সম্পাদকীয়

শহরের চওড়া পথের ধারে ঋতুরাজ হাজির রঙের ঝাঁপি নিয়ে । আর তার সাথে খুশবু ফ্রী । হলদে আমের মুকুলেরা ধুলো, ধোঁয়াকে দুয়ো দিয়ে আকাশকে বলছে ‘এই ধরে ফেললাম তোমাকে’।
মাধবীলতা , বগনভিলিয়া, রঙ্গন, জবা, কানাকানি করে, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না এই সম্পর্কের রসায়ন, এত রঙ,এত আলো দিয়ে বোনা নকশীকাঁথার নক্সাদের সুচারু প্রস্ফুটন। শুধু টুপটাপ নেমে আসে ওদের পাপড়িতে নিখাদ ভালো লাগার ফোঁটাগুলি। দুটো টুনটুনির এত বোঝার সময় নেই তারা হলুদ ফুলে মুখ ডুবিয়ে মধু খোঁজে। শিউলি গাছের আড়াল থেকে ডেকে গেল একটা চোখ গেল পাখী। দুটো ঘুঘু লাল চুনির মত চোখ মেলে দেখে এই নকশিকাঁথার রকমফের। চিল তীব্র শীষে উঁচু থেকে মনে করায় একদম শীর্ষে সবাই একা। এক ঝাঁক টিয়া রোদ্দুরের দিকে পাড়ি জমায় ডানার উপর বিশ্বাস রেখে। একঝাক পায়রা উড়তে থাকে পশ্চিম আকাশে গোল্লাছুটের চক্কর কেটে। নীল বুকের পায়রা দম্পতীর ছাদের আলসেতে আলাপচারিতা শেষ হলে তারা ডানা মেলে ঝাঁকের উদ্দেশ্যে। তারপরই দেখে তাদের ময়ূরকণ্ঠী গলার রঙ কেমন মিলে গেছে আকাশের সাথে নিজেদের অজান্তেই।।
ইন্দ্রাণী ঘোষ।।