কবিতায় ঈপ্সিতা বিশ্বাস

ক্যান্সার ও কমিটমেন্ট
আমি জানি,
আমাকে তোর ভালোলাগে।
আমার গোলাপী সাইকেলের ক্যারিয়ারে
আটকে আছে তোর যাবতীয় আবেগ;
আমার লাল চুড়িদারের ওড়না
বেঁধে রেখেছে তোর তীক্ষ্ণ পার্থিব দৃষ্টি;
আমার ছিপছিপে শরীরের বাদামী ঔজ্বল্য
ঝংকৃত করেছে তোর অমোঘ মেঘমল্লার।
তবু, ভালো তুই আমায় বাসিসনি।
তুই ভালোবেসেছিস,
নীল চোখের একটা আকাশকে;
তুই ভালোবেসেছিস,
গোলাপী ঠোঁটের একটা কবিতাকে;
তুই ভালোবেসেছিস,
কৃষ্ণকালো শান্তির একটা আঁচলকে।
তবু, ভালো তুই আমায় বাসিসনি।
টিউশন ক্লাসে ঝুঁকে টেস্ট পেপার সল্ভ করার সময়
তুই আমায় দেখিস।
না, আমায় দেখিস না।
তুই দেখিস,
বুকের আঁচল সরে যাওয়া
এক প্রাগৈতিহাসিক নারীমূর্তিকে।
তার মাংসল খাঁজ
তোকে নদী, পাহাড়, অরণ্যানী মনে করায়।
তার জাম রঙের বোঁটা
তোর নাকে বয়ে আনে কোনও পাহাড়ি ফুলের গন্ধ।
তুই মোহিত হয়ে থাকিস।
তবু, ভালো তুই আমায় বাসিস না।
তুই ভালোবাসিস নিজেকে;
নিজের ইন্দ্রিয়কে।
নিজের আবেগকে।
আর তাই, যেদিন তুই আমার বাম স্তনের লাল তিলটায় আঁকিবুকি কাটছিলি;
আমি বলেছিলাম,
‘ব্রেস্ট ক্যান্সার আছে আমার।’
বিদ্যুৎপৃষ্টের মত চমকে গেছিলি,
চিৎকার করেছিলি,
পালিয়েছিলি উদভ্রান্তের মত।
সেদিন বুঝেছিলাম,
ভালো তুই আমায় বাসিসনি।
ভালোবেসেছিস
ভালোবাসা নামের একটা আরামকে!