ক্যাফে কলামে যাজ্ঞসেনী গুপ্ত কৃষ্ণা

হাটের মানুষ বাটের মানুষ – একটি প্রতিবেদন
প্রচলিত প্রবাদ আছে, অতি বড়ো ঘরণী না পায় ঘর, অতি বড়ো সুন্দরী না পায় বর। এর সঙ্গে আর একটা বেশ মিলতা জুলতা ব্যাপার হয়ে গেল রায়নার হাটে। তা হলো, অতি ভালো ঘরামীরও ঘর না থাকা। দেশে ঘরামী অনেক আছে, তবে কাজের মান অনুযায়ী মানুষের মান। সেদিক থেকে দেখলে সুদামখুড়ো এলাকায় এক নম্বর। নিজের গাঁয়ের লোক, গাঁ সম্পর্কে ডাকি ‘কাকু’ বলে। তার তৈরি মাটির বাড়ির ফিনিশিং নাকি “পাকাবাড়ি”কেও টেক্কা দেয়।
তবে মাটির বাড়ি আর কটা তৈরি হয় ইদানীং? খাঁটি জিনিসের তো আকাল পড়ে গেছে দেশে! যেমন গ্রামও আজকাল দোআঁশলা, তেমনি তার দশা। তো গ্রাম বলেই সে চিরকাল পাঁক মাকামাখি অবস্থায় পড়ে থাকবে সে কথা বলছি না মোটেই। তা কখনই হতে পারে না! আধুনিক সুবিধা নিশ্চয়ই কাম্য।সেজন্য বাঁধানো রাস্তাঘাট হোক, পানীয় জলের বন্দোবস্ত হোক, যানবাহনও থাক। তাই বলে গাছপালা কেটে ফেলে মাটিকে কংক্রিটে ঢেকে দেবার দরকার নেই। পুকুর ডোবা মেরে দেবারও নয়, তাহলে গ্রামীণ জীবনের খাদ্য সংস্কৃতির অংশ হিসাবে হাঁস, মাছ ,শামুক-গুগলীর আকাল পড়ে যাবে না? শুশনি, কলমী ও অন্যান্য জলজ দরকারী লতাপাতাগুলো লয়প্রাপ্ত হবে না? তাই পুকুর ডোবা অন্য জলাশয়গুলোকে গ্রামের জীবনীশক্তি হিসাবে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। সেখানে যেন হাঁসগুলো পুরোনো দিনের মতো খেলে বেড়াতে পারে! গ্রামের ঘরে ঘরে যেন গরু মোষ ছাগল চাষ বন্ধ না হয়। মোড়ের মাথার বিরাট ঝাঁকড়া তেঁতুল গাছটি যেন আরও কয়েকটা শতাব্দী আয়ু পায়। তার তলায় দাঁড়িয়ে পথিক রোদবৃষ্টি থেকে বাঁচুক। বেঁচে থাক বাংলার লোক-লৌকিকতা-ব্রতকথা। মাটির বাড়িগুলো আরও সুন্দর মনোহারী সাজে সেজে আরাম বিলোক।
কিন্তু তা তো হবার নয়! মানুষ অন্তর্লগ্নে যত না আধুনিক হয়েছে, বহিরাবরণে বরং তার থেকে ঢের ঢের বেশি চাকচিক্যে তথাকথিত আধুনিকতার বিজ্ঞাপন দিয়ে চলেছে! গরমে হাঁসফাঁস করবে, তবু গ্রামের গরীব মানুষও নতুন করে মাটির ঘর আর তুলবেন না। না খেয়ে, এক বেলা খেয়ে, অসুখবিসুখে ডাক্তার না দেখিয়ে সেই টাকা জমিয়ে জমিয়ে ইটের কাঠামো তোলার পর অনেকেই তার গায়ে পলেস্তারা দেবার ক্ষমতাটুকু আর করে উঠতে পারেন না। তবু হাড় বের করা ইটের গাঁথনিটুকুভি আচ্ছা, মাটির বাড়ি কভি নেহি। রোজ রোজ মাটি লেপে ইঁদুরের গর্ত বোজানো, বছর বছর ঘরের চাল ছাওয়া, দেওয়ালে মাটি লেপা – আর নয়। তাই