কাজ সেরে বেড়িয়ে যাবার আগে, খোঁজ খবর নেয় নিরু দি. ‘দাদাবাবু ফোন করেছিল?’ ‘হুম’, আর ‘ছোট মা জননী’? ‘হ্যাঁ করেছিল’.’ সবাই কবে ফিরবে?’ “আর দিন চারেক বাদে.’ আলগোছে উত্তর দেয় ঝোরা. নিরু দি অবাক হয়ে হাঁটা লাগায়. এই বৌদি যেন কেমন পাগলপারা. এদের সংসারটাও কেমন অদ্ভুত. যে যার নিজের কাজ নিয়ে নিজের মত থাকে. বৌদির তো সংসারে তেমন আঠা নেই, কেমন আলগোছে থাকে, মাঝে মাঝে লেখার টেবিলে বসে থাকে আর নিজের মনে বিড়বিড় করে. দুই বেয়ানে কেমন ভাব ভালবাসা আছে. রেষারেষি নেই. কি জানি বাপু, আজ কুড়ি, পঁচিশ বছর ধরে এদের বুঝে উঠতে পারল না সে.
একটা জলপাই রঙা টুনটুনি ডানা ঝটপট করছে কেন, ওরে বাবা ওর উজ্জ্বল নীল পুরুষ সঙ্গীটি ওর ল্যাজ কামড়ে ধরেছে. প্রানপন ছাড়ানোর চেষ্টা করছে জল্পাই রঙা মেয়ে, ওই যে পেরেছে ছাড়াতে, হাততালি দিয়ে ওঠে ঝোরা. দুজনে মিলে নারকোল গাছের মাথার উপর দিয়ে উড়ে গেল. ওরা কি খেলছিল না কি আদরের তীব্রতায় নাকাল করছিল?
পাশের বাড়ির ভদ্রমহিলা বাচ্চাকে নিয়ে ইস্কুল বেড়োলেন. এসব পর্ব মিটে গেছে ঝোরার, মেয়ে এখন লায়েক. রিসার্চের কাজে ঘুরে বেড়ায় দেশে বিদেশে, ঝোরা এখন ঝাড়া হাত পা. আড়ালে চলে যায় ঝোরা, ওকে দেখতে পেলেই হাজারটা প্রশ্ন করবেন মহিলা. কথা বলতে ইচ্ছে করছে না এখন.
বাগানের ছায়া আরশিতে পড়েছে. সাদা চোখো টুনটুনি আর দুর্গা টুনটুনিদের ছায়া যেন বেশি রকম জীবন্ত. ওই তো স্বচ্ছতোয়াকেও দেখা যাচ্ছে. সেও দিব্ব্যি জুটে গেছে ওদের সাথে. আস্তে করে আয়নার উপর আঙুল ছোঁয়ায় ঝোরা. ওমনি হুড়মুড় করে আয়নার ভিতরে ঢুকে পড়ে সে. স্বচ্ছতোয়া হেসে কুটিপাটি হয়. ওরে মেয়ে আমায় বেসামাল দেখে হাসা হচ্ছে. দাঁড়া দেখচ্ছি মজা, স্বচ্ছতোয়াকে ধরতে যায় ঝোরা. ছুটে পালায় স্বচ্ছতোয়া ঝোরাও ছোটে পেছনে……..