মার্গে অনন্য সম্মান ইন্দিরা দত্ত (সেরার সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৬৬
বিষয় – ছটপুজো
ছটপুজোর ইতিকথা
বৈদিক যুগের অনেক আগে থেকেই সূর্যের উপাসনা চলে আসছে।মানুষ তখন থেকেই বুঝেছিল সূর্য সকল শক্তির উৎস।তাই তাকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে। এই ব্রত মুখ্যত আর্যঋষি দ্বারা ঋগ্বেদ,সূর্যপুজো ও উষাপুজো করা হয়।
পুজোর পিছনের প্রচলিত কাহিনী —
১) কথিত আছে প্রিয়ংবদ নামক এক নিঃসন্তান রাজা মহর্ষি কশ্যপের দ্বারা যজ্ঞ করান।যজ্ঞশেষে তিনি রানী মালিনীকে প্রসাদ হিসাবে পায়েস খেতে দেন। দুর্ভাগ্যবশত রানী মৃত সন্তানের জন্ম দেন। পুত্র শোকে রাজা প্রাণ ত্যাগের চেষ্টা করলে ব্রহ্মার মানসপুত্রী দেবসেনা রাজাকে তাঁর পুজো করতে বলেন।দেবীর উৎপত্তি যেহেতু সৃষ্টির মূল প্রবৃত্তির ষষ্ঠ অংশ থেকে তাই ‘ছোটি মাইয়া’ বা’ ছট দেবী’।দেবীকে সন্তুষ্ট করে রাজা পুত্রসন্তান লাভ করেন।
২) আরেকটি ধারণা সূর্যপুত্র কর্ণ প্রতিদিন কোমর জলে দাঁড়িয়ে থেকে সূর্যের উপাসনা করে অর্ঘ্য দিতেন তাই ছটে সূর্যকে অর্ঘ্য বা আরখ দেওয়া হয়।
৩) আবার একটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পাণ্ডবরা পাশা খেলায় হেরে গেলে দ্রৌপদী ধম্যঋষির সাহায্যে এই ব্রত পালন করেন ও পাণ্ডবরা রাজ্য ফিরে পায়।
৪) রামায়ণেও এই পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়।চোদ্দো বছর বনবাসে থাকার পর অযোধ্যায় ফিরে রামচন্দ্র রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করেন। তখন সীতা ঋষি মুদ্গলের আজ্ঞায় কার্তিক মাসের ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যদেবের উপাসনা ছয় দিন ধরে করেন।
এ পুজোর কোন মন্ত্র নেই কেবল শ্রদ্ধা আর কঠোর নিয়ম মেনে এই পুজো করা হয়।যারা এই পুজো করেন ভাইদুজের পর থেকে নিরামিষ খান।পুজোর দুদিন আগে লাউয়ের পদ দিয়ে ‘লাউকি ভাত’। তারপর আবার উপোস।পরের দিন সন্ধ্যায় ‘খরনা ‘অর্থাৎ ক্ষীর -রুটি বা আতপ চালের ভাতের মধ্যে দুধ,ফল, আখের গুড় সূর্যদেবের উদ্দেশ্যে অর্পণ করে সেই খাবার গ্রহন করে।
আর সকলকে খাওয়ায়। আবারো উপোস। ব্রাশ পর্যন্ত করা যাবেনা।এই সময় তারা মাটিতে কম্বল পেতে শোয়।
পরের দিন বিকালে ডালা সাজাতে হয়। নতুন কুলোতে সিঁদুর দিয়ে হলুদ গাছ, আমের পল্লব, নারকেল,বিভিন্ন ফল, ঠেকুয়া,চালের গুঁড়োর নাড়ু, গুজিয়া দিয়ে ডালা সাজানো হয়।সাথে থাকে কলার কাঁদি ও আখ গাছ।
নতুন বস্ত্র পরে ছট ঘাটে একমনে সূর্যদেবের উপাসনা করে। এক বুক জলে সেই ডালা নিয়ে অর্ঘ্য বা আরখ দিতে হয় ।ধূপ-ধুনা দিয়ে আরতী করা হয়।পরিবারের সকলের নাম করে প্রদীপ ভাসানো হয়। সকলে মিলে বাড়ি ফিরে যায়। এই পরেও সারারাত উপোসী থাকে ।
পরেরদিন অতি ভোরে আবার ছট ঘাটে গিয়ে একইভাবে আরখ দেখানো হয়। অর্থাৎ অস্তগামী ও উদয়গামী সূর্য ও তাদের স্ত্রী উষা ও প্রত্যুষাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ।যাদের মানত থাকে তারা দণ্ডী কাটে ।কারো কারো বাজি বাজনার মানত থাকে ।
এরপর তারা উপোসভঙ্গ করে।
এই পুজো বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তরপ্রদেশ, নেপাল এমনকি মরিশাসে আড়ম্বরের সাথে পালন করা হয়।