|| নারীতে শুরু নারীতে শেষ || বিশেষ সংখ্যায় ঐন্দ্রিলা মজুমদার

অনাম্নী অঙ্গনা

অনেক স্বপ্নের ভস্ম ঢেলে তুমি আজ স্রোতস্বিনী।
আকাশের অলিগলি ছুঁয়ে তুমি নেমে যাও
অজানা নির্জনে।
আতিপাতি খোঁজো ভালোবাসার টুকরোগুলো।
নৈঋত মেঘের সীমান্ত আকীর্ণ বারিধারা
ধুয়ে দেয় তোমার উদ্বেলিত অশান্ত হৃদয়ের
এ যাবৎ স্মৃতিকণা।
‘প্রয়োজন ক্ষণিকের’, এ কথা জেনেও
কেন খোলা চুলে মাখো অভিমানের ঘ্রাণ?
বিলুপ্তপ্রায়, বিলম্বিত সুর আঁকড়ে কেন
অস্থির দীর্ঘশ্বাস?
কেন ভিক্ষাপাত্র শূন্য জেনেও নিয়ত
এ-ই আত্মধ্বংস?
কে তুমি অনাম্নী অঙ্গনা?
হলুদ পালকের বুকে লুকিয়ে রাখা জমাট কান্নার
আগল আটকে সুখ খোঁজো?

“বিশ্ব নারী দিবস” এই কথাটি বড্ড ক্লিশে
শোনায় যখন দেখি একজন নারী আর এক নারীর উন্নতি, তার সাফল্যে আনন্দিত না হয়ে ঈর্ষায় জর্জরিত হয়। মন খুলে কোনো একটি মেয়ের ভালো কাজের যোগ্য সম্মান টুকু দিতে পর্যন্ত কেউ কেউ অপারগ। বড়রাই যখন শ্বশুর বাড়িতে অত্যাচারিত, অবহেলিত মেয়েটির পাশে না দাঁড়িয়ে তাকে আর একটু সহ্য, আর একটু মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাই বিশ্ব নারী দিবসে আমার প্রার্থনা আমরা মেয়েরাই যদি একে অপরের প্রতি একটু মানবিক, একটু সহানুভূতি সম্পন্ন হতে পারি। আমার একটু প্রশংসা (অবশ্য ই কোনো যোগ্য ব্যক্তির) যদি কোনো নারীর চলার পথটুকু আর একটু সুগম করতে পারে, আর একটু সে অনুপ্রেরণা পায়, তবে ক্ষতি কি? না ই বা হল সে আমার পরিচিত। তবেই আমার মনে হয় নারী দিবসের প্রকৃত অর্থে উদযাপন।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।