সেই ইটের কাঠামোটুকু। আর সেই কাটামোও শুধু কাঠামো নয়, তা যেন এক স্বপ্নসৌধ। মানুষগুলো ইটের উপর ইট সাজিয়ে এক কামরা দু-কামরার স্বপ্ন ফাঁদেন। বর্তমানে সরকারী গৃহ যোজনাতেও পাকাবাড়ি তোলার জন্যই অনুদান দেওয়া হয়। সুতরাং গ্রামগঞ্জের প্রাপকদের কিছু করারও নেই। যদিও ঘরটা পাকা হলে, মাথার উপর পাকা ছাউনি হলে কতটা যে নিশ্চিন্ততা, তা কেবল তাঁরাই জানেন। এ কথাও ঠিক, উক্ত প্রকল্পের আওতায় এসে কেউ কখনও মাটির বাড়ি তুলতে চেয়েছেন কিনা তা জানা নেই। মাত্র এটুকু জানা আছে, অনেক সময় পঞ্চায়েত থেকেই পাকা দেওয়াল তোলার জন্য রাজমিস্ত্রী নিযুক্ত হয়ে থাকেন।
সবই ঠিক। কিন্তু তবু আমার মনের খুঁতখুঁতেমি যায় না। কেবল মনে হয়, এরও বিকল্প ছিল,“টিনা” হতেই পারে না। মাটির বাড়ি পরিচর্যা করা অসুবিধাজনক সে হাজারবার সত্যি কথা। কিন্তু ওই ইটের কাঠামোয় আরাম কোথায়? ঠান্ডা গরম দুটোতেই যে তাঁরা বেশ কষ্ট পান, একথাও কি অস্বীকার করতে পারবেন? তাই ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় যেন এর থেকে ইঁদুরের গর্ত বোজানো ঢের ভালো ছিল।
কিন্তু সে যাই হোক, আমার ভাবনা আমি পকেটে রাখলাম। বরং যেজন্য এত কথা এসে পড়ল সেই সুদামখুড়োর কথাই বলা যাক। অসুবিধা তার আর তার মতো অনেক ঘরামীরই। নিজেদের পেশা হারিয়ে ফেলার কষ্ট কম নয়। পেশার বিনষ্টি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, পাশাপাশি সমাজ কাঠামোর বদল ও পেশার বৈচিত্র হ্রাস। এরফলে ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত সর্বজীনন।
সুদাম কাকা অন্য কাজ তেমন পারে না। মাটি-কাদার তাল দিয়ে সুদামকাকার মতো মানুষেরা কেবল একটা বাড়ি নয়, শিল্প তৈরি করে। মানুষের স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেয়। কাদা ছানাছানিতেই তাদের সুখ। সে কাজ তাদের কাছে খুব আনন্দের, প্রাণের। অথচ তার মতো অন্য ঘরামীরাও পেশা হারিয়ে হয়তো বা অসহায়। বাধ্য হয়ে অন্য কাজ বেছে নিতে হয়েছে কাউকে কাউকে। যদিও গাঁয়ের মানুষেরা অনেকেই নিজেদের পেশার বাইরেও অন্য নানা কাজেই সক্ষম। কিন্তু অন্য অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরকম অনেক পেশাই হারিয়ে যাচ্ছে, আর সেই পেশার মানুষগুলি চরম সংকটে পড়ে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই নির্দিষ্ট পেশার মানুষগুলিকে সংকট থেকে বাঁচানোর? নাহলে যে জনজীবন থেকে কাজের বৈচিত্র হারিয়ে যাবে, যে কথা আমি একটু আগেই বলেছি!
