ্য রাতের সঙ্কট

বয়স বাড়লে মধ্যরাতে গলা শুকিয়ে যায়
আমার এক আজন্ম জলতৃষ্ণা
বাল্যকালে গলা শুকিয়ে গেলে-
মা আমাকে পানি পান করাতেন
যৌবনে আমি কারো পাণিগ্রহণ করিনি
মধ্যবয়সে মধ্যরাতে,
মাথার পাশে এক বোতল পানি রাখার জন্য
কেউ একজন থাকা উচিৎ
বৃদ্ধরা গলা শুকিয়েই মরে
আমার তৃষ্ণার জল হেমলক হয়ে গলায় বিঁধে
আহ! আমার এইসব প্রবল জলতৃষ্ণা
তা কেন মধ্যবয়সে বুঝিনি?
আমার এক পানকৌড়ি জীবন
জলে ডুব দেই, তবুও জলের তৃষ্ণা মিটে না

৩| আমার সম্পর্কিত দুঃসমাচার

বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে এখন মৃত্যুকে ভুলে থাকি
অবশ্য এটাকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষাও বলা যায়
বৃক্ষেরা যেভাবে মৃত্যুর জন্য আজন্ম অপেক্ষমান
তোমার জন্যও এভাবে আমি ক্যাথিড্রালের পাশে
অপেক্ষায় থাকতাম এক সময়
অতঃপর, তোমাকে পেয়ে গেলে বেমালুম ভুলে যেতাম
অপেক্ষার সেই তীব্র উৎকণ্ঠা
যেমন, মৃত্যুকে পেয়ে গেলে পাখিরাও ভুলে যায়
পৃথিবীর ইতিহাস
আমিও এখন ক্রমশ আমৃত্যু অপেক্ষমান
তোমার জন্য, মৃত্যুর জন্য, অথবা সব কিছুর জন্য

৪| আমার সেই সব হলুদ যৌবন

সূর্যের গতিপথ কখনোই বদলানো যায় না
যেমন, বদলানো যায় না তোমার অন্তরিক্ষের মানচিত্র
বিকেলের সূর্যকে প্রতীক্ষার তাকিয়ায় হেলান দিয়ে রেখে
দিনকে আমি রোজ শৃঙ্গার করি
সময়ের গর্ভে জন্ম নেয় এখন রৌদ্রপক্ক হলুদ যৌবন
যৌবনের এই তীব্র দাবদাহে
ক্রমশ লাল হয়ে ওঠে শরীরের ছাল
আমার শরীরের ভাগাড়ে সম্ভ্রমের লাল ইশতেহার
তোমার শরীর তৈরি হওয়া এক আউশ ধানের ক্ষেত।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।