।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় জয়তী দাস

নীলকন্ঠ পাখি

এসেছো যদিও, তবু এতটা অচেনা তুমি!
এমন করে কোনোদিনও তোমার দিকে তাকাইনি –
বিবর্ণ, বিষন্ন হাওয়ায় কার যেন কালো চুল ওড়ে,
তন্নতন্ন করে খোঁজা সারা; হতবাক সংখ্যা জ্যামিতিক –
গ্রহ নক্ষত্রের কোনো শত্রু নেই, তবুও অদৃশ্যে কার নির্দেশ!
প্রচ্ছন্ন বিষাদে থমকে আছে তোমার প্রতিলিপি..
কাশ তো শুধু শারদের সুর নয়, স্নায়ুকোষে প্রাণের হিল্লোল,
অপরিবর্তিত থেকেও পোশাকে সাজে তোমারই বিম্বিত চোখ..
চৈত্রের দহন যেন একা পোড়ে ঘৃততন্ডুলে- বহুদূর শূন্য জেগে জেগে..
এত কাছে এসেও ছুঁতে পারছি না মুখোমুখি…
তুমি আসার আগে কোন অলকানন্দায় স্নান সেরে এলে?
ঢাকের শব্দ আসে পুরানো পাড়া থেকে, শিউলির মন শিশিরে মাখামাখি,
তোমাকে স্পর্শ করছি, তোমাতে স্নান করছি..
তোমার ছবিতে নেই তুমি, ভেতর ঘরে খুঁজেই চলেছি।

মায়ানগরী

অন্ধকার টানেলের ভেতরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে গাড়িটি,
ওপারেও কি আর একটি টানেল আছে! যার শেষ হতেই আরেকটি রুদ্ধশ্বাস বাড়ি ফেরার..
সাঁকোটা দুলছে, ওর ভয়ার্ত গলায় মানুষের কব্জি, শেকলের ভাঙা কন্ঠস্বর –
ঠ্যাঙগুলো জড়সড় করে জিরাফেরা নদীর জলে দেখতে পাচ্ছে রেড ওয়াইনের কাঁপা স্রোত,
কিন্নরীদলের ঠোঁটে বেহমির উগ্র সৌন্দর্যে কৈলাস যাচ্ছে গলে..
গলনাঙ্কের তোয়াক্কা না করে দূরের লাইটহাউসগুলো প্রভুত্ব চাইলো জোনাকির কাছে!
“হেইইইই রুবাই মিঁয়া ট্রলার থেকে যদি রূপালি মাছ বাজারে যায়, অন্ধকারে তোকেই চুবিয়ে নেবো..
গ্যালিলিও চিৎকার করে বলে উঠলো ঠিক ঠিক…
অন্ধকার সবসময় অকাট্য যুক্তি কেড়ে দাঁড় করায় দুষ্টের কাঠগড়ায় –
ম্যামথের ক্ষুদ্র চোখ সৃষ্টিতে কতটা জীবন্ত?
জগৎ সত্য…..যেদিন হলুদ পৃষ্ঠা আরো উজ্জ্বল হলো!
চাপা পড়া হিমাঙ্কের দাগে প্রমাণিত- কেন্দ্র বরাবর ক্রুশ বিঁধিয়ে
রেখেছিলো-
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।