সম্পাদকীয়

দেশভাগ নিয়ে যখন লেখা চাইলাম তখন প্রায় প্রত্যেক লেখকই আমাকে সম্প্রীতির বার্তাধর্মী লেখা পাঠিয়েছেন। কিন্তু কেন জানি না তাঁরা সম্প্রীতির কথা বলতে গিয়ে বারবার সত্যকে সামনে আনতে ভুলে জান। একটি দেশের বিভাজন সবসময় কষ্টদায়ক হওয়া চাই। মহাভারতে দুর্যোধন যখন যুধিষ্ঠিরের যুবরাজ পদকে বারবার অস্বীকার করছিল এবং পঞ্চপাণ্ডবকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল- তখন মহামন্ত্রী বিদুর হস্তিনাপুরের বিভাজনের কথা তুলেছিলেন। যাতে পাণ্ডবেরা সম্পূর্ণ নাহলেও আংশিক রাজ্যসুখ ভোগ করতে পারে। কিন্তু দেবব্রত ভীষ্ম ক্রুদ্ধ হলেন কিন্তু নিজেকে সংবরণ করে বললেন- এই দেশ ভাগ করতে হলে আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে ভাগ করতে হবে।
দেশভাগ এবং তাকে সমর্থন কোনো বীরত্বের কাজ নয়। আমরা দেশকে মা বলি। এই দেশ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তাকে টুকরো টুকরো করতে চায় যারা আমি তাদের হত্যা করতে পারি। তাই আমার প্রত্যাশা ছিল কেউ সেই ক্রোধের কথা লিখবে। যারা দেশ ভাগের মতো কলঙ্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মুখে থুথু ফ্যালার কথা লিখবে।
দেশভাগ নিয়ে এই বিশেষ সংখ্যায় ভেবেছিলাম অনেক কালো সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু অনুভব করলাম আমরা সত্য বলতে চাই না। আমরা জবরদস্তি করি নিজেদের সঙ্গে। আমরা দেশভাগকে শুধুই একটা ইতিহাস বলে এড়িয়ে যাই। এই সংখ্যার সম্পাদনা করার সময় শুধু ভাবছি দেশভাগের কথা শুনলে লেখকের কলম কেন রক্ত পান করতে চায় না!
হৃদয় মালাকার