সম্পাদকীয়

যিনি কৃষ্ণ, তিনিই বিষ্ণু, তিনি স্থিতি, তিনিই প্রেমের আধার । দক্ষিণ ভারত দহি হান্ডী, মীরার ভজন, বৃন্দাবনের রাস লীলা, এসবের থেকে অনেক দুরে থাকলেও, প্রেমের যে প্রকাশ সম্প্রতি দেখে এলাম তাই জন্য মনটা টলটলে জলপূর্ণ ঘটের মত হয়ে গেল।
দক্ষিণ ভারতে কার্ণাটিক সঙ্গীতের সাথে হিন্দুস্তানি রাগ সঙ্গীতের মিল খোঁজার পালা চলছিল এক বন্ধুর বাড়ীতে এক সন্ধ্যেবেলা । কালীসাবি ভগিনীদ্বয়ের সাথে সেই সন্ধ্যেতে আলাপ রাগ, রাগীনীর মায়াজালে । আমাদের দক্ষিণী বন্ধু এদের কার্ণাটিক ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিশেষ ভক্ত, তাই দূরদর্শনের এই অনুষ্ঠান রেকর্ড করে রেখেছিলেন । এই দুই বোন ‘নাদেস্বারাম’ নামক সানাইয়ের মত দেখতে একটি যন্ত্র বাজান । দুই বোন অভূতপুর্ব দক্ষতায় এই যন্ত্র বাজান । রাগ, রাগীনী মালা গাঁথা হয় প্রেমের সুরে সুরে । এই সঙ্গীত পরিবেশিত হয় শ্রী বিষ্ণুর মন্দিরে । কালীসাবি ভগিনীদ্বয় মুসলমান সম্প্রদায়ের । মুকুটে ময়ুরপুচ্ছ, হাতে বাঁশি, ঠোঁটে ভুবন ভোলানো হাসি নিয়ে যে ভগবান আপামর ভারতবাসির হৃদয়ে বসে রইলেন তাঁর পায়ে নিবেদিত হয় নাদেস্বারাম এর সুর । জন্মাষ্টমীর দিনে সেই সুর তো সুরালোকে পৌঁছবেই আর তখনি মীরার ভজন আর কালীসাবি ভগিনীদ্বয়ের নাদেস্বারাম মিলে যাবে । এই না হলে ভারতবর্ষ ।
ইন্দ্রাণী ঘোষ