সম্পাদকীয়

‘আরো আলো আরো আলো
এই নয়নে, প্রভু, ঢালো।’
সে ছিল এক আলোর সময় । বাঁক নিচ্ছে ইতিহাস আলোর স্রোত ধরে । আলোর পথ ধরে ঠাকুর বাড়ীর মেয়েরাও নামলেন মহাযজ্ঞে । তাদের ঘরের উঠোনেই ছিল আলোর বন্যা ।
এলেন কাদম্বিনী গাঙ্গুলী । ব্রাহ্ম ঘরে জন্মে আলোর পরশ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল অচিরে আর তারপর পেয়েছিলেন দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীর মত বন্ধুপ্রতিম স্বামী । আর যে মেয়েগুলোকে টিনেজ না আসতে আসতেই নির্জলা উপবাস আর সমস্ত আকাঙ্ক্ষা বিসর্জনের মন্ত্র জপতে হত আর তা না পারলে সমাজ তাদের ছিন্নভিন্ন করত তাদের নিয়ে ভেবেছিলেন বিদ্যাসাগর । তাই আজ সাঁওতাল মেয়েটি কল্পনা চাওলা হবার স্বপ্ন দেখে তিস্তা শেতলাবাদ লড়ে যান রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, মণিপুর জুড়ে নগ্ন মিছিলে হাঁটেন কত দুর্গারা । ‘কন্যাশ্লোক’ লিখে ফেলতে পারেন মল্লিকা সেনগুপ্ত ।
আজ যখন আই. টি তে মেয়েরা চকচকে কেরিয়ার গড়ে, গবেষনা করতে পাড়ি জমায় বিদেশে , বিমান চালায়, উবের চালায়, ঘরের কাজ সারতে সারতে একটা ছোট্ট ক্লাউড কিচেন খুলে রোজগার করে , বছর বছর ক্লাস ভর্তি ছাত্রছাত্রী ঠ্যাঙায়, চিকিৎসা করে, নাচে , গানে , অভিনয়ে মঞ্চ মাতায় তখন বিদ্যাসাগরে রাগী, জেদি , ছবি ফ্রেমে বন্দী মুখটায় আলো খেলে যায় সবার অলক্ষ্যে । ভাগ্যিস তিনি আলো নিয়ে এসেছিলেন ।
আজ সেই আলোর ঈশ্বরের জন্মদিন ।
শুভেচ্ছা নিরন্তর ।
ইন্দ্রাণী ঘোষ