সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ১৩)

আরশি কথা

পায়ের কাছে ভেজা ভেজা ঠেকে ঝোরার. মেঘের সিড়ি তবে. হঠাৎ চোখের সামনে থেকে আড়াল চলে যায়. এ কোথায় এল ঝোরা. একদিকে মাইলের পর মাইল কে যেন প্রদীপ জ্বেলেছে. ওই তো সেই সাদা পিরিচের মত চাঁদটাও রয়েছে. অন্যদিকে ভোরের অহনার সাতরঙা বিচ্ছুরণ. আরে এ যে আলোর সাম্রাজ্য. কে নিয়ে এল ঝোরাকে এখানে? ঝোরার চারিদিকে অনেক আয়না দেয়া একখানি কাঁচের মহল. এখানে বসে আলোর খেলা দেখবে ঝোরা. ফিসফিস করে কানে কানে কেউ বলল ‘এবার আমায় চিনতে পারছ?’ ঝোরা বলল ‘তুমি আকাশ, এই আয়না মহলে বসে আলোর খেলা দেখাও.’ চিনেছ তাহলে. ‘,’ খুব চিনেছি’ ‘তুমি চোখে হাত দিতেই বুঝেছি.’ ‘ও আমার ছোঁয়া মনে আছে তাহলে’ আকাশ বলে. ‘না থাকার কি আছে,’ ঝোরা বলে. ‘তুমি আমায় যেদিন প্রথম ছুঁয়েছিলে সেদিনটাও বেশ মনে পড়ে’. আকাশ আরো কাছে টানে ঝোরাকে ‘কাজের মাঝে মনে পড়ে আমায়?’. একটা পরম নিশ্চিন্তের শ্বাস ফেলে ঝোরা. ‘আমার আর কাজ কি এখন, ছুটিতে আছি. ‘ মেঘের দল ঘিরে থাকে ওদের. ঝোরা আর আকাশ গল্প করে. আকাশ শোনায় আলোর গল্প, বাতাসের গল্প. ঝোরা বলে ‘পৃথিবীর গল্প আর কি বলি, শুধু হিংসা, যুদ্ধ, দাঙ্গা, হানাহানি’. আকাশ ঝোরার চিবুক ধরে বলে ‘আর ভালবাসা ? এ যে পৃথিবী ছাড়া কোথাও নেই, যেটুকু আছে পৃথিবীতেই আছে, তুমি যদি আমায় না ভালবাসতে, আমি কি নিজেকে সুন্দর বলে জানতাম না কি আলোর পরশে ভালবাসার রঙ দেখতে পারতাম’. লজ্জা পেয়ে আকাশের বুকে মুখ লুকোয় ঝোরা. আকাশ মেঘেদের ইশারা করে তাদের ঢেকে দিতে.

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।