প্রায় মাস চারেক বাদে আজ স্টেশনে এলাম। ট্রেনে তেমন একটা ভিড় নেই। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো মানুষজনের সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। আসলে দুপুরের সময় বলে হয়ত এমন একটা চিত্র। অন্য সময়েই বা কেমন তা কে জানে। হাঁটা দূরত্বে চুঁচুড়া স্টেশন হলেও আমি মাস চারেক হলো স্টেশনে পা দিই নি। আসলে একটা কারণেই আসি না যদি স্টেশন দেখলেই সব কিছু বাধা সরিয়ে হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করে!
ছুটতে ছুটতে এসে তিনটের ট্রেন ধরলাম। অন্য সময় হলে কিছুক্ষণ পরে আবার ট্রেন থাকত কিন্তু এখন যে অনেকক্ষণ পরে পরে ট্রেন। তাই দৌড়ে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হলো। তালাণ্ডু স্টেশনে নেমে মনে হলো কতদিন পর যেন বন্ধুর কাছে ঘুরতে এলাম। বোঝাই যাচ্ছিল চারপাশের পরিবেশ যেন কেমন একটা থমকে আছে। অসুস্থ অবস্থায় একটা মানুষ যেমন খুব সাবধানে পা ফেলে স্টেশনে নেমেই বুঝতে পারলাম বন্ধুর শরীর ভালো নয়।
কিছুক্ষণ বসেই টের পেলাম সেই আগের আনন্দ। যদিও দু তিন ঘন্টা অন্তর অন্তর ট্রেন, স্টেশনে মানুষজন হকার প্রায় নেই বললেই চলে তবুও বন্ধু আমার সেই চেনা ছন্দেই আমাকে ধরা দিল। মাস চারেক যখন শেষ এসেছিলাম তখন স্টেশন থেকে দেখতে পাওয়া মাঠগুলো সবুজের লেশমাত্র ছিল না। আজ এসে দেখলাম যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।
আজ মনে মনে একটা অদ্ভুত আনন্দ অনুভব করলাম। যদিও এই আনন্দ আমার কাছে নতুন নয়। স্টেশনে এসে দাঁড়ালেই আমার আনন্দ হয়। তবুও আজকের আনন্দের চেহারা কিছুটা হলেও আলাদা। হতে পারে অনেক দিন পরে এলাম তাই হয়ত এমন মনে হচ্ছে।
চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে গেলে প্ল্যাটফর্ম ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। স্টেশন থেকে নেমেই একটা চায়ের দোকানে চা খেয়ে তবে ট্রেনে উঠি। আজ চায়ের দোকানে যেতেই মালিক জিজ্ঞাসা করলেন এতদিন আসেননি কেন। প্রতিদিন আসতে আসতে এরাও আমার স্বজন হয়ে গেছেন। ট্রেনে করে ফিরে আসার সময় মনে হচ্ছিল, আবার কবে আসতে পারব জানি না। এক একসময় মনে হয় সারাদিন এখানেই থাকি।