।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত

যখনই দেবতারা বিপদে পড়েছেন তখনই দুর্গাপূজা করেছেন

শ্রী দুর্গা নাম ভুলো না ভুলো না
শ্রী দুর্গা স্মরণে সমুদ্র মন্থনে বিষপানে বিশ্বনাথ মলো না
যদ্যপি কখনো বিপদ ঘটে শ্রী দুর্গা স্মরণ করিও সঙ্কটে,
তারাই দিয়ে ভার সুরথ রাজার
লক্ষ অসি ঘাতে প্রাণ গেল না
শ্রী দুর্গা নাম ভুলো না, ভুলো না ভুলো না।…
সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই আদ্যাশক্তি দেবী দুর্গা পূজিত হয়ে আসছেন। পুরানে বর্ণিত আছে, দেব-দেবীরাও আদ্যাশক্তির পূজা করেছেন। হিন্দু শাস্ত্রানুসারে ‘দুর্গা’ নামের ব্যাখ্যায় উল্লেখিত হয়েছে—
দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিত।
উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।।
রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ।
ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।।
‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, ‘রেফ’ রোগনাশক, ‘গ’ অক্ষর পাপনাশক ও অ-কার ভয়-শত্রুনাশক। অর্থাৎ, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা। আবার হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে যে দেবী অগম্যা, দুষ্প্রাপা বা যাকে সহজে পাওয়া যায় না এই অর্থে– দুর্গা। দুর্গ নামে এক অসুরকে বধ করে দেবী দুর্গা নামে পরিচিতা হয়েছিলেন।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ-এ কৃষ্ণকে দুর্গাপূজার প্রবর্তক বলা হয়েছে। বিভিন্ন দেবদেবীরা কিভাবে দুর্গাপূজা করেছিলেন, তার একটি তালিকা এই পুরাণে পাওয়া যায়। তবে এই প্রসঙ্গে কোনো পৌরাণিক গল্পের বিস্তারিত বর্ণনা এই পুরাণে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে:
প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা।
বৃন্দাবনে চ সৃষ্ট্যাদ্যৌ গোলকে রাগমণ্ডলে।
মধুকৈটভভীতেন ব্রহ্মণা সা দ্বিতীয়তঃ।
ত্রিপুরপ্রেষিতেনৈব তৃতীয়ে ত্রিপুরারিণা।।
ভ্রষ্টশ্রিয়া মহেন্দ্রেন শাপাদ্দুর্বাসসঃ পুরা। চ
তুর্থে পূজিতা দেবী ভক্ত্যা ভগবতী সতী।।
তদা মুনীন্দ্রৈঃ সিদ্ধেন্দ্রৈর্দেবৈশ্চ মুনিমানবৈঃ।
পূজিতা সর্ববিশ্বেষু বভূব সর্ব্বতঃ সদা।।
সৃষ্টির প্রথম যুগে পরমাত্মা কৃষ্ণ বৈকুণ্ঠের আদি-বৃন্দাবনের মহারাসমণ্ডলে প্রথম দুর্গাপূজা করেন। এরপর মধু ও কৈটভ নামে দুই অসুরের ভয়ে ব্রহ্মা দ্বিতীয় দুর্গাপূজা করেছিলেন। ত্রিপুর নামে এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে শিব বিপদে পড়ে তৃতীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মীকে হারিয়ে ইন্দ্র যে পূজার আয়োজন করেছিলেন, সেটি ছিল চতুর্থ দুর্গাপূজা। ….
শ্রীকৃষ্ণের দুর্গাপূজা:
অর্থাৎ, সৃষ্টির প্রথম যুগে পরমাত্মা কৃষ্ণ বৈকুণ্ঠের আদি-বৃন্দাবনের মহারাসমণ্ডলে প্রথম দুর্গাপূজা করেন, সেই দূর্গা পূজার পর দেবী দূর্গা কাত্যায়নী নামে প্রসিদ্ধ হয় এবং দ্বাপর যুগে কৃষ্ণের অবতারী লীলায় দেবী কাত্যায়নী ব্রজে(বৃন্দাবন) মায়ার প্রবল বেগ ধারণ করে ও কৃষ্ণের বেণুও মাতাল করে তোলে।
আজ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে এই পৃথিবী যখন পাপভারে জর্জরিত হয়ে পড়ে তখন পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টদের সংহার, সাধুদের সংরক্ষণ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য পৃথিবীতে মানবরূপে আবির্ভূত হন। সেইসময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধুরস্য মধুর বাল্যলীলার গোষ্ঠলীলায় রাখাল কৃষ্ণের বংশী ধ্বনী শুনে স্বর্গের দেব-দেবীরা কৃষ্ণ সমীপে আগমন করেন। দেবাদি দেব মহাদেবের সঙ্গে দশভুজা দেবী দুর্গা এসেছিলেন তাকে আরাধনা করার জন্য। বাৎসল্য প্রেমে দেবী দুর্গা শ্রীকৃষ্ণকে ক্ষীর, সর, নবনী দ্বারা তুষ্ট করেছিলেন। বিশ্ব ভোলানো এহেন বালক কৃষ্ণকে সেদিন পুত্ররূপে প্রাপ্তির ইচ্ছা জেগেছিল দেবী মনে। তার সেই অভিলাস পূর্ণ হয়েছিল; তবে দ্বাপর যুগে নয়_ কলিযুগে। যখন শ্রীকৃষ্ণ নবদ্বীপে আজ থেকে ৫২০ বছর আগে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন তখন অদ্বৈত ঘরনী সীতাদেবীকে মহাপ্রভু মা বলে ডাকতেন। এই সীতা দেবী পূর্ব জন্মে ছিলেন দেবী দুর্গা।
বৃন্দাবনের নাম সকলেই শুনেছেন। যমুনাতটে অবস্থিত এই ধাম। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলাভূমি এই বৃন্দাবন ধাম। এই ধামেই নন্দালয়ে পালিত হয়েছিলেন ভগবান। এই ভূমিতেই তিনি যেমন কংসের প্রেরিত অসুরদের বধ করেছিলেন, আবার দিব্যলীলা করেছিলেন তিনি। গোপীদের প্রার্থনা মঞ্জুর করে মহারাস অনুষ্ঠিত করেছিলেন। ভগবান শ্যামের লীলাক্ষেত্র এই বৃন্দাবন। তাই একটি পীঠ এই পবিত্র ধামেও আছে। তিনি উমাদেবী। ভগবতী মা সতীর কেশরাশি এই পবিত্র ধামেই পতিত হয়েছিলো। পীঠনির্ণয়তন্ত্র অনুসার-
বৃন্দাবনে কেশজালমুমা নাম্নী চ দেবতা
ভূতেশো ভৈরব স্তত্র সর্বসিদ্ধি প্রায়ক।
দেবীর নাম উমা। ভৈরবের নাম ভূতেশ। ভিন্ন মতে দেবীর নাম কাত্যায়নী। কবি ভারতচন্দ্র লিখেছেন-
কেশজাল নাম স্থানে পড়ে তাঁর কেশ।
উমা নামে দেবী তাহে ভৈরব ভূতেশ।
এখানে আর একটা কথা বলে রাখি মহাভারতে অজ্ঞাতবাসের সময় যুধিষ্ঠির যখন মনে মনে ত্রিভুবনেশ্বরী দুর্গার স্তুতি করেছিলেন, সেই স্তুতি থেকে জানা যায়, দুর্গার উদ্ভব। দুর্গার জননী মা যশোদা। তিনি যশোদাগর্ভসম্ভূতা। তাঁর পিতা নন্দ।
তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে:
অত্যাচারী রাজা কংস একদিন দৈববাণী শুনতে পান যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তাঁকে বধ করবেন। তখন তিনি দেবকী ও তাঁর স্বামী বসুদেবকে মথুরার কারাগারে বন্দি করে রাখেন। বন্দি অবস্থায় তাঁদের ছয়টি সন্তান হয়, এবং প্রত্যেকটি সন্তানকে কংস হত্যা করেন। সপ্তম সন্তান বলরাম দেবকীর গর্ভ থেকে প্রতিস্থাপিত হলেন রোহিণী দেবীর গর্ভে। রোহিণী বসুদেবের দ্বিতীয় স্ত্রী, তিনি থাকেন গোকুলে। ভাদ্রমাসের পূর্ণিমায় বলরামের আবির্ভাব। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে গভীর রাতে কৃষ্ণের আবির্ভাব। সেই শিশুকে পিতা বসুদেব গোপনে নিয়ে যান গোকুলে, নন্দের ঘরে। ওই রাতে যশোদার গর্ভে জন্মান কন্যাসন্তান যোগমায়া। তিনি আসলে দেবী মহাশক্তি।
পুত্রসন্তানকে মা যশোদার কাছে রেখে কন্যাটিকে নিয়ে মথুরায় ফেরেন বসুদেব। যোগমায়াকে দেবকীর ক্রোড়ে দেখতে পান কংস। ভাবেন, এই সন্তান দেবকীর অষ্টম গর্ভজাত। তখন কংস তাকে শিলাতলে আছাড় মারেন। সদ্যোজাতা আকাশে মিলিয়ে যায়। যোগমায়া নিক্ষিপ্ত অবস্থায় আকাশে উঠে গিয়ে বলেন, তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে। এই যোগমায়াই দেবী দুর্গা – দিব্যমাল্যবিভূষিতা, দিব্যাম্বরধরা ও খড়্গখেটকধারিণী। তাঁর বর্ণ বালার্কসদৃশ, তাঁর আনন পূর্ণচন্দ্রনিভ এবং তিনি চতুর্ভূজা ও চতুর্ব্বক্ত্রা। আবার তিনি কৃষ্ণবর্ণা ও অষ্টভূজারূপেও পূজিতা হন। তাঁর আট হাতে রয়েছে – বর, অভয়, পানপাত্র, পঙ্কজ, ঘন্টা, পাশ, ধনু ও মহাচক্র। তাঁর কুণ্ডল দিব্য, মাথায় উৎকৃষ্ট কেশবন্ধ ও দিব্য মুকুট। বেণী কটিসূত্র পর্যন্ত লম্বিত। দেবী মহিষাসুরমর্দ্দিনী এবং বিন্ধ্যবাসিনী।
ব্রহ্মার দুর্গাপূজা:
শ্রীশ্রীচণ্ডী গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ে সংক্ষেপে মধুকৈটভের উপাখ্যানটি বর্ণিত হয়েছে : প্রলয়কালে পৃথিবী এক বিরাট কারণ-সমুদ্রে পরিণত হলে বিষ্ণু সেই সমুদ্রের উপর অনন্তনাগকে শয্যা করে যোগনিদ্রায় মগ্ন হলেন। এই সময় বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে মধু ও কৈটভ নামে দুই দৈত্য নির্গত হয়ে বিষ্ণু নাভিপদ্মে স্থিত ব্রহ্মাকে বধ করতে উদ্যত হল। ভীত হয়ে ব্রহ্মা বিষ্ণুকে জাগরিত করবার জন্যে তার নয়নাশ্রিতা যোগনিদ্রার স্তব করতে লাগলেন। এই স্তবটি গ্রন্থে উল্লিখিত চারটি প্রধান স্তবমন্ত্রের অন্যতম। এই স্তবে সন্তুষ্টা দেবী বিষ্ণুকে জাগরিত করলে তিনি পাঁচ হাজার বছর ধরে মধু ও কৈটভের সঙ্গে মহাসংগ্রামে রত হলেন। মহামায়া শেষে ঐ দুই অসুরকে বিমোহিত করলে তারা বিষ্ণুকে বলে বসে, “আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা প্রীত; তাই আপনার হাতে মৃত্যু হবে আমাদের শ্লাঘার বিষয়। পৃথিবীর যে স্থান জলপ্লাবিত নয়, সেখানে আপনি আমাদের উভয়কে বিনাশ করতে পারেন।” বিষ্ণু বললেন, “তথাস্তু।” এবং অসুরদ্বয়ের মাথা নিজের জঙ্ঘার উপর রেখে তাদের বধ করলেন।
শিবের দুর্গাপূজা:
সত্যযুগে ত্রিপুর নামক এক অসুর ছিলো। ত্রিপুর আসলে তিন রকমের – তারকাক্ষ, কমলাক্ষ ও বিদ্যুন্মালী। ব্রহ্মার বরে সে হয়ে উঠলো অতীব শক্তিধর ও মায়াবী। অসুরলোকের একচ্ছত্র সম্রাট হয়ে ভীষন আস্ফালন করে বেড়াতে লাগলো। দুর্ধর্ষ এই অসুর স্বর্গ আক্রমণ করে দেবতাদের বিতারিত করে স্বর্গ সম্রাট হয়ে বসলো। হতভাগ্য দেবতাগণ ব্রহ্মলোকে গমন পূর্বক প্রজাপতি ব্রহ্মাকে নিজেদের দুর্দশার কথা জানালেন। ব্রহ্মা বললেন- “ভগবান শিব ভিন্ন সেই অসুরকে বধ করতে আর কেউ সক্ষম নন।” ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও অনান্য দেবতারা কৈলাসে গিয়ে ভগবান শিবের বন্দনা করে বললেন- “প্রভু, সৃষ্টি রক্ষার্থে আপনি সেই দুরাচারী ত্রিপুরাসুরকে বধ করুন।” ভগবান শিব বললেন- “প্রজাপতি, ত্রিপুরাসুরকে বধ করা এত সহজ নয়। আপনি তাহাকে অতুলিত বলশালী হবার বর দিয়েছেন। সেই অতুলিত বলীয়ান ত্রিপুরকে বধ করতে মহাস্ত্র ও অযূত বল প্রয়োজন ।”
ব্রহ্মা বললেন- “হে পিনাকপাণি। স্বয়ং ভগবতী সমস্ত শক্তির উৎসা। তিনি মহাশক্তি। আপনি তাঁহারই তপস্যা করিয়া তাঁহাকে তুষ্টা করিয়া অতুলিত বল ও মহাস্ত্র লাভ করুন।” ভগবান আশুতোষ তখন মহাকাল বনে আসলেন । এখানে শ্মশানে তিনি ভগবতীর তপস্যা করলেন । ভগবতী তাঁর সামনে চণ্ডীরূপে প্রকটিতা হলেন। সেই দেবীর গলে মুণ্ডমালা, ব্যাঘ্রচর্ম পরিহিতা ও হুঙ্কার কারিনী । দেবী বললেন- “প্রভু । আপনার তপস্যা সফল হয়েছে। আমি আপনাকে অযূত বল ও মহাস্ত্র পাশুপাত প্রদান করিতেছি ।” মহাকাল বন পরে উজ্জয়নী নামে পরিচিত হয় । যাই হোক ভগবান শিব অস্ত্রাদি ধারন করে ভীষন ভৈরব মূর্তি ধরে ত্রিপুরাসুরকে যুদ্ধে আহ্বান করলে ত্রিপুরাসুর অসংখ্য অসুর সেনা পরিবৃত হয়ে যুদ্ধে আসলো । ভগবান শিব বললেন- “ওহে অসুর। তুমি মহা মূর্খ । যদি প্রান বাঁচাতে চাও তবে অধর্ম মার্গ পরিত্যাগ করো, অন্যথায় যুদ্ধে আমি তোমাকে সংহার করবো।” ত্রিপুরাসুর আক্রমণ করলে মহাদেব স্বীয় অস্ত্রাদি দ্বারা অসুরদের বিনাশ করতে লাগলেন । বাণ, খড়গ, ত্রিশূল, শূলে অসুরদের বধ করে করে ত্রিপুরাসুরের সৈন্য সংখ্যা হ্রাস করলেন। এরপর পাশুপাত প্রয়োগে ত্রিপুরাসুরের বিনাশ করলেন । দেবতারা হারানো রাজ্য ফিরে পেলো, ধরণী অসুর আতঙ্কমুক্ত হোলো।
ইন্দ্রের দুর্গাপূজা:
একদিন ভ্রমণ করছিলেন দুর্বাসা। সাক্ষাত্‍ হল অপ্সরা বিদ্যাধরীর সঙ্গে। অপ্সরার কণ্ঠে এক অপূর্ব পুষ্পহার দেখে মুগ্ধ হলেন দুর্বাসা। স্বর্গীয় সেই কণ্ঠহার তাঁকে দিয়ে দিলেন অপ্সরা। ওটা গলায় পরেই পদব্রজে এগোচ্ছিলেন ঋষি। এ বার দেখা হল ঐরাবতে আসীন দেবরাজ ইন্দ্রর সঙ্গে। তাঁকে ওই কণ্ঠহার উপহার দিলেন দুর্বাসা। কোথায় রাখবেন বুঝে না পেয়ে সেটা ঐরাবতের মাথায় রাখলেন ইন্দ্র। এদিকে ফুলের গন্ধ মোটেও ভাল লাগল না ঐরাবতের। সে মাথা ঝাঁকিয়ে ফেলে দিল পুষ্পহার। পা দিয়ে পিষ্ট করে দিল সেটা। ব্যস! রগচটা স্বভাবের ঋষি অমনি জ্বলে উঠে উচ্চারণ করলেন অভিশাপ। অদ্ভুত সেই অভিশাপ। তিনি বললেন, কী! আমার দেওয়া মালা মাটিতে ফেলে দিলে, তাই তোমার ত্রিলোক এখন লক্ষ্মীছাড়া হবে। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর নির্বাসন। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মীকে হারালেন ইন্দ্র। স্বর্গ লক্ষ্মীছাড়া হল। দেবতারা শক্তিহীন হয়ে পড়লেন। লক্ষ্মী স্বর্গ ছেড়ে আশ্রয় নিলেন সমুদ্রবক্ষে। ভগবান বিষ্ণু দেবতাদের সমাধান দিলেন যে অসুরদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষিরোদসাগর মন্থন করলে তবেই লক্ষ্মীকে ফেরত পাওয়া যাবে। সঙ্গে উঠবে অমৃত। তা পান করে দেবতারা আবার শক্তি ফিরে পাবেন। বিষ্ণুর পরামর্শে মন্দর পর্বত হলেন মন্থন দন্ড আর বাসুকি নাগ হলেন মন্থনের দড়ি। অসুরদের রাজা বলির কাছে গেলেন দেবরাজ ইন্দ্র। সমুদ্রমন্থনে সাহায্যের বিনিময়ে অসুরেরাও পাবেন অমৃতের ভাগ – এই শর্তে অসুরকুল রাজী হল। কিন্তু হলে হবে কি, অসুরেরা মন্দর পর্বতকে তুলে এনে যেই না সমুদ্রে ফেলল, পুরোটাই গেল ডুবে। শেষে বিষ্ণু কূর্মরূপে মন্দর পর্বতের নিচে গিয়ে প্রবেশ করলেন। বাসুকির মাথার দিক ধরল অসুরেরা আর লেজের দিক দেবতারা। মন্থন শুরু হল। দিনের পর দিন কাটে, কিন্তু না লক্ষ্মী, না অমৃত। হাঁপিয়ে ওঠা বাসুকির বিষে সব সমুদ্র বিষাক্ত হল। সৃষ্টি লোপ পাওয়ার যোগাড়। ইন্দ্র দুর্গাপূজার আয়োজন করলেন। পুরানের ইতিহাসে সেটি ছিল চতুর্থ দুর্গাপূজা। মহাদেবকে অনেক বুঝিয়ে আনা হল। তিনি সব বিষ পান করে কন্ঠে ধারণ করে নিয়ে হলেন নীলকন্ঠ। আর যেটুকু আশপাশ দিয়ে পড়ে গেল, তা গ্রহণ করে নিল সাপ আর বিছে-রা। নতুন উদ্যমে শুরু হল সমুদ্রমন্থন।পরপর কত রকমের জিনিস উঠতে লাগল। প্রথমে উঠল সুরভী ধেনু। নিলেন ঋষি-রা।দুধ-ঘি লাগবে তো, যজ্ঞের জন্য! তারপর উচ্চৈঃশ্রবা ঘোড়া। নিলেন ইন্দ্র। তারপর উঠল অনেক হাতি। তারমধ্যে সাদা ঐরাবত- কে নিলেন ইন্দ্র। বাকিরা চলে গেল স্বর্গে। কৌস্তভ-মণি উঠল, বিষ্ণু তা নিজের গলায় ধারণ করলেন।
তারপর উঠল পারিজাত কল্পতরু। তার স্থান হল ইন্দ্রের বাগান, নন্দনকাননে। এরপর যখন পরপর সুন্দরী অপ্সরারা উঠলেন, তারা স্থান পেলেন স্বর্গে। অসুরেরা কিছুই পেল না। ত্রিভুবন আলো করে অবশেষে উঠলেন লক্ষ্মী। এতক্ষন অসুরেরা তো কিছুই পায় নি। তাই লক্ষীকেই চেয়ে বসল। আবার দেবতাদের আসল উদ্দেশ্য হল লক্ষ্মীলাভ। তারাও ছাড়বেন না।রফা হল সয়ম্বরা হবেন তিনি। শেষে লক্ষ্মী বরুনের দেওয়া বৈজয়ন্তী মালা দিয়ে বরণ করলেন নারায়ণ-কে। আবার মন্থন শুরু হল। বারুনী সুন্দরী উঠতেই অসুরেরা তাঁকে ধরে নিয়ে চলে গেলেন। এরপর ঊঠল এক কৃষ্ণবর্ন সৌম্যকান্তি এক পুরুষ। হাতে অমৃতের কলস।। হুড়োহুড়ি লেগে গেল, কে নেবে সেই কলস।। বিষ্ণু বিপদ দেখে অসুরদের ছলনা করতে মোহিনী-রূপ ধারন করলেন। মোহিনীর সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে অসুরেরা রাজী হল যে মোহিনীর ইচ্ছামত ভাগ হবে অমৃত।দেবতা আর অসুরেরা খুব উৎসাহে দুই সারিতে বসে পড়লেন। মোহিনী প্রথমেই অমৃত দিলেন দেবতাদের। রাহু আর কেতু আগে অমৃত পাওয়ার লোভে ছলনা করে দেববেশে দেবতাদের সারিতে বসেছিলেন। চন্দ্র আর সূর্য তা দেখতে পেয়ে যেই বিষ্ণুকে জানালেন, বিষ্ণু অমৃত গলা দিয়ে নামার আগেই সুদর্শন চক্র দিয়ে তাদের মুন্ডু কেটে ফেললেন। দেবতাদের দিতে দিতে অমৃত শেষ হল। অসুরেরা বঞ্চিত হলেন। বিষ্ণু তাঁর উদ্দেশ্য সফল করে চলে গেলেন বৈকুন্ঠে। অমৃতের জন্য আবার শুরু হল দেবাসুরে লড়াই। কিন্তু অমৃতের বলে দেবতারা তখন অমর। তাঁরা অনায়াসে হারিয়ে দিলেন অসুরদের। অসুরেরা স্বর্গ ছেড়ে পালালেন।
রামায়ণ: শ্রীরামচন্দ্রের অকাল বোধন ও শারদীয়া দুর্গা পূজা:
শ্রীরামচন্দ্র রাবন-বধের জন্য ব্রহ্মা অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে দেবীর কৃপা লাভ করবার উদ্দেশ্যে শরৎকালে দেবীর পূজা করেছিলেন। আমাদের ছয় মাসে দেবতাদের একদিন, এবং ছয় মাসে তাঁদের একরাত। মাঘ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত ছয় মাসকে উত্তরায়ণ, এবং শ্রাবণ থেকে পৌষ পর্যন্ত ছয়-মাসকে দক্ষিণায়ন বলা হয়। উত্তরায়ণের সময় দেবতারা জাগ্রত থাকেন। অপরপক্ষে, দক্ষিণায়নের সময় তাঁরা নিদ্রিত থাকেন। শরৎকাল পড়ে দক্ষিণায়নের মধ্যে। দেবতারা তখন নিদ্রিত। তাই ঐ সময় তাঁদের পূজা করতে হলে প্রথমে তাঁদের জাগাতে হবে। সেইজন্য ব্রহ্মা দেবীর বোধন করলেন। তাঁকে জাগরিত করে তাঁর পূজা করলেন।
বাল্মীকি রামায়ণে এই পূজার কোন উল্লেখ নেই।যেসব পুরাণে এই পূজার উল্লেখ আছে, সেসব পুরাণের মতে দেবীর বোধন বা পূজা রামচন্দ্র নিজে করেননি, করেছিলেন ব্রহ্মা। দেবী ভাগবতে বোধনের কোন উল্লেখ নেই। যাই হোক, দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করতে হয়েছিল বলে এই বোধনকে অকাল বোধন বলা হয়।
দেবীভাগবত ও কালিকাপুরাণে এই পূজার বিশদ বিবরন পাওয়া যায়। লঙ্কার যুদ্ধে অসময়ে কুম্ভকর্ণের নিদ্রাভঙ্গ হলে রামচন্দ্রের অমঙ্গল আশঙ্কায় দেবতারা সকলে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এবং তাঁর মঙ্গল বিধানার্থে শান্তি-স্বস্ত্যয়নাদি করবেন ঠিক করলেন। এ-বিষয়ে পরামর্শের জন্য শেষ পর্যন্ত তাঁরা পদ্মযোনি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন। দেবতাদের থেকে সব শুনে ব্রহ্মা তাঁদের দুর্গতিনাশিনী দুর্গার পূজা করতে পরামর্শ দিলেন। শুধু তাই নয়, রামচন্দ্রের মঙ্গলবিধানার্থ ব্রহ্মা স্বয়ং এই পূজায় ব্রতী হতে সম্মত হলেন। আগেই বলা হয়েছে শরৎকাল পড়ে দক্ষিণায়নের মধ্যে। দেবতারা তখন নিদ্রিত। কাজেই ঐসময় তাঁদের পূজা করতে হলে প্রথমে তাঁদের জাগরিত করতে হবে। তাই দেবীকে জাগরিতা করবার জন্য ব্রহ্মা অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে করজোড়ে দেবীর স্তব করলেন—- “হে দেবী, তুমি গিরিবাসিনী ও বিল্বদলবাসিনী, তুমি দুর্গা, দুর্গতিহরা, শান্তা, শান্তজনপ্রিয়া, পদ্মালয়া, পদ্মনয়না ও সহস্রদলবাসিনী। হে দেবী, তুমি স্বাহা, তুমি স্বধা, তুমি লজ্জা, তুমি বুদ্ধি এবং তুমিই ত্রিবিধপ্রসবিনী; তোমাকে নমস্কার।”(বৃহদ্ধর্মপুরাণ, পূর্বখন্ড)। স্তবে তুষ্টা দেবী কুমারী-মূর্তিতে দেবতাদের সম্মুখে আবির্ভূতা হয়ে বললেন “আপনারা আগামীকাল বিল্ববৃক্ষমূলে দেবীর বোধন করুন। আপনাদের প্রার্থনায় তিনি প্রবুদ্ধা হবেন। তাঁকে প্রবুদ্ধা করে যথারীতি অর্চনা করলে রামচন্দ্রের কার্যসিদ্ধি হবে। সেই অনুসারে দেবগণসহ ব্রহ্মা মর্তে এলেন এবং সেখানে অতি দুর্গম নির্জন একস্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ ঘন পত্ররাশির মধ্যে বিনিদ্রিতা পরমাসুন্দরী এক বালিকা মূর্তিকে দেখতে পেলেন।
এই বালিকা মূর্তিই জগজ্জননী মহাদেবী-–ব্রহ্মার এরূপ অনুভব হওয়ায় নতজানু হয়ে দেবগণসহ তিনি দেবীর বোধন স্তব পাঠ করলেন। ব্রহ্মা যে স্তব পাঠ করলেন, তাতে আছে——–
“জানে দেবীমীদৃশীং ত্বাং মহেশীং
ক্রীড়াস্থানে স্বাগতাং ভূতলেহস্মিন্।
শত্রুস্ত্বং বৈ মিত্ররূপা চ দুর্গে
দুর্গম্যা ত্বং যোগীনামস্তরেহপি।।”
ত্বং বৈ শক্তী রাবণে রাঘবে বা
রুদ্রেন্দ্রাদৌ ময্যপীহাস্তি যা চ।
সা ত্বং শুদ্ধা রামমেকং প্রবর্ত-
তাং ত্বাং দেবীং বোধয়ে নঃ প্রসীদ।
ব্রহ্মার স্তবে দেবী জাগরিত হলেন এবং তাঁর বালিকামূর্তি ছেড়ে চন্ডিকারূপে ব্যক্ত হলেন। তখন ব্রহ্মা বললেন—–
ঐং রাবণস্য বধার্থায় রামসানুগ্রহায় চ।
অকালে তু শিবে বোধস্তব দেব্যা কৃতো ময়া।
মা, আমরা অকালে তোমাকে ডাকছি রাবনবধে রামচন্দ্রকে অনুগ্রহ করবার জন্য। শুধু তাই নয়। রাবনস্য বধং যাদবর্চয়িষ্যামহে বয়ম্ যতদিন পর্যন্ত না রাবণ বধ হয়, ততদিন আমরা তোমার অর্চনা করে যাব। আরও কথা, আমরা যেভাবে বোধন করে তোমার অর্চনায় ব্রতী হয়েছি, যতকাল ধরে এই সৃষ্টি থাকবে, ততকাল যুগ যুগ ধরে মানুষ তোমার অর্চনা করবে। তুমি কৃপা করে তোমার সর্বশক্তি দিয়ে রাবণবধে রামচন্দ্রের সহায়ক হও। স্তবে তুষ্টা দেবী বললেনঃ সপ্তমী তিথিতে আমি রামচন্দ্রের দিব্য ধনুর্বাণে প্রবেশ করব। অষ্টমীতে রাম-রাবণে মহাযুদ্ধ হবে। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে রাবণের দশমুন্ড ছিন্ন হবে, আর সেই ছিন্নমুন্ড পুনর্যোজিত হলে নবমীতে রাবণ নিহত হবে। দশমীতে রামচন্দ্র বিজয়োৎসব করবেন । এই দুর্গোৎসব স্মরণ করেই আমাদেরও শারদীয়া মহাপূজা। এই দ্বন্দ্বময় বিচিত্র জগতের মানুষ অন্তরে ও বাইরে উভয় দিকেই শত্রু দ্বারা পরিবেষ্টিত। ধনী-নির্ধনের সংঘাত, উচ্চ-নীচের ভেদ, সবলের হস্তে দুর্বলের নির্যাতন এসবই মানুষের বাইরের শত্রু। এদের দৌরাত্মে জগতে আজ মানবিক মূল্যবোধ বিপর্যস্ত। তাই যুদ্ধে এদের পরাভূত করতে না পারলে মানুষের জাগতিক অগ্রগতি, অভ্যুদয় অসম্ভব ; অপরপক্ষে, দুর্দমনীয় ভোগ-লালসা, দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্রোধ ইত্যাদি মানুষের অন্তঃশত্রু, তাই বোধনের এই পুণ্যলগ্নে দেবতাদের মতো আমাদেরও সংকল্প গ্রহণ করতে হবে যে হে দেবী, যতদিন পর্যন্ত না আমাদের বাহ্য ও আন্তরশত্রুরূপী রাবণকে আমরা যুদ্ধ পরাভূত করে বধ করতে পারছি, ততদিন আমরা তোমার অর্চনা থেকে বিরত হব না, হে সর্বশক্তিস্বরূপিণী দেবী, তুমি কৃপা করে সর্বশক্তি দিয়ে শত্রু বিনাশে সর্বতোভাবে আমাদের সহায় হও।
মহাভারত: যুধিষ্ঠির, অর্জুন দ্বারা পূজিতা দেবী দুর্গা:
পাশা খেলায় শকুনির কাছে দ্বিতীয়বার পরাজিত হয়ে পাণ্ডবদের বারো বছর বনবাস ও এক বছরের অজ্ঞাতবাস হয়। অজ্ঞাতবাসের সময়টি ছিল বেশ কঠিন। কারণ, এই সময় পাণ্ডবরা দুর্যোধনাদি কৌরবদের কাছে ধরা পড়ে গেলে তাঁদের আবারও লুকিয়ে লুকিয়ে কাটাতে হবে। এমন করে তো অনন্তকাল চলতে পারে না। এই চক্র থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যুধিষ্ঠির দেবী দুর্গার শরণ নিলেন। অজ্ঞাতবাস বড় কঠিন সময়। খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি আছে নানারকমের দুঃখ। সবচেয়ে বড় যেটা, তা হল – এই বুঝি ধরা পড়ে গেলাম, এই আশঙ্কা। দ্রৌপদীসহ পাণ্ডবরা যখন মৎস্যনগরে ঢুকছেন, তখন মনে মনে যুধিষ্ঠির ত্রিভুবনেশ্বরী দুর্গার স্তুতি করেছিলেন।
যুধিষ্ঠিরের স্তবে তুষ্ট দেবী দুর্গা তাঁকে নির্বিঘ্নে অজ্ঞাতবাসের বর দান করে অন্তর্হিতা হলেন।
ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে আসন্ন মহাযুদ্ধের ঠিক আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কৌরবাধিপতি দুর্যোধনের বিপুল সমরসজ্জা দেখে প্রিয় সখা নরোত্তম অর্জুনকে বিজয় ও মঙ্গলের জন্য শুদ্ধচিত্তে দুর্গাদেবীর শরণ গ্রহণে আদেশ দেন।
শুচির্ভূত্বা মহাবাহো সংগ্রামাভিমূখেস্থিতঃ।
পরাজয়ায় শত্রুনাং দুর্গাস্তোত্র মুদীরয়।
বাসুদেবের নির্দেশানুসারে তখন অখিলপ্রিয় তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন রথ থেকে নেমে নতজানু হয়ে করজোড়ে কাতর প্রার্থনা জানিয়ে দুর্গাস্তুতি পাঠ করেছিলেন দেবীকে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত করে
নমস্তে সিদ্ধসেনানি আর্যে
মন্দরবাসিনি ।
কুমারি কালি কাপালি
কপিলে কৃষ্ণ-পিঙ্গলে ॥ ১॥
ভদ্রকালি নমস্তুভ্যম্ মহাকালি
নমোস্তুতে ।
চণ্ডিচণ্ডে নমস্তুভ্যম্ তারিণি
বরবর্ণিনি ॥ ২॥
হে ভদ্রকালী! আপনাকে নমস্কার, মহাকালী! আপনাকে নমস্কার, চণ্ডী, চণ্ডে। তারিণী! বরবর্ণিনী! আপনাকে নমস্কার!
অর্জুনের ভক্তিতে সন্তুষ্টা জগন্মাতা দুর্গা আকাশপটে উদিতা হয়ে ধনঞ্জয়কে সেই মহারণে শত্রুজয়ের বর প্রদান করে তৎক্ষণাৎ অন্তর্হিতা হয়েছিলেন।
স্বল্পেনৈব তু কালেন শত্রুন্ জেষ্যসি পাণ্ডব
হে অর্জুন, অল্পকালের মধ্যেই তুমি শত্রুগণকে জয় করতে পারবে।
অর্জুনের তৈরি দুর্গামন্দির:
কৃষ্ণা নদীর ধারে সাজানো শহর বিজয়ওয়াড়া। শহরকে ঘিরে রেখেছে পূর্বঘাট পর্বতমালা। পাহাড়ের প্রায় মাথার কাছে কনক দুর্গা মন্দির। স্থানীয় মানুষের কাছে কনক দুর্গা বড়ই জাগ্রত। কনক দুর্গার আর এক নাম বিজয়া। সেই থেকেই এই শহরের নাম বিজয়ওয়াড়া। কথিত আছে, এক সময়ে অসুররাজ মহিষাসুরের তাণ্ডবে বিজয়ওয়াড়ার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তখন মহিষাসুরকে বধ করে শহরবাসীকে এই অশুভ শক্তির হাত থেকে রেহাই দেন কনক দুর্গা। আবার এখানেই শিবের উপাসনা করে ‘পাশুপথাস্ত্র’ অর্জন করেন পাণ্ডুপুত্র অর্জুন। পরে অর্জুনই এখানে কনক দুর্গা মন্দিরটি তৈরি করেন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।