“খাজনা পাতি সবই দিলাম তবু জমিন আমার হয় রে নিলাম”! – গেরুয়া পাঞ্জাবী আর গেরুয়া রঙে ছোপানো ধুতি লুঙ্গির মতো করে পরা এক বাউলকে বেলা নটা নাগাদ রায়না বাসস্ট্যান্ডে দেখি। তেলচুকচুকে আধভিজে লম্বা চুল পিঠের উপর ছড়ানো, সকালেই চান করে নিয়েছেন মালুম হলো। হাতে লাউএর খোলা দিয়ে বানানো একতারায় হালকা থেকে মাঝারি রকমের মোটা সুরে পিড়িং পিড়িং তুলে স্ট্যান্ডের মোড়ে চায়ের দোকানে বসে গাইছিলেন। কান পেতে শুনলাম দরদী মনের আকুলতা উথলানো গানখানি।
হাটের পথে আমার যে মাঝে মাঝেই বাউলদের সাথে মোলাকাত হয়ে যাচ্ছে তা এই ধারাবাহিক লেখার শ্রদ্ধেয় পাঠকেরা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন? ব্যাপারটা কিন্তু কাকতালীয়ই। আজ হাটের পথে চেনা এক মানুষ – অমিতভাইকে পেয়ে গেলাম রায়না বাসস্ট্যান্ড থেকে। সগড়াই মোড় থেকে কারালাঘাট বা জামালপুরগামী বাস পেলে একেবারে রায়না হাটতলায় নেমে যাওয়া যেত। কিন্তু পেলাম দামিন্যার বাস। রায়না বাসস্ট্যান্ড থেকে আমি অমিতভাইএর বাইকের পিছনে বসে হাটতলায় নামলাম। বেশ বড়ো হাট। চরিত্রে আর পাঁচটা হাটের মতোই।কাঁচা আনাজ, মশলাপাতি, সাংসারিক দরকারী প্রায় সব জিনিসই আছে হাটে। এছাড়া তাবিজকবচ লোহালক্করের খুচখাচ জিনিসপত্র জামাকাপড় গামছা লুঙ্গি ফলপাকুড় ইত্যাদি। হাটের দিন স্থায়ী দোকানগুলোর বিক্রিবাটাও বেড়ে যায়। ভাতের হোটেলগুলোতে বেলা দশটা থেকেই পাত পড়তে থাকে। কাছেই হাসপাতালটি থাকায় অনেকেই হাটে এসে দরকারী চিকিৎসাটুকু করিয়ে নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
ঘুরতে ঘুরতে এক চেনা লোকের দেখা পেলাম। ওই সুদামখুড়োর কথাই বলছি। সে লোক তো পাকা ঘরামী। কিন্তু দেখি সে লোক হাটে সামান নিয়ে বসে আছে। সামনে খবরের কাগজ পাতা। তার উপর কিছু মাশরুম সাজানো, আর কিছুটা লাউশাক, পুঁইশাক। চাষকরা যে মাশরুম প্লাস্টিকের প্যাকেটে পাওয়া যায় ইদানীং সেই মাশরুম, প্যাকেট ছাড়া। ছাতা মাথায় দিয়ে বসে আছে সুদামকাকু, মাশরুমে রোদ এসে পড়ায় কিছুটা নেতিয়ে গেছে। বেশিটা বিক্রি হয়ে গিয়ে অল্প মাল পড়ে আছে, বোঝা গেল।
কাকু! তুমি এখানে? একটু অবাক গলায় জিগ্যেস করি।
“অ-! তুই?” বলে উল্টে আমাকেই জিগ্যেস করে, “তা তুই হাটে কী করছিস?”
আমি উত্তর না দিয়ে বলি, ছাতু তুমি তৈরি করো? গ্রামের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে, বা ওখানকার বাজারে না গিয়ে এতদূর এসেছ কেন, কাকু? আজ তো সেহারাতেও হাট বসে!
রায়নায় গাঁ ভেতরে আমার শালীর বাড়ি। একটু দরকার ছিল, তাই ভাবলুম জিনিস ক’টা এখানেই হাটে বসে বেচে ফেলব। তা এসেছি অনেকক্ষণ। সবই প্রায় বিক্কিরি হয়ে গেছে। এইক’টা হয়ে গেলেই শালীর বাড়িতে ঢুকব। দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে সেই বিকেলে বাড়ি ফিরব।
তোমার কাজকর্ম কেমন চলছে? জিগ্যেস করতে আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। ভাবি, ভুল কিছু বললাম নাকি!
