|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় ইন্দ্রাণী ঘোষ

দনুজ দলনী
আমাদের পাড়ার খেলার মাঠটি বিশেষ আকর্ষণীয় না হলেও,মন্দ নয় । চারিদিকে কৃষ্ণচূড়া , রাধাচূড়া, ছাতিম, আম ,ফাগুন বউ গাছের ছাড়া ছাড়া পাঁচিল । মাঠের পাশে একটা পায়ে চলা পথ পেরিয়ে ছোট্ট পুকুর,পুকুরের পাশে পার্ক। যাই হোক আমার নন্দিনী সেই মাঠে কিছুদিন কারাটে কসরত করছিল । জনা কয়েক ছাত্রছাত্রী আর মাস্টারমশাই মিলিয়ে বেশ একটা মেলা মেলা ব্যপার । একদিন মাঠের বেঞ্চিতে বসেছিলাম, এমন সময় গোটা দশেক নেড়ি কুকুর মাঝ মাঠে এসে ভয়ঙ্কর চেঁচামেচি ,মারামারি শুরু করল। মাস্টারমশাই তাঁর নানচাকুটি সুদর্শন চক্রের মত ঘোরাতে ঘোরাতে মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন , তাতে তাঁরা কিছুক্ষণের জন্য রনে ভঙ্গ দিলেও আবার মারামারি শুরু করল । এদিকে ক্লাসও হতে পারছে না। ঠিক তখনি কোথা থেকে এক পুঁচকে মেয়ে এসে হাজির। তাঁর আদুল গা,পরনে শুধুমাত্র একখানি জাঙ্গিয়া ,সেই মেয়ে সটান ঢুকে গেল কুকুরকুলের চক্রব্যূহের মাঝখানে তারপর একের পর এক কুকুরগুলোর কান মুলে দিতে লাগল, কখন তাদের গলা টিপে দিল ,গলা টিপতে কুকুরগুলোর কি অদ্ভুত আওয়াজ বেরতে লাগল, আর তার সঙ্গে ওই পুচকির ধমক ‘এই চুপ চুপ’ সব আওয়াজ স্তব্ধ করে দিল। এই ‘দনুজ দলনী’ রূপ দেখে আমরা নির্বাক । কি সাহস ওই পুচকির একেবারে সটান ঢুকে গেছে ওই কুকুর বৃত্তের মাঝখানে ।,আর কি তাঁর সিংহনাদ বাপ রে বাপ। ফ্ল্যাটবাড়ির বাচ্চাগুলো মাস্টারমশাই আর তাঁর সিনিয়র ছাত্রের পেছনে লুকিয়েছে ।আমরাও ভয়ে মরি, আর ওই দুর্গতিনাশিনীর দিকে নির্নিমেষে তাকিয়ে থাকি। পাশের বস্তিতেই থাকে বোধহয় এই ছোট্ট ‘মা দুর্গা’ ,কি নাম তাঁর কি জানি। তবে আমি তাঁর নাম দিয়েছি ‘তেজস্বিণী ‘। মনে হয় সে কৈলাস থেকে শিউলির পথ বেয়ে নেমে এসেছে। এই বিশ্বসংসারের দায়িত্ব একা হাতে সামলান বলে কথা ।
এস মা ,এসে এখানে সমস্ত কুকুর আর নেকড়েদের কান মুলে শিক্ষা দাও তো মা তুমি পারবে মা , আমরা যে পথ চেয়ে আছি ।
মা দুর্গার ঘামতেল মাখা মুখে, তাঁর মুখ নিশ্চয়ই দেখতে পাব আমরা.