রম্য রচনায় ইন্দ্রাণী ঘোষ

লেডিবার্ড

নবনীতা আপনাকে…..
ঠিক একবছর আগে আজকের দিনে রামধনুর পথে পাড়ী দিয়েছিলেন আপনি । আপনার অবিশ্যি ‘ভোজনং যত্রতত্র, শয়নং হট্ট মন্দির’ । আপনাকে আটকায় কে? না দেখা হয় নি কোনদিন আমাদের । এক বান্ধবীর কাছে শুনেছিলাম আপনি ক্লাসে এসে চকোলেট ছোড়েন, যে ধরতে পারে সে অমৃতবৎ স্বাদ আস্বাদন করতে পারে । সে যাই হোক । আকন্ঠ ভালবেসে একাকীত্বের বিষকে অমৃতে পরিবর্তন করতে আপনি পারতেন । বিচ্ছেদের পরেও কোন এককালের ভালবাসাতে এতটুকু তিক্ততা না মিশিয়ে অন্তরে ধারন করতে আপনি পারতেন । আর তাই অকপটে বলতে পারতেন ‘জারা হাটকে, জারা বাচকে ইয়ে হ্যায় নোবেল মেরি জান’ । চুড়ান্ত নারীবাদী, নিজের তুখোড় মেধা থাকলেও যে কি করে অন্তরে ভালবাসার হৃদকমলের প্রত্যেকটি পাপড়ি রক্ষা করা যায় তা আপনি দেখিয়েছিলেন । ফেলে আসা ভালবাসাকে আম্রকুঞ্জের পূর্ণিমার আলোতে উদযাপন করতে আপনি জানতেন । এসব যে একজন শাড়ী পরা, কপালে কুমকুম আঁকা বাঙালী মেয়েও পারে, শুধু মেমসাহেবরাই পারেন না, আপনি দেখিয়েছিলেন । আপনার লেখা গোগ্রাসে গিলেছি, আজও গিলি ।
ক্যান্সার ধরা পড়ার পরেও বলা ‘কামেন ফাইট, কামেন ফাইট, যে মেয়ে বলতে পারে তার জন্য একটা লাইন ই মনে পরে’ এতো মেয়ে মেয়ে নয়…….’ না, ‘দেবতা’ আপনি নন । আপনি ভীষনভাবে আকন্ঠ মনুষ্যজীবনকে পান করা এক প্রবল পরাক্রমশালিনী মানবী নিশ্চয় ।
ট্রাকবাহন আপনার আর দরকার নেই, আপনার এখন আলোরবাহন আছে । ইয়ংকা ইনগ্রিড মেমসাহেবের সাথে আপনার মোলাকাতের গল্পের শেষে আপনি ইয়ংকার একটি কবিতা অনুবাদ করেছিলেন । কবিতাটা আমার এক কুচি আলো মনে হয় তাই আজ আবার পড়লাম । আপনি ভালো আছেন, আলোতে আছেন জানি ।

কাঁচপোকা
আমার মায়ের স্মৃতিতে.

উজ্জ্বল গেরুয়া
একটা আলো এসে পড়েছে
সমুদ্র থেকে
উঠোনে,
কাচাকুচি আর একটা
ডালিমগাছের মাঝামাঝি কোথাও
তোমার হাসি আর সকাল
আকস্মিক আর ছোট্ট
এক কুচি কাচপোকার মত

আমার হাতের পাতায় পড়ে।

*(লেডিবার্ড)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।