এক খদ্দের আসেন, লাউশাকটা তুলে নেন। গলা তুলে জিগ্যেস করেন, ছাতু কত করে?
আসলে হাটের হট্টগোল তো আছেই। এত মানুষের জমায়েত। তার উপর মাইকে অবধারিতভাবে দাদ হাজা চুলকানি, অবনী ঘোষের বিদ্যুৎবামের বিজ্ঞাপন। পাশেই সড়ক। এইসময় একটা বাস হর্ণ দিতে দিতে বেরিয়ে যায়। টোটোর যাওয়া আসার পথে সতর্কতা হর্ণ, প্যাঁক প্যাঁক ও মিউজিক্যালসহ নানাবিধ। তাই কথা বলতে গেলে গলা একটু তুলতেই হবে। কিন্তু সুদামকাকু গলা চড়ায় না। শান্ত গলায় দাম বলে। ক্রেতাটি নেন না। আমি কাকুর কাছ থেকে মাসরুমগুলো কিনে নিলাম। তারপর পুরোনো প্রশ্নটা ঘুরিয়ে আবার করি।
কাকু উত্তরে বলে, আর সেদিন নাই রে! ঘরামীর দিন শেষ হয়েছে। গাঁয়ে ঘরে নতুন করে মাটির বাড়ি আর কটা হচ্ছে, বল দিকিনি? তবে একটু আধটু যা কাজ হয় তার জন্যে আমাকেই এখনও লোকে ডাকে বইকি!
তেমার বাড়ির কী খবর, কাকু? তোমার ছেলে কী করছে এখন?
খুব উৎসাহিত গলায় কাকু এবার বলে, সে তো পড়াশুনা শেষ করে ইস্কুল মাস্টারি করছে। বিয়েও করেছে।
বাহ্ বাহ্! খুব ভালো খবর তো! তারা তোমাদের সঙ্গেই থাকে তো?
এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু চুপ করে থাকে সুদামখুড়ো। বলে, না রে! ছেলে বিয়ের মাস ছয়েক পরেই চলে গেছে ওর ইস্কুলের কাছাকাছি থাকবে বলে। অথচ কত সাধ করে বাড়িটা করেছিলাম -! এখন ঘর আর ঘর রইল না রে! বলতে বলতে কাকার মুখ শুকিয়ে যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোদে পড়ে থাকা অবশিষ্ট পুঁইডগাগুলোর মতই।
মনে পড়ে, এলাকার সেরা ঘরামীর বাড়িটা সেরাই হয়ে উঠেছিল। মনের মতো করে প্রায় সারা বছর ধরে বাড়িটা বহুত পরিশ্রম করে তুলেছিল সুদামকাকা। বারান্দাওলা চার কামরার দোতলা বাড়ির মাঝখান দিয়ে সিঁড়ি উঠে গেছে, ঘরের ভেতর বাইরে পাটমাটির উলুটি করা দেওয়াল। দেওয়ালে জায়গা মতো মাটি দিয়ে ফুললতাপাতা বানানো। অ্যাসবেস্টসের ছাউনি। মাটিরই প্রাচীর দিয়ে ঘেরা উঠোনে নানা ধরনের গাছপালা। বাড়ি তোলার সময় কাকা বলেছিল, ছেলের বৌ এসে যেন বাড়ি নিয়ে খুঁতখুঁত না করতে পারে। ছেলেবৌ নাতিনাতনি নিয়ে ভরা সংসারের স্বপ্নই তো দেখেছিল কাকা!
“ছেলে বৌমা বাড়ি আসে?”
