সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ৪৭)

সোনা ধানের সিঁড়ি

৮২
প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর লিটল ম্যাগাজিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। পেশার কারণে খুব বেশি বইমেলায় বা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় যাওয়া হয়ে ওঠে না। তবুও যে ক’টা মেলায় গেছি সেখান থেকে বলতে পারি, সাধারণ মানুষ এখনও লিটল ম্যাগাজিন থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছে। এদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ চলতে চলতে একটু দাঁড়ায়, দূর থেকেই টেবিলগুলোর দিকে একটু তাকিয়ে আবার চলতে শুরু করে। কেউ কