সম্পাদকীয়

মহাকালের রথের চাকার ঘর্ঘর শব্দ শুনতে পাই আজকাল । আরেকটা পয়লা বৈশাখের ভোর আসতে চলেছে । পূর্ব বঙ্গে একটা রেওয়াজ আছে, পান্তা ইলিশ খাওয়া সাথে সবজির ভর্তা । ছায়ানটের অনুষ্ঠান রমনা বটমুলে শেষ হবার পরেই শোভা যাত্রা শুরু হয় যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে থাকেন । এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
সঙ্গে সঙ্গে চলে চলে খাওয়া, দাওয়া পর্ব ।
এখানে প্রচুর পরিবার একটা করে বড় বসার চৌকি, পান্তা, ইলিশ ভাজা, ভর্তা এবং হারমনিয়াম নিয়ে হাজির হন । যে কেউ, যে কারুর চৌকিতে বসে পান্তা ইলিশ খেতে পারেন ধর্ম, জাতি ভেদ না মেনে ।মূল্য কেউ ইচ্ছে করলে দিতে পারেন যা খুশি, না দিলেও কিছু কেউ বলেন না । রমনার মাঠে আমাদের কলকাতার তিনটে ময়দান ঢুকে যেতে পারে বলে শুনেছি । সকলে মিলে গান গাইছে, জমিয়ে খাওয়া দাওয়া চলছে এ হেন আয়োজনকে ইউনেস্কো ‘হেরিটেজ ‘ তকমা না দিয়ে যায় কোথায়?
এ হেন মহা মিলনে সামিল হন সমস্ত মানুষ । লাল পাড় সাদা শাড়ীতে মেয়েরা আর সাদা ধুতি পাঞ্জাবীতে আসে ছেলেরা । জুঁই, বেলের মালাতে, আঁতরে মিলেমিশে সে এক মহাসমারোহ ।
এমন মানবমিলনের মহা সমারহ নিয়ে পুরো বছর কাটুক এই কামনা রইল ।
নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা সকলকে ।
ইন্দ্রাণী ঘোষ