সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৩৭)

আরশি কথা

ঝোরা, মেই লিং আর মঞ্জরী হাটতে হাটতে সেই ঝর্ণার দিকে যায় আবার. ঝর্ণার পাশ দিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠে গেছে সোজাসুজি, সেই সিড়ির রাস্তা দিয়ে উঠে শ্যাওলা ধরা পঁাচিলের বাংলোটাকে খোঁজে ঝোরার চোখ. না: কোথাও বাংলো নেই. বাড়ীর জায়গাটাতে শুধু আগাছার জংগলে ভরে আছে. নাম না জানা ফুলের গন্ধে জায়গাটা ভরে উঠেছে. ঝোরা শ্বাস নেয়, লম্বা শ্বাস, আ: কি আরাম. মেই লিং সবুজের সমারোহের ছবি তুলতে থাকে. মঞ্জরী একটু দুরে স্লিপিং বুদ্ধার দিকে তাকিয়ে থাকেন.
‘ঝোরা ম্যাডাম এদিকে আসুন, ড: বোসকেও ডাকুন,’ মেই লিং ডাকেন দুই সঙ্গিনীকে. ডাক শুনে ঝোরা এগিয়ে যায়, মঞ্জরী বসুও আসেন পায়ে পায়ে. ‘এই দেখুন কি পেয়েছি’, ওমা তাই তো এক বিশাল পরীর মূর্তি শুয়ে আছে আগাছা ঢাকা জঙ্গলে. তাঁর পায়ের নীচে পড়ে রয়েছে দুটি ভাঙা ফলক , দুটিতেই লেখা ‘উইস্পারিং উইন্ডস’ কি অদ্ভুত, ঝোরা আয়নার ভিতরে তো এই নামের বাড়ী দেখেছে, একা বেড়াতে বেড়িয়েও দেখেছে মনে হচ্ছে. এই শায়িত পরীকেও দেখেছিল সোজা দাঁড়িয়ে আছে পিঠে শুকিয়ে যাওয়া ফোয়ারা নিয়ে. আয়নার ভিতরে জগত এমন এলোমেলো ভাবে সামনে আসে বাস্তবে, যখন সকলের সঙ্গে থাকে ঝোরা.
‘এককালে এসব জায়গায় সিনকোনা প্ল্যান্টেশন হত, ব্রিটিশরা অনেকেই এই প্রত্যন্ত পাহাড়ে বিশাল, বিশাল বাংলো বানিয়ে থাকত, তাদেরই কোন বাংলোর ধবংসাবশেষ হবে. এই সিনকোনা দিয়ে মানুষের সভ্যতার প্রচূর প্রতিষেধক তৈরী হয়েছে’ মঞ্জরী বলেন. ‘আচ্ছা ড: বসু বলুন তো এই সভ্যতার জয়যাত্রা মানুষের, এই অহংকার, এই মায়া তথাগতর দেশে কেমন বেমানান লাগে তাই না?, তিনি সর্বত্যাগী, তাঁর দেশে মানুষের এই আস্ফালন কেমন যেন মানায় না, আপনার মনে হয় না?’.
ভুবনমোহিনী হাসি হাসেন ড: বসু ‘আপনি কিছুটা ঠিক বলেছেন ঝোরা, তবে মানুষ কিন্তু সৃষ্টি সুখের উল্লাস চায়. কিছু গড়তে চায়, তাতে কিছু ক্ষতি হয়তো হয়ে যায়, ভাঙাগড়ার খেলার কথা কোন অদৃশ্য কবি লিখে রাখে কে বলতে পারে.’
‘হুম তা ঠিক, বোধি লাভ তো আর সকলের হয় না,’ ঝোরা বলে. মেই লিং কৌতুহলী চোখে তাকিয়ে থাকেন ঝোরা ও মঞ্জরীর দিকে, মাঝে মধ্যে ক্যামেরা তাক করেন কোন অচেনা ফুলের দিকে বা গাছে বসে জটলা করা স্কারলেট মিনিভেটের ঝাঁকের দিকে. কথায়, কথায় সন্ধ্যে নামে. তিন সমবয়েসী মহিলা গেষ্ট হাউসে ফেরার পথ ধরেন.
সেদিন রাতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে.

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।