আসে বছরে একবার দুবার। একটা নাতনি হয়েছে। তার জন্য নাকি খুব ব্যস্ত থাকে ওরা, তাই ঘনঘন আসতে পারে না। বেশি কষ্ট পায় তোর কাকীমা। সারাদিন একা থাকে তো! যখন ওরা আসে সে ভালো থাকে। বাড়িটা ভরে থাকে, মনে হয় বাড়িটা করা সার্থক হয়েছে। অন্য সময় বাড়িটা আমার শ্মশানের মতো ধূ ধূ করে রে! ঘরামীর ঘরই শূন্য।
শুনতে শুনতে নিজেকে কেমন যেন অপরাধী লাগে আমার। ছেলের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য আসে কিনা এখন আমার সন্দেহ জাগলেও এ প্রশ্ন করতে বাধল। খুব সম্ভব তেমন একটা সাহায্য আসে না বলেই বাড়িতে মাশরুম চাষ করে, শাকপাতা নিয়ে হাটে বসতে হয়। হয়তো নিজে নিজে অর্থ উপার্জনে ততটা খারাপ কিছু নেই, তবু বয়সোচিত কারণে ক্লান্ত বাবা-মা আর্থিক দিক থেকে নিশ্চিন্তে থাকতে চাইবে এটা স্বাভাবিক।
এ এই সভ্যতার অভিশাপ। ভালো, না মন্দ – বিচার যার কাছে যেমন। কারো দাবিকেই কি অস্বীকার করা যায়? ছেলে যদি নিজের সুবিধার্থে স্কুলের কাছাকাছি থাকতে চায়, তাকে কে বাধা দেবে? কাকার পক্ষে বিষয়টা যতই বেদনাদায়ক হোক।
বাড়ি থেকে ছেলের স্কুল নাকি খুব দূরে নয়, সেখানে দু’কামরার দেশলাইবাক্স মার্কা বন্দীত্ব, এখানে অঢেল জায়গা আর খোলামেলা বাঁচন – এসব যুক্তি ছেলের কাছে গ্রাহ্য হয়নি স্বাভাবিকভাবেই। বরং বয়স্ক বাবা মা’র শেষ বয়সের আকাঙ্ক্ষাটুকু সন্তানের পক্ষে মেটাতে না পারাটা অভিযোগের সামনে নতমস্তকে দাঁড়িয়ে রইল – এ ভাবনা মাস্টারের মাথায় এলো না।
ভারতীয় জীবনধারা এরকমই! পশ্চিমের অনেক দেশেই সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলেই অন্যত্র থাকতে চলে যায়। অনেক সময় আবার লায়েক হবার আগেও বাড়ি ছেড়ে স্বাবলম্বী হতে লড়াইএ নেমে পড়ে। সেখানে বাবা মা’র এই হা-হুতাশ সম্ভবত নেই। তা হয়তো খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘটে। তবু দেশেবিদেশে মানুষ আজকাল বড়ো একা। একান্নবর্তীতা ভেঙে মানুষ একা একা শীর্ণ নদী, আরও শীর্ণ, আর জলশূন্যতার দিকে চলে যাচ্ছে। যত ভাঙন আসছে, যত অসহায়তা বাড়ছে ততই সেসবের থেকে বাঁচতে ধারণারও জন্ম হচ্ছে। এদেশে আমরা স্থিতিশীলতা স্বেচ্ছায় ত্যগ করে, একান্নবর্তিতা ত্যাগ করে পশ্চিমের কুলকুচি করা জীবনধারা গ্রহণ করে তথাকথিত আধুনিক হচ্ছি। অনেকেই হয়তো এই কথাগুলো মানতে পারবেন না, তাঁদের প্রতি অনুরোধ এড়িয়ে যাবেন লেখাটির এই অংশট।
তো সেদেশে শুনি নতুন নতুন আইডিয়া তৈরি হচ্ছে, যেমন সময় ব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে ইউরোপ বা আমেরিকার কোথাও। এদেশেও হয়তো হবে পরে পরে। কিন্তু মরণকালে আপনজনের হাতে শেষ বারিবিন্দুটুকুই মানুষ চায়। নয়তো ঘরের কোনো অর্থ নেই, পরিবারের অর্থই বা কী?
এই মুহূর্তে কাকাকে আমার কিছুই বলার নেই। তাই তাকে অবিক্রীত আধশুকনো পুঁইশাকগুলোর সামনে প্রতীকের মতো বসিয়ে রেখে আমি হাটের অন্য দিকে সরে আসি।
বাস স্ট্যান্ডে বাউলের গানের লাইনটা মনে পড়ল। সুদামকাকার হাহুতাশের সঙ্গে বেশ মানানসই হয়ে গেল দেখছি!