সম্পাদকীয়

চুপ
আপনি একটি আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। আপনাকে নিয়ে সাংবাদিকরা বৈঠক করল, বিরোধী নেতারা শাসকদলকে ধিক্কার জানাল। রাতারাতি আপনার দর বাড়তে লাগল রাজ্য থেকে দেশ পর্যন্ত।
শাসকদল এখন কোণঠাসা। আপনার দাবি মেনে নিলে সরকারের অর্থদণ্ডি যাবে, না মানলে জনগনের আস্থা হারাবে। কিন্তু প্রত্যেক সরকার জানে আপতকালীন কূটনীতি।
আপনার ডাক আসলো শিক্ষাদপ্তর থেকে। আপনি গদোগদো হয়ে গেলেনও। তারা আপনাকে একটি চাকরি দিতে চাইল, বিনিময়ে আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে। মুহূর্তে আপনার বিবেক জেগে উঠবে। আপনি ‘না’ বলে দেবেন। আরও বলবেন- সবার হকের চাকরি দিতে হবে। শিক্ষাদপ্তর থেকে গোটা শাসকদল আপনার গলায় পা তুলে দিয়ে ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়াবে- চুপ হারামজাদা।
আপনি এক পলকে সংগ্রামী থেকে হারামজাদা হয়ে যাবেন। তবু আপনি আন্দোলন ছাড়বেন না। কিছুদিন পর অন্ধকার গোলি দিয়ে যখন বাড়ি ফিরবেন এক আততায়ী আপনার মুঠোবদ্ধ হাত কেটে নেবে। আপনি চিৎকার করতে যাবেন ঠিক তখনই আততায়ী আপনার গলায় পা দিয়ে বলবে- চুপ হারামজাদা। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার না খেতে পাওয়া পেটে ঢুকে যাবে একটি ধারালো ছুরি। আপনি খুন হবেন।
আপনাকে দেখতে আসবে আপনারই সহ-আন্দোলনকারীরা, বিরোধী নেতারা, সাংবাদিকরা এবং সবশেষে দেখবেন ফুল হাতে হেঁটে আসছে গোটা শাসকদল। ওদের দেখে আপনার লাশ চিৎকার করে বলতে যাবে- এরাই আমাকে খুন করেছিল। ঠিক তখনই দেখবেন শিক্ষামন্ত্রী আপনার শুকনো ঠোঁটে আঙুল রেখে বলবে- চুপ কর হারামজাদা, নইলে জিভ কেটে নেব।
হে স্বর্গীয় বিপ্লবী, এখন অন্তত থামুন- চুপ হয়ে যান। শাসক দলের হাত অনেক লম্বা হয়, স্বর্গেও শান্তিতে থাকতে পারবেন না।
হৃদয় মালাকার