গল্পবাজে জয়িতা ভট্টাচার্য

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঈদ

“এসো এই ঝরনার সামনে__
নতজানু হয়ে
আমাদের দু হাত এক করা
অঞ্জলিতে
তোমার পানি আমার জল
জীবনের জন্য”…(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)
চৈত্র-বৈশাখ পবিত্র রমজান মাস,বাসন্তী পুজো আর “গুড ফ্রাইডে” র তিথি পালনের মাস।
১৩র দশকে এই বাংলায় মুসলিম রাজত্বের সূচনা(সূত্র ডঃ আব্দুল কালাম আজাদ)।কেউ কেউ বলেন ১২০৪ খৃষ্টাব্দে এই মুসলিম রাজত্বকাল সূচনা হয়। কিন্তু সেটি কেবল সামন্ততান্ত্রিক ইতিহাস। প্রকৃতপক্ষে সপ্তম শতকে অবিভক্ত ভারতের চট্টগ্রামে আরব থেকে বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী ব্যবসা বাণিজ্য করতে আসেন ও বসতি পর্যন্ত স্থাপিত হয়।অতয়েব সেই সময় থেকেই এখানে ঈদ উৎসব পালিত হতো এটা ধরেই নেওয়া যায়।
☪️
আরবি শব্দ ঈদ অর্থে উৎসব,মতান্তরে পুনরগমন বা ফিরে আসা।
রমজানের উপবাসের পর ফিরে আসার এই উৎসব হয়ত অনেকটাই বিজ্ঞান সম্মত।পৃথিবীর খাদ্য সামগ্রী সংরক্ষণ তথা প্রকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
মহাগ্রন্থ আল কোরানুল কারিমে বা হাদিসে হজরত মহম্মদ( আল্লাহ্ সুবহানহু তাহলা) বর্ণনা করেন রমজান মাস। মানুষের ধর্ম পালনের স্পষ্ট দিক নির্দেশ করা হয়েছে এখানে। সত্য ও অসত্যের পার্থক্য নিরূপনকারী হিসেবে কোরান সৃষ্টি হয়েছে।
অতএব যারা এই মাস পাবে তারা যেন সংযম পালন করে(সুরা-২ বাকারা,আয়াত ১৮৫)।
রমজান মাসে রোজা পালনের কয়েকটি অবশ্য পালনীয় কাজ হলো
সায়ম বা রোজা
যাকাত বা সাদকাহ বা দান করা
তারাবিহ বা প্রার্থনা করা
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান পাঠ
ও সমস্ত খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।
২৯ দিনের এই রোজা চাঁদের অবস্থান নির্ভর যা লিখিত রয়েছে কোরানে।
প্রতিটি ধর্মগ্রন্থ সত সাহিত্য যা আমাদের তৎকালীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পড়ে নিতে হবে ।
এই সব সাহিত্য যাকে মানুষ ধর্মগ্রন্থ বলে থাকেন তা মানুষকে জীবন যাপন সহজ ও যা করা উচিত শুধুমাত্র সে বিষয়ে উপদেশ দিয়ে থাকে ।অনেক ক্ষেত্রে রূপকের ব্যবহার ও দৃষ্টান্ত ও থাকে যা আধুনান্তিক মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিকৃত করে থাকে ।
সকলে পড়ুুন এটা সাহিত্য কোনো দৈব বাণী নয় ।
রাসূল সা: এর বিদায় হজ্বের ভাষণটি
প্রত্যেক মানুষের জন্য জানা জরুরি।
দশম হিজরি। জিলহজ মাস। ২৩ বছর আগে হেরাগুহায় জ্বলে উঠেছিল সত্যের আলো। আজ তা পূর্ণতায় উপনীত। এক কঠিন দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন এ পৃথিবীতে। ২৩ বছর কঠিন পরিশ্রম, সংগ্রাম, অপরিসীম কুরবানি ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল তাঁকে। তা আজ সমাপ্তির পথে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন মানুষের কাছে দূত হিসেবে তা আজ পূর্ণতার পথে। দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি সাধনা করে একটি রাষ্ট্র গঠন করলেন। গঠন করলেন শোষণমুক্ত জুলুমহীন ন্যায়বিচারের সমাজ। গড়ে তুললেন তাওহিদভিত্তিক নব সভ্যতার এক নতুন জাতি মুসলিম উম্মাহ। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সঙ্গীসাথীসহ হজ্বের উদ্দেশ্যে মক্কা নগরীতে গমন করেন এবং হজ্ব সম্পাদন করেন। আজ লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ইব্রাহীম আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে দাঁড়িয়ে কাবার প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে এক মুসলিম উম্মাহ গঠনের জন্য মহান আল্লাহ তা’আলার দরবারে দোয়া করেছিলেন। সেই মুসলিম উম্মাহ আজ আরাফাতের ময়দানে সমবেত। আরাফাতের ময়দানে ৯ জিলহজ্ব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব মানুষের সামনে দাঁড়ালেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আল্লাহ্ তা’আলার প্রশংসা করলেন। এরপর তিনি তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ পেশ করলেন-🙏
তিনি বললেন,
১. হে লোকসকল! আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোন। আমার মনে হচ্ছে এর পরে হজ্বে যোগ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। [মাদনুল উম্মাল-তাবরী]

২. মূর্খ যুগের সমস্ত কুসংস্কার, সমস্ত অন্ধ বিশ্বাস এবং সকল প্রকারের অনাচার আজ আমার পায়ে দলিত মথিত হয়ে গেল। [বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ]

৩. মূর্খ যুগের সমস্ত রক্ত-প্রতিশোধ আজ থেকে রহিত। আমি সর্বপ্রথম ঘোষণা করছি, আমার গোত্রের প্রাপ্য সকল সুদ ও সকল প্রকার রক্তের দাবী আজ থেকে রহিত হয়ে গেল। [বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ]

৪. একজনের অপরাধের জন্য অন্যকে দন্ড দেয়া যাবে না। অতএব, পিতার অপরাধের কারণে সন্তান আর সন্তানের অপরাধের কারণে পিতাকে দায়ী করা চলবে না। [ইবনে মাজাহ, তিরমিযী]

৫. যদি কোনো হাবশী কৃতদাসকেও তোমাদের আমীর নিযুক্ত করা হয়, আর সে যদি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তোমাদের পরিচালনা করতে থাকে তবে তোমরা সর্বোতভাবে তার আদেশ মেনে চলতে থাকবে। তার অবাধ্য হবে না। [মুসলিম]

৬. সাবধান! ধর্ম সম্বন্ধে বাড়াবাড়ি করো না। এই অতিরিক্ততার ফলে তোমাদের পূর্বে বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। [ইবনে মাজাহ]

৭. মনে রেখো, তোমাদের সবাইকেই আল্লাহর সামনে উপস্থিত হতে হবে। তাঁর নিকট সকল কিছুর জবাবদিহি করতে হবে। সাবধান! তোমরা যেন আমার পরে ধর্মভ্রষ্ট হয়ে যেও না। কাফের হয়ে পরস্পরে রক্তপাতে লিপ্ত হয়ো না। [বুখারী]

৮. দেখো, আজকের এই হজ্ব দিবস যেমন মহান, এই মাস যেমন মহিমাপূর্ণ, মক্কার এই হারাম (বাইতুল হারাম) যেমন পবিত্র- প্রত্যেক মুসলমানের ধন সম্পদ, মান-সম্ভ্রম এবং প্রত্যেক মুসলমানের রক্তবিন্দু তেমন তোমাদের কাছে মহান, তেমন পবিত্র। পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর অবমাননা করা যেমন তোমরা হারাম মনে করো, ঠিক তেমনি কোনো মুসলমানের সম্পত্তি, সম্মান ও প্রাণের ক্ষতি করা তোমাদের জন্য হারাম। [বুখারী, মুসলিম, তাবরী]

৯. এক দেশের লোকের অন্য দেশবাসীর ওপর প্রাধান্য পাবার কোনই কারণ নেই। মানুষ সবাই আদম আ. থেকে আর আদম আ. মাটি থেকে। [একদুল ফরিদ]

১০. জেনে রাখো, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। আর সকল মুসলমানকে নিয়ে একটি অবিচ্ছেদ্য ভাতৃসমাজ। [হাকিম মুস্তাদরাক, তাবরী]

১১. হে লোকসকল শোন! আমার পরে কোনো নবী নেই। তোমাদের পর আর কোনো উম্মত নেই। আমি যা বলছি মনোযোগ দিয়ে শোন, এই বছরের পর তোমরা হয়তো আর সাক্ষাৎ পাবে না। এলেম উঠে যাবার আগে আমার কাছ থেকে শিখে নাও। [কানজুল উম্মাল, মুসনাদে আবি উমামা, রিহলাতে মুস্তফা]

১২. চারটি কথা, হ্যা! এই চারটি কথা বিশেষভাবে মনে রেখো- শিরক করো না, অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করো না, পরস্ত্রী অপহরণ করো না, ব্যাভিচার করো না। [মুসনাদে সালমা ইবনে কায়েস, রিহলাতে মুস্তফা]

১৩. হে লোকসকল শোন! গ্রহণ করো, গ্রহণ করে জীবন লাভ করো। সাবধান! কোনো মানুষের উপর অত্যাচার করো না! অত্যাচার করো না!! অত্যাচার করো না!!! সাবধান, কারো অসম্মতিতে তার সামান্য সম্পদও নিও না। [মুসনাদে রক্কাশী, মুসনাদে সালমা ইবনে কায়েস]

১৪. আমি তোমদের কাছে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, তা দৃঢ়তার সাথে ধরে রাখলে তোমরা সামান্যও পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) ও তাঁর রাসূলের আদর্শ (হাদীস)। [বুখারী, মুসলিম]

১৫. শয়তান নিরাশ হয়েছে, সে আর কখনো তোমাদের কাছে পাত্তা পাবে না। কিন্তু সাবধান! অনেক বিষয়কে তোমরা ক্ষুদ্র বলে মনে করো, অথচ শয়তান সে বিষয় দিয়েই তোমাদের সর্বনাশ করে থাকে। ঐ বিষয়গুলো সম্বন্ধে খুব সতর্ক থাকবে। [ইবনে মাজাহ, তিরমিযী]

১৬. নারীদের ব্যাপারে আমি তোমাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, তাদের প্রতি কখনো নির্মম হয়ো না। এক্ষেত্রে আল্লাহর ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা তাদেরকে আল্লাহর জামিনে গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই কালাম দ্বারা তোমাদের দাম্পত্য স্বত্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মনে রেখো, তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের যেমন দাবী ও অধিকার আছে, তোমাদের ওপরও তাদের তেমন দাবী ও অধিকার আছে। তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করবে। মনে রেখো, এই অবলাদের বল তোমরাই, এদের একমাত্র সহায় তোমরাই। [বুখারী, মুসলিম, তাবরী]

১৭. দাস দাসীদের নির্যাতন করো না। তাদের প্রতি নির্মম হয়ো না। শোন, ইসলামের আদেশ তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তাই খাওয়াতে হবে, তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরাতে হবে। কোনো প্রকার তারতম্য চলবে না। [তাবকাত]

১৮. যে ব্যক্তি নিজের বংশের পরিবর্তে নিজেকে অন্য বংশের বলে পরিচয় দেয়, তার উপর আল্লাহ পাকের, ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ। [মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ]

১৯. যারা উপস্থিত আছো, তারা অনুপস্থিতদেরকে আমার এই সকল পয়গাম পৌছে দেবে।….”
জৈন ধর্মেও একমাস একেবারে নির্জলা উপবাসের ব্রত আছে।আবার
আছে ঈদের সমান্তরাল রামনবমীর নয় দিনের সংযমের প্রথা।
প্রকৃতির ভারসাম্য সৃষ্টি র প্রতি এই অনুরাগ সব ধর্মে কারন সারা বছর আমরা বৃক্ষ ও পশুকে ক্লেশ দিই।তার ফল ফুল পাতা,মাস ,দুধ ভক্ষণ করি।এই সংযম সেই প্রকৃতির ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন।
মানব হিতায় চ…
জাহেরি যুগে মদিনাবাসী এই দুটি দিন কেবল আমোদ প্রমোদে কাটাতো বলে প্রচলিত। আল্লাহ্ রাববুল আলামিন বা হজরত মহম্মদ (আল্লাহ্ র দূত) এই দিনে তাঁর ভক্তদের প্রতি নিয়ামত ও আহসান তথা কৃপা দৃষ্টি দান করেন। খাদ্য পানীয়ের ওপর সংযম বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে পুনরায় মুক্ত জীবন শুকরিয়া করেন।
ঈশ্বরের কৃপা হিন্দু ও খৃষ্টান এবং জৈন ধর্মে বর্তমান নিজস্ব রূপে।
আসলে এই পৃথিবীতে সম্প্রীতি শব্দ টির চেয়ে পুরোনো আমাদের এই একসঙ্গে থাকা।ঐক্যবদ্ধ বসবাসের ইতিহাস।
রাষ্ট্র যতই ভেদবুদ্ধি সৃষ্টি করুক সফল তা হয় না কখনও কারন জলের নাম পানি। আমাদের ধমনীতে লোহিত রক্ত আমাদের পেটে ভাত চাই। এর চেয়ে সত্য আর নেই।পৃথিবীর সব ধর্মই তাই মানবতার কথা বলে,ভালোবাসার কথা বলে।
হজরত মহম্মদের(রসুল) ওয়াসাল্লাম এই দুইটি দিনের নিদান দিলেন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর (সূনান আবু দউদ ১১৩৪)।
এই দুই দিনে রমজানের কৃচ্ছসাধন শেষে আল্লাহ্ র শুকরিয়া, জিকির ও ক্ষমা প্রার্থনা শেষে শালীন উৎসবের সূচনা।
“বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ “নামের বইতে ইবনে জারীর রাদি আল্লাহু আনহুর বর্ণনা মতে দ্বিতীয় হিজরিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা হজরত মহম্মদ প্রথম ঈদ পালন করেন বলে জানা যায়। ☪️
এই একসঙ্গে খাওয়া একে অপরকে আলিঙ্গন থেকে সেই “বেঁধে বেঁধে” থাকার মন্ত্র নিহিত মনে হয় সূর্যাস্তের পর রোজা ভাঙার পরে এই একত্র ভোজনে।

ঘুটিয়ারী শরীফ বা আজমের শরিফে অপামর মানুষ চলেছেন
তাঁরা মানব ধর্মে দিক্ষীত। আমাদের বাজারে পাশাপাশি বাস করেন হাতে হাতে একে অপরের সুখ দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন,একসঙ্গে দুর্গাপুজো,ঈদ বা রক্তদান শিবির।
ভারতের ইতিহাস এই ঐক্যবদ্ধ চেতনার জয়গান গায়।
আমরা দেখেছি আর্যদের অনুপ্রবেশ আলেকজাণ্ডার,মোঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস তাঁরা এদের জয় করতে এসে থেকে গেছেন এই সুজলা সুফলা দেশে।স্বভাবতই এঁরা সপরিবার আসেননি।মূলত পুরুষরাই মূলত এসেছিলেন আজ ভারতের জনসংখ্যায় ছড়িয়ে আছেন তারা বংশ পরম্পরায়।একথা তো বলাই যায় আমাদের কারো রক্তেই নেই তাই কোনো বিশেষ ধর্মের রক্ত। আমারা সকলেই কখনো হিন্দু জাত বা মুসলিম বা খৃষ্টান জাত সন্তান। তাই ভেদ সৃষ্টি র মূলেই রয়েছে গলদ।
লক্ষ কোটি মানুষের এই দেশে কবির,লালন সাঁই, চৈতন্য দেব আমাদের অন্তর্গত চেতনার মধ্যে খেলা করে।তাঁদের জীবন বৃথা যায়নি।
সাময়িক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাইয়ের থেকে ভাইকে দূরে রাখতে পারে না।
“শোনো কোরানের সুরাহ্ র সঙ্গে
উপনিষদের মন্ত্র,
সকালে প্রভাতফেরির সঙ্গে
ভোরের আজান
একাকার মিলিয়ে যাচ্ছে। “(সুভাষ মুখোপাধ্যায়)
মাঝি-মাল্লা,ক্ষেত মজুর,শ্রমিক আর চাকুরিজীবী মানুষের জীবন যাপনের যে ঘাম রক্ত মিশে আছে তার আলাদা কোনো রং নেই।যে চাঁদ কোজাগরী পূর্ণিমার সেই চাঁদ রমজান মাসে সেই চাঁদ শুকনো পোড়া রুটি।মানুষের জীবনে খাদ্য বস্ত্র আর আশ্রয় এর চেয়ে বড় সত্য নেই।
তাই কবি জয়িতা ভট্টাচার্য লেখেন…
“মন্দির মসজিদ নয় নয় জাতপাত।পৃথিবীতে সত্য শুধু একমুঠো ভাত”(কবিতার বই সন্ত্রাস কে ভালোবেসে)।
আমাদের এই ঐক্যের দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর কুঠারাঘাত করতে আগ্রহী কিছু মুষ্টিমেয় ভেকধারী মানুষ আজ সক্রিয়, যাদের পরাজয় নিশ্চিত।
ধর্ম পরিত্যাজ্য নয়।
আজ নিজ নিজ ধর্মকে চেনার দিন,তার নিহিত অর্থ কে উপলব্ধি করার দিন।
প্রতিটি ধর্ম ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলে সাম্যের কথা বলে মানবাধিকারের কথা বলে।
“আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!
আমরাও তবে এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”(শঙ্খ ঘোষ)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।