সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ২)

বিদ্যাস্থান অভয়ে বচ
ছোটবেলায় সরস্বতী পুজো মানেই ছিল হলদে শাড়ীর খসখসানি, একমুঠো বাটা হলুদ মেখে স্নান, আগের রাতের প্যান্ডেলের কারিকুরি, ইট চুরি, ময়দার আঠা, জিনকের সাদা গুড়োর আলপনা, বিশাল ফুলের মাঝখানে আলতার ফোঁটা দিয়ে মনে করা হৃদয় হতে ঝরে পড়ল একফোঁটা অনুরাগ। খিচূড়ি, বাঁধাকপি, বেগুনি, চাটনি, পরের দিনের বাসি খিচুড়িতে অমৃতের স্বাদ পাওয়া আর বিকেলবেলা সুকুমার, রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে জানতে পারা পুজো মানেই এদের লেখা, পুজো মানে মন্ত্র ছাড়াও আরও অনেক কিছু ।
সরস্বতী পুজো মানে বিদ্যাকে যে ভালবাসাও যায় সেই বোধের সিঞ্চন মনজগতে । অঙ্ক, বিজ্ঞানের রক্তচক্ষু ছাড়াও, সাহিত্যের রত্নভান্ডারের চাবিকাঠি হাতে পাওয়া। বিদ্যা স্থান যে শুধু ভয়ে বচ নয়, বিদ্যা যে আনন্দযজ্ঞের প্রধান উপাচার তা বুঝতে শেখা। এইসব নিয়েই বারবার এসেছে সরস্বতী পুজো। একটা চোরা গর্ব হয় এখন, আমরা যেভাবে মা সরস্বতীকে উদযাপন করেছি রবীন্দ্রনাথে, সুকুমারে, তা করতে পারা সৌভগ্যের কথা । সুখে, দু:খে আজও তাঁরাই হাত ধরেন ।
এখন সরস্বতী পুজোর দিন ছুটি থাকে, আগের রাতের বিনিদ্রার আনন্দ থাকে না । নিয়মমাফিক খিচুড়ি, আলুরদম, চাটনি, আর দুপুরের ঘুমে আরেকটা সরস্বতী পুজো টুপ করে খসে পড়ে কাল সমুদ্রে ।
শুধু দেখি, যখন ষোল পূর্ণ সতেরোর মেয়েগুলো শাড়ী পরেছে আর উঠতি বীর পুঙ্গবেরা পাঞ্জাবীর হাতা গোটাতে গোটাতে তাদের চোরা চাহিনীর প্রশংসায় বান্ধবীদের হৃদতরঙ্গে সিগনাল পাঠাচ্ছে তখন খুব আনন্দ হয়, খুব খুব আনন্দ ।
বসন্তের কথা এলোই যখন শ্রী পঞ্চমীর কথা তো আসবেই । প্রেমই তো চিরকাল শেষ কথা বলেছে ।