T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

প্রতিবাদ

ফুলেরা প্রতিবাদ করে। যদিও নীরব তবু…
আরও কয়েকটা ঘণ্টা ও সময়ের পথ বেয়ে তারা
নিতে চায় আলো হাওয়া জগতের সুখ
নিষ্ঠুর মানুষ স্বার্থপূরণের জন্য তাকে ছিঁড়ে নেয়,
আর কলঙ্কিত করে — হোক তা পুজোর ডালি,
মালা ও পসরায়,বাহারি চুলে বা কানে ফুল কাঁদে,
কেঁদে যায়…
কেউ শোনে না
পুণ্য,পয়সা,পুলক বা লোভ তাকে অমানবিক করে।

শিশুর শৈশব কেড়ে যারা সুখ পায় — তারা মানুষ
নামেই পরিচিত,যারা অকারণে আঘাত করে তাদেরও
মানুষই তো বলে,যারা মানুষের রক্ত আর মাংসের গন্ধে পাগল
তাদের মাঝে মাঝে অ- উপসর্গ লাগিয়ে দিলেও
‘ মানুষ ‘ শব্দটি ল্যাজের ভূষণ হয়ে ঝুলে আছে দেখি !

হায়নার মতো বা কমোডো ড্রাগনের মতো যারা শুধু
খাদ্য আর প্রজনন ছাড়া কিছুই জানে না — তোমরা তো
তাদের চেয়ে নীচ, শুধু খাদ্য আর প্রজনন নয়
আত্মরক্ষার যত কূটকৌশল তোমরা দখলে রেখেছো,
যাকে বলে কবচকুণ্ডল, কর্ণের মতো তা সহজাত নয়,
কূটনীতিজাত অজেয় সম্পদ
হে হায়নার দল,হে কমোডো ড্রাগন তোমরা খেয়ে যাচ্ছো
জীবন যৌবন ধন… সবকিছু আর নিশ্চিন্তে ভাবছো এভাবেই —
এভাবেই তোমাদের দুর্গটি সুরক্ষিত থাকবে,
শত অন্যায়েও তোমাদের কিস্‌সুটি হবে না
ভুলে গ্যাছো মানুষের প্রতিবাদ ভেঙে দিতে পারে
পৃথিবীর সব দুর্গের সুরক্ষা,পলকেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে
অপরাধের সাজানো প্রাচীর
তখন তোমদের দখলের সুরক্ষা তুচ্ছাতিতুচ্ছ হয়ে যাবে।
শুভবুদ্ধি প্রলয় ঘটাতে পারে,জেনে রেখো শুভবুদ্ধি
সংগঠিত হলে প্রলয় ঘটবেই।
মানুষ জেগেছে,হাতে হাত রেখে করেছে দৃঢ় অঙ্গীকার
সমাজের সেইসব ছদ্মবেশী হায়নাদের সমাজবিচ্ছিন্ন
করবেই,তাদের কঠোরতম শাস্তি দেবেই,
আইনের শাসনের মানদণ্ডেই হবে অমার্জনীয় পাপের
উপযুক্ত শাস্তি।
সম্মিলিত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আর তাৎক্ষণিক নয়,
তা নিরবচ্ছিন্ন এবং জীবনের অবশ্য কর্তব্য বলেই
হয়ে উঠেছে অপরিহার্য।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।