সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ১)

জরি কথা

আমার ইস্কুল যাওয়ার পথেই একটা গাছ পড়ে। নাম না জানা গাছ। ছোট্ট ছোট্ট প্রদীপ শিখার মত পাতাগুলো মনে হয় যেন সবুজ ঠুনকো কাঁচের তৈরি তারই এ ফোঁড় ও ফোঁড় দিয়ে বেড়িয়ে আসে সোনা জড়ি রঙের রোদ্দুর। আমার জানলার পাশের গাছটাও আমার রঙিন গল্পের ভাণ্ডার। জরি বর্ডার দেয়া মখমলি গল্প। পাতাগুলোর নীচে ছায়া মাখানো আর উপরি ভাগে রোদ্দুর সোজাসুজি বোনা। আলো আঁধারের রহস্যমাখা জীবনের গান। পেয়ারা গাছের পাশে কারি পাতা গাছের ছোট্ট পাতাতেও একই রূপকথা । একটা ছোট্ট নারকোল গাছও মাথা চাড়া দিচ্ছে কারি পাতা গাছের পাশটিতে। সরু সরু বর্শার ফলার মত পাতা। সেই পাতায় ছোট্ট মেয়ের মত স্লিপে চড়ে পিছলে নেমে আসছে রোদ্দুর।

রোদ্দুর নিভে আসে । লাল জল রঙে গা ধুয়ে সোনালি জরি পোশাক ছাড়ে পাতারা। নিওনের জলসা আমার জানলার পাশে নেই, আমিও “রোদ্দুরের মোছা মোছা ” রঙটি নিয়ে ভরে তুলি আমার সমুদ্র নীল রঙা মখমলি থলিতে। আলো জ্বালি না। চুপিসাড়ে রুপোলী জরি চুপকথা শুরু হয়। আলো নিভিয়ে রাখি যতক্ষণ পারি।

সোনা, রুপোর ছোট্ট ছোট্ট ঊর্মিমালা ওঠে ,পড়ে গাছের নীচের চুপকথার নীল সাগরে। সেই ঢেউ এসে ছলাৎ করে ভিজিয়ে দেয় আমার মখমলি পুটলিতে রাখা ভাঙ্গা সমুদ্রনীল কাঁচের চুড়িতে। ভাঙ্গা রেশমি চুড়িতে রঙ ধরে যায় অজান্তে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।