এক মাসের গপ্পে জাহ্নবী ব্যানার্জী (পর্ব – ৪)

নীলাঞ্জনা

(৪র্থ পর্ব)

ফোনটা কেঁপে উঠলো। পুরনো কথার ঘোর থেকে বেড়িয়ে এসে কিংশুক হাতের প্রায় ফুরিয়ে আসা সিগারেটটা ফেলে দিয়ে ফোনটা হাত বাড়িয়ে নিলো। নীল হোয়াটসঅ্যাপে কিছু একটা লিংক পাঠিয়েছে। ঝড় বৃষ্টির জন্য নেট খুব স্লো। পরে ডাউনলোড করে শুনে নেবে। নীলের এটা একটা স্বভাব। মাঝেমাঝেই গান পাঠায়। তখন সেই গানটা শুনে বুঝে নিতে হয় নীলের মনে তখন কি চলছে। একটু অদ্ভুত কিন্তু কিংশুকের ভালো লাগে। ঝগড়া ওদের মাঝে হয়না খুব একটা। যে কবার হয়েছে, সে কবার ঝগড়া শেষ হওয়ার পরের মুহূর্ত থেকে গান পাঠাতে থাকে নীল। বলতে দ্বিধা নেই সেই গানগুলো শুনতে গিয়ে কিংশুকও বেশিক্ষন রাগ ধরে রাখতে পারেনি। নীলের সাথে ঝগড়া করা যায়না। নীলের মত মানুষের সাথে কারুর মনমালিন্য কি করে যে হতে পারে, কে জানে! নীলাঞ্জনা দি অনেক বেশী কড়া ছিল, শাসনে, আবদার পূরণে ওর জুড়ি মেলা কঠিন ছিল। কিন্তু এখন যে নীল’কে ও চেনে, সে অনেকখানি আগের নীলের ছায়ার মত। আকৃতিতে একই কিন্তু আগের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো আর সেভাবে বোঝা যায়না। যদিও এখন বেশ পরিবর্তন এসেছে ওর মধ্যে।
কটা বাজে? বাবা রে! প্রায় বারোটা! যদিও স্টেশন কিংশুকের বাড়ি থেকে খুব দূরে নয়। কিন্তু তবু এবার বেরোতে হবে। বৃষ্টি ধরে এসেছে খানিক। কি কি নিতে হবে সব আরেকবার ভালো করে দেখে নিয়ে কিংশুক বেরোল। কারেন্ট নেই। রাস্তাঘাট আন্ধকার। আকাশেরও মুখ ভার। যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আগামি কদিন চলে কে জানে! স্টেশনে পৌঁছে নীলকে একটা ফোন করে দিতে হবে। নাহলে চিন্তা করবে। কিংশুককে এখন প্রতিপদে সমস্ত কিছু নীলকে জানাতে হয়। যে কোন কার্যকলাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দিতে হয় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তাতে কিংশুকের লাভই হয়েছে। যে কিংশুক একের পর এক বন্ধুদের গ্রুপ থেকে হারিয়ে গেছে তার এই কথা দিয়ে কথা না রাখতে পারার প্রবণতার জন্য, সেই কিংশুককে এখন একটা ছোটখাটো টালবাহানাও করার আগে দশ বার ভাবতে হয় নীলের কথা। ডঃ সেন বলেছেন তেমনটাই করতে।
নীলাঞ্জনা ভালবেসে বিয়ে করেছিলো অরিন্দমকে। অন্ততঃ কিংশুকরা সবাই তেমনটাই জানতো। অরিন্দমকে ব্যাক্তিগতভাবে চেনার আগে থেকেই ওরা চিনতো নীলাঞ্জনা’র মারফত। এটা বললে ভুল হবে যে নীলাঞ্জনাকে অরিন্দমের প্রেমে মশগুল ছিল কোনকালেই। তবু ওরা ভালো ছিল নিজেদের মত করে। কিন্তু বছর দুয়েক আগে শীতকালের এক গভীর রাতে নীলাঞ্জনার একটা ফোন অনেক কিছু পাল্টে দিয়েছিলো নীলের জগতে। তখন নীলাঞ্জনা দি’র ডিভোর্স কেস চলছে। কিন্তু নীলাঞ্জনা দি কে দেখে মনে হত না খুব বড় কোন ফারাক পড়েছে তাতে। নীলাঞ্জনা দি যেহেতু নিজে থেকে খুব একটা এই প্রসঙ্গে কথা তোলেনি, কিংশুকও জানতে চায়নি। একটু দুঃখ হত। যে নীলাঞ্জনা দি ওর ক্রাইম পার্টনার ছিল, সে এত বড় একটা ঘটনা ওকে জানাল না কেন! কফিহাউসে সেদিন হঠাৎ জানাল যে ডিভোর্স ফাইল করেছে! যাই হোক… কিংশুক খুব বেশীদিন পুষে রাখেনি এই দুঃখ। ও নীলাঞ্জনা দি’র এই দিকটা চিনতো। নীলাঞ্জনা দি যখন কোন সমস্যায় থাকে, সেই সমস্যার কথা কাউকে বলেনা। যখন সব কিছু মিটে যায়, তখন পাকা বক্তার মত নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। কিন্তু সেটা তো অন্যদের সাথে। কিংশুকের সাথেও আর পাঁচজনের মত ব্যবহারটা একটু কোথায় খোঁচা মেরেছিল যেন ওকে!
তারপরেই একদিন সেই ফোন কল। কিংশুককে বলেছিল “আমি সাইকিয়াট্রিস্ট-এর থেকে ডেট নিয়েছি। যাবি আমার সাথে?” কিংশুকের পরের দিন তেমন কোন কাজ না থাকায় বলেছিল “হ্যাঁ… যাবো…” নীলাঞ্জনা দির গলার স্বরে উচ্ছ্বাসটা ছিলোনা। কিংশুক খুব উদগ্রীব হয়ে পড়ত এরকম হলে। ও সেদিন আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করেই ফেলেছিল ওকে “হঠাৎ তোমাদের কি হল এমন যে একেবারে কোর্টে গিয়ে উঠলে?” নীলাঞ্জনা দি উত্তর দিয়েছিলো “পোষালো না। ছেড়ে দিলাম।” উত্তরে স্পষ্ট ছিল আসল কারন ভলতে না চাওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু কিংশুকের সেদিন জেদ চেপে গিয়েছিলো। ও জানবেই। বেশ খানিক জোরাজুরির পর নীলাঞ্জনা দি যা বলেছিল তার সারমর্ম করলে যা দাঁড়ায় তা হল অরিন্দম লম্পট ও একই সাথে বিকৃতকাম। অরিন্দম খোলাখুলি তৃতীয় ব্যাক্তির উপস্থিতিতে যৌনতা পছন্দ করতো। শুরুতে নীলাঞ্জনা দি বুঝতে পারেনি। প্রায়শই ওদের বাড়িতে অরিন্দমের অফিস কলিগরা পার্টি করতে এলে, অরিন্দম অনেকবারই রান্নাঘরে বা পাশের ঘরে মুহূর্তের সুযোগে নীলাঞ্জনা দি’কে জড়িয়ে ধরেছে পিছন থেকে, তীব্র আশ্লেষে গলায় ঘাড়ে নাক মুখ ডুবিয়ে দিয়েছে। নীলাঞ্জনা দির এসব পছন্দ না হলেও ভেবেছে, মুহূর্তের উন্মাদনায় হয়তো এমন হয়। কখনসখনো সেও প্রশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু নীলাঞ্জনা দি বুঝতো না এই মানুষটাই কিকরে তাদের দুজনের একা থাকার সময়ে এমন থান্দা পাথর হয়ে যায়। প্রথম প্রথম ভাবত, হয়তো কাজের চাপ। কিন্তু নিজেকে দেওয়া এই স্তোকবাক্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। একদিন অফিস থেকে ফিরে কিছু ডকুমেন্টস মেইল করে পাঠাবে বলে ল্যাপটপ নিয়ে বসে নীলাঞ্জনা দি দেখেছিল সেটি দেহ রেখেছে। অগত্যা ডেস্কটপই ভরসা। ও শেষ কবে ডেস্কটপে বসেছে ওর মনে ছিল না। কিন্তু সমস্ত অফিসিয়াল ডকুমেন্ট তো ল্যাপটপের কোথায় কোন ফোল্ডারে ও রেখেছে, সেটা মুখস্থ। ডেস্কটপে সেটা খুঁজতে হবে। সেদিন অফিসে মেইলটা ডেস্কটপ থেকে পাঠিয়ে ডেক্সটপ বন্ধ করতে গিয়ে দেখল “অরিন্দম ওয়েডস নীলাঞ্জনা” নামের ফোল্ডারটা। খুব ইচ্ছে করলো, একবার পুরনো স্মৃতি ঘেঁটে দেখার। ও পরপর ছবিগুলো দেখছিল। বিদ্যি, গায়েহলুদ, জল সইতে যাওয়া, শুভ দৃষ্টি, মালাবদল, সিন্দুরদান, বাসিবিয়ে, পরের দিনের যাত্রা, বধূবরণ, শ্বশুরবাড়িতে আশীর্বাদ, ভাত কাপড়, বৌভাত, রিসেপশন, ফুলশয্যার খাট… নীলাঞ্জনা হারিয়ে যাচ্ছিলো। উফফ… কি পেলব একটা অনুভূতি… সবার চোখের মনি হয়ে থাকার একটা দিন, সবচেয়ে সুন্দর দেখানোর একটা দিন। নীলাঞ্জনা যতই সাজগোজ কম করুক না কেন… শাড়ি পরলে যে বেশ কয়েকজন ধরাশায়ী হয়, তা ও ভালই জানতো। বিয়ের দিন চোখে মুখে সেই আত্মবিশ্বাসটাই ফুটে উঠেছিলো। আর রুপের ধার বেড়ে গিয়েছিলো কয়েকগুন। কিন্তু…… ওটা কি? হাইড করে রাখা ফোল্ডার! বিয়ের আগে অরিন্দম ওর আর নীলাঞ্জনার ঘুরে ফিরে বেরানোর ছবি এরকম হাইড করে রাখত। সাবধানে মার নেই! বাড়ির লোক দেখে ফেললে কি হয় না হয়…তাই আর কি…কিন্তু এখনও হাইড করা কেন!
হয়তো এমনই হয়… যারা খুব সৎ হয়… তাদের নিজে থেকে খুব কষ্ট করতে হয়না সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে। ঘটনাপ্রবাহই টেনে এনে দাঁড় করায়। নীলাঞ্জনার ক্ষেত্রেও তাই হল।
দ্য হিডেন ফোল্ডার আনফোল্ডেড অ্যা ডার্ক চ্যাপ্টার।
দম বন্ধ করে নীলাঞ্জনা দেখেছিল, ওর ফুলশয্যার অন্তরঙ্গ সমস্ত মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি করা। ওই তো… ফুলশয্যার তত্ত্বে পাঠানো সোনালি জরির কাজ করা মেরুন রঙের শাড়ি, যেটা পরে ওকে মারকাটারি লাগছিলো, সেটা খাটের পাশে পরে আছে। পাশেই খোলা অন্তর্বাস। এক এক করে দেখলো ওর খোলা পিঠ, কোমর, বুকের ছবি। নিপুন দক্ষতায় ফ্রেমবন্দী করা! কেঁপে উঠেছিলো নীলাঞ্জনা। কে তুলেছিল এসব ছবি? মানে কি করে? মনের সন্দেহ নিমেষে মহীরুহ হয়ে উঠেছিলো। প্রতিটা নার্ভ ঠাণ্ডা করে ও পুরো কম্পিউটার ঘেঁটে বের করেছিলো, ওর হানিমুনে হোটেলে বাথরুমে স্নানের ছবি, পোশাক বদলানোর ছবি। অরিন্দমের সাথে অন্তরঙ্গতম মুহূর্তের ছবি। এক মুহূর্ওতে ওর মনে হয়েছিলো অরিন্দম হয়তো সাংঘাতিক কোন ফাঁদে পড়েছে। কে জানে হয়তো ব্ল্যাকমেল্ড হচ্ছে। হয়তো ও চায়না নীলাঞ্জনা জানুক, ও হয়তো একাই সামলাচ্ছে বিষয়টা!
কিন্তু ওর ভুল ভেঙ্গেছিল সেদিনই।
বুঝেছিল এই ফাঁদে ও একাই পড়েছে।
নিথর হয়ে গিয়েছিলো যখন ও খুঁজে পেল সেই ছবিটা। খুব মনে আছে ওর এই দিনটা। সেদিন ঘরে অরিন্দমেরই চারজন অফিসকলিগ কাম বন্ধু। নীলাঞ্জনারও বন্ধুস্থানিয় ওরা। সেদিন নীলাঞ্জনার অফিস থেকে ফিরতে একটু দেরী হয়েছিলো। মান্থ এন্ড চলছিল। ততক্ষনে সবাই এসে গিয়েছিলো। নীলাঞ্জনা অফিসে পরে গিয়েছিলো হাল্কা হলুদ শাড়ি আর লাল ব্লাউজ। সেদিন ওর সাথে কিংশুকের দেখা হওয়ার কথা ছিল বলে কিংশুকও বুঝেছিল কোনদিনের কথা বলছে ওকে নীলাঞ্জনা দি। ও সেদিন বলেছিল নীলাঞ্জনা দিকে যে ও ফাঁকা আছে, কাজ নেই তেমন অফিসের পর, আসবে নাকি। নীলাঞ্জনা দি বলেছিল যে আজ ওর বাড়িতে অরিন্দমের বন্ধুরা আসবে, ওর অসুবিধা না থাকলে ও চলে আসতে পারে। কিন্তু কিংশুকের আবার নতুন মানুষের সাথে চেনা পরিচিতি করতে একটু সময় লাগে। তাই কাটিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু সেদিন ফোনে শুনে মনে হয়েছিলো…… যাক গে… তবে সেদিন নীলাঞ্জনা দিকে দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগছিলো। যদিও কিংশুকের চোখে ওর নীলাঞ্জনা দি সব সময়ে সুন্দর কিন্তু ওই যে এক এক দিন বেশিই সুন্দর দেখাত। কোনোদিন শাঁখা সিন্দুর না পরা নীলাঞ্জনা দি সেদিন কপালে সিন্দুর ছুঁয়েছিল আর হাতে লাল সাদা শাঁখা… এক ধাপে ওর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছিলো কয়েকগুন। মাঝে মাঝে কিংশুকের মনে হত, এই মানুষটা পাশে থাকলে এমনিই কলার উঁচু করে ঘোরা যায় শুধুমাত্র এমন একটা মানুষের সান্যিধ্যে থাকতে পারার জন্য। এক কথায় হয়তো একে মুগ্ধতা বলে!
সেদিন অফিস থেকে বাড়ি ঢুকে নীলাঞ্জনা সবাইকে হাই হেলো করে পাশের ঘরে গিয়ে শাড়ি ছেড়ে ঘরের পোশাক পরে আপ্যায়নের কাজে যাওয়ার তোড়জোড় করছিলো যখন, পিছন থেকে অরিন্দম কোন সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিল। অরিন্দম অন্তরঙ্গ সময়ে উগ্র বরাবর ই। নিজের দিকে ফিরিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে এক টানে নীলাঞ্জনার বুকের উপর থেকে আঁচল সরিয়ে নিয়েছিলো। নীলাঞ্জনা কোনমতে অরিন্দমকে একটু সামলে বলেছিল “আরে দরজা খোলা…”
অধৈর্য অরিন্দম ওর ব্লাউজের হুক তীব্র গতিতে খোলার সময়ে উত্তর দিয়েছিলো “ওদের ঘরের দরজা আটকে এসেছি।” নীলাঞ্জনা আর সুযোগ পায়নি কিছু বলার। বলতে চায়ও নি। একটু একটু করে সীমা ভাঙতে ভাঙতে ওরা পৌঁছে গিয়েছিলো শেষ পর্যায়ে। তারপর এক সময়ে খেলা থামে এবং অরিন্দম ফিরে যায় বন্ধুদের মাঝে। নীলাঞ্জনার একটু অবাক লেগেছিল। অরিন্দম এরকম যখন তখন এসে আদর করলেও আজ একটু বেশীক্ষন ই… ওর বন্ধুরা কেউ ডাক দিলো না তো…ইশশশ…ওরা কি বুঝে গেছে! লজ্জা লাগছিলো…কিন্তু ওদের স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখে নীলাঞ্জনার মাথা থেকে বেরিয়েও গিয়েছিলো। কিন্তু অরিন্দমের ফোল্ডারে সেদিনের ওর নিজের সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থার ছবি দেখে ও সবটুকু মিলিয়ে নিতে পেরেছিল খুব সহজে। একই সাথে হাড় হিম হয়ে গিয়েছিলো ছবিতে অরিন্দমের চাউনি দেখে। ও সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে… অর্থাৎ…
নাঃ… ঝাপসা হয়ে আসেনি চোখ। নীলাঞ্জনার এই এক স্বভাব। সব আঘাত বুকে লাগে না। কিছু আঘাত লাগে বুকের অনেক গভীরে বাস করে থাকা আত্মসম্মানে। অআর ঠিক এসব সময়ে ওর মাথার শিরায় উপশিরায় রক্তের ছলাৎ ছলাৎ টের পায়। এই পৃথিবীতেই বাস করা আরেকটা মানুষ ওকে শুধুমাত্র ঠকিয়ে, ওর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ওকে বিক্রি করে দেবে? এক্সপ্লয়েটেশন ও কোনোদিন সহ্য করেনি। না নিজের। না অন্যের। এক্সপ্লয়েটেশনের গন্ধ পেলেই ওর ঘাড়ের প্রতিটা রগ দুর্দমনীয় কাঠিন্যে দপদপ করতে থাকে।
ভিতরে ঝড় উঠলেও ও সময় নিয়েছিলো আরও দুদিন। এই দুদিনে অরিন্দমের সাথে একদম স্বাভাবিক ব্যাবহার বজায় রেখেছিলো। অরিন্দম ঘুমিয়ে পড়লে বা অরিন্দমের অনুস্পস্থিতিতে যত রকম প্রমান জোগাড় করা যায়, সব রকম প্রমান জোগাড় করেছিলো। সেই সময়ে ও দেখেছিল অরিন্দমের ফোনে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অনেকের কাছে অরিন্দম ওকে বিক্রি করেছে। ওর গোপন থেকে গোপন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে অরিন্দম পাকা বিক্রেতার মত বিকিয়ে দিয়েছে। সেখানে উত্তর এসেছে আরও অনেকের নীলাঞ্জনার প্রতি অবদমিত কামনা বাসনার চরিতার্থ করার বিশদ বিবরন। এই চ্যাট ঘাঁটতে ঘাঁটতে নীলাঞ্জনা জানতে পেরেছিল আগাম জন্মদিনের দিন যে গেট টুগেদারের পরিকল্পনা ছিল, সেই রাতে নাকি অরিন্দম এমন ব্যাবস্থা করবে যাতে নীলাঞ্জনাকে আশ মিটিয়ে ওর কলিগরা ভোগ করতে পারে।
কিংশুকের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছিলো। কিংশুক বুঝেছিল এই সেই দিন যেদিন ও নীলাঞ্জনা দি’র ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিলো সারপ্রাইজ দেবে বলে! কিন্তু কিংশুক বুঝতে পারেনা সবটা জেনেও নীলাঞ্জনা দি কেন সেদিন ছিল ওখানে, কি কারণে ও সেদিনই বলেনি কিংশুক কে! আর কেনই বা নীলাঞ্জনা দি সেদিনই প্রথম সাইকিয়াট্রিস্ট-এর কথা তুলেছিল!
উফফফফফফফফ…… ট্রেনের আওয়াজে ঘোর ভাঙলো কিংশুকের। অত্যাধিক বৃষ্টির জন্য ট্রেন লেট আজ। নীল’কে একটা ফোন করে দিতে হবে। কিংশুক আজ পৌঁছবেই যেভাবে হোক, এটা জানিয়ে দিতে হবে। ফোনটা বের করে দেখে নীল পাঁচটা মেসেজ পাঠিয়েছে।
“কিরে তুই বেরলি?”
“তোকে ফোনে পাচ্ছিনা কেন?”
“তখন যে গানটা পাঠিয়েছিলাম, শুনেছিলি?”
“আমি শুলাম… কাল ৪টে কিন্তু… মনে থাকে যেন”
আর শেষ মেসেজটা আরেকটা গান। উফফফ… এই এক নেটওয়ার্ক। ঠিকঠাক পাওয়াই যাচ্ছে না। কখন কোন ফাঁকে বোধহয় নেটওয়ার্ক এসেছিলো তাই মেসেজগুলো ঢুকেছে। ফোনও করা যাবে না এখন। সাত পাঁচ ভেবে কিংশুক মেসেজ করে নীল’কে। নেটওয়ার্ক এলে নীল মেসেজটা দেখে শান্তি পাবে।
কিংশুক টাইপ করে,
“নিশ্চিন্তে ঘুমা তুই। আমি আসছি।”
ওঃ হো… আরও একটা মেসেজ তো পাঠানোর আছে। হিরন্ময় জেঠু’কে অর্থাৎ নীলের বাবা’কে।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।