সম্পাদকীয়

নন্দনমেলার পঞ্চাশ বছর হল । মাস্টারমশাই নন্দলাল বসুর জন্মদিনের দুদিন আগে দিনকর কৌশিক শুরু করেছিলান এই মেলা । তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শিল্পীদের জন্য একটি ফান্ড তৈরি করা যা বিপদে, আপদে কাজে আসে । নন্দলাল বসুর জন্মদিন ৩ রা ডিসেম্বর । আর ১, ২ নন্দনমেলা । আজও কলাভবন প্রাঙ্গণে পা দিলে মনে হয় তাঁরা আছেন তাদের সমস্ত সত্ত্বা নিয়েই রয়েছেন আনাচে, কানাচে । আর্ট হিস্ট্রি ডিপার্ট্মেণ্টের পাশের ভবনের দেয়ালে নন্দলাল বসুর লেখা ‘কবি কেন চেরিফুল হতে চেয়েছিলেন” , সেই লেখার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয় সত্যি তো ছোট্ট ,সুন্দরকে সম্মান, জানাতে তো আমরা ভুলেই গেছি । ৩ রা ডিসেম্বর ভোর রাতে ছেলেমেয়েরা প্রদীপ নিয়ে যায় নন্দলাল বসুর বাড়ীতে,তার আগেই আলপনা দেওয়া ঘর নিকোনো, সারা থাকে । কলাভবনের ছেলেমেয়েরাই করে সব ।
শিল্পী যে শুধু শিল্পী নন ,রঙ, তুলি , ছেনি, হাতুড়ী ছাড়া তাঁর যে দুটো চোখ সেই তো পৃথিবীর পরম আশ্চর্য সম্পদ । আর সেই দেখা প্রশমিত হয় বুঝি গেট আগলে বসে থাকা সেই মানুষটার মধ্যেও যে কলাভবনের নবীন শিল্পীদের পাহারা দেয় তাই বোধহয় হাওয়ায় বিলীন হয়ে গিয়েও সে থেকে যায় আর ছেলেমেয়েরা তাঁকে সৃষ্টি করে বসিয়ে রাখে, কানে ফুল গুঁজে দিতেও ভোলে না । এমনি মজার মেলা নন্দন মেলা ।
মানুষ সৃষ্টিতে না থাকলে আর রইল কিসে ।
শুভেচ্ছা নিরন্তর ।
ইন্দ্রাণী ঘোষ