আমরা খেয়াল করিনা
একজন মানুষের বয়স নব্বই
বছর পেরিয়ে গেছে
তাঁর শরীরে এখন শুধু হাড়,
মাংস শুকিয়ে গেছে !
চামড়া ঝুলে পড়েছে মানুষটার,
বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে গেছে শরীর।
মানুষটার শক্তসমর্থ শরীর আজ
দেখতে ভীষণ ছোট আকারের
তবে এতো ছোট নয় যতোটা ছোট
একজন নবজাতকের হয়।
আমরা খেয়াল করিনা
আমরা ও এই কুঁজো হওয়া মানুষটার
চেয়ে ও অনেক ছোট ছিলাম এতোটা ছোট
যে আমাদের শরীরের জন্য
এক ফুট জায়গাই যথেষ্ঠ ছিলো।
আমরা খেয়াল করিনা
এই এক ফুট শরীরটা
একদিনে বড় হয়নি খুব যত্ন করে
ভালবাসা দিয়ে বড় করে তুলেছেন
এই কুঁজো হয়ে যাওয়া মানুষটা।
আমরা ভুলে যাই সেই মমতা মাখা মুখের কথা,
যে মুখ না দেখলে আমরা কান্নায় ভেঙে পড়তাম !
আমরা খেয়াল করিনা
একলা ঘরের এককোণে বসেবসে
এই কুঁজো হওয়া মানুষটা এখনো
তার কলিজার টুকরা সন্তানদের জন্য দু’হাত
তুলে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করে।
আমরা খেয়াল করিনা
খাবার দিতে একটু দেরি হলে
কান্না করে মাটিতে লুটোপুটি খেতাম
সেই মানুষটা খাবার নিয়ে এসে আদর করে বলতো
আমার সোনা বাবা একটু দেরি হয়ে গেছে
নাও খাও বাবা বলে মুখে খাবার তোলে দিতো ।
আমরা খেয়াল করিনা
যে মানুষটা এতো আদর করে খাওয়াত
আজ এই বৃদ্ধা মানুষটা খেয়েছে কি না ?
আমরা অনেক কিছুই খেয়াল করিনা
তবুও আমাদের মা নামের এই জান্নাত আমাদের
অভিশাপ দেয় না, অভিমান করে
কথা বলা বন্ধ করে না।
বিশ্বাস না হলে একবার মা মা বলে চিৎকার করে ডাকো দেখবে কাঁপা কাঁপা দু’হাত তোমার মাথায় বুলিয়ে বলবে সোনা বাপ আমার ভালো আছো তো তুমি।