ক্যাফে কাব্যে হিমাদ্রি সাহা

উত্তর পু্রুষ

আমার দিকে এক দলা ঘৃণা নিক্ষেপ করে
একটি শিশু অবলীলায় ব্যস্ত নিজের খেলা নিয়ে।
কোনো ভ্রুক্ষেপেই দ্বিধান্বিত নয় সে
বরং একটু বেশীই আত্মবিশ্বাসী
ওর প্রতিটি অবহেলার মুদ্রায়।
শিশুটি আপনমনে হাসলেই
গাছের পাতারা সবুজ হয়,
মেঘের হৃদয় থেকে টুপটাপ ঝরে প’ড়ে
বৃষ্টির সহাস‌্য কল্লোল,
উদ্বেলিত হয় চুপুচুপু ভেজা পাখীরা।
অথচ শিশুর এক চোখ অবহেলায়
আমার ভিতর এখন মন্বন্তর।
সহস্র জন্মের ইতিহাস ঘাঁটতে ঘাঁটতে
আমি চলেছি মাটির যত গভীরে
মাটির গায়ে যন্ত্রণার চাপ চাপ চিহ্ন ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়েছে।
কোথাওবা নিপীড়নের তামাটে ছোপ,
কোথাও অশ্রু ভেজা স্যাঁতসেঁতে শরীর,
কোথাও সর্বস্ব পুড়ে ছাইয়ের বেশভূষা।
এইসব ছিন্নমূল মাটির শরীর দেখে
প্রশ্ন জাগে , তাহলে কি পাপ জমেছে
আমার পিতৃ পুরুষের আদি কাল থেকে অদ্যাবধি
আমি পর্যন্ত যার দায়ভার।
তা না হলে কেনই বা শিশুটি অপাংক্তেয় করে আমায়
নির্বিকার খেলে চলেছে অবলীলায়।
জীর্ণ প্রাসাদ ও আমি ঝোপঝাড়ের মাঝে
মুমূর্ষু হয়ে পড়ে আছি।
সমস্ত দম্ভ লীন তাপ শুষে নিয়ে মিশে গেছে
অগণিত বাষ্পের ভিড়ে।
অথচ শিশু তার যাবতীয় হর্ষ নিয়ে উচ্ছ্বলে অনাবিল।
সাথ দিচ্ছে একটি সারমেয় শিশু ও একটি বিড়াল,
গাছেরাও যোগ দিয়েছে অবিমিশ্র আনন্দে।
অপাঙক্তেয় আমি তবুও বেঁচে আছি
উত্তর পুরুষের চোখের দিকে তাকিয়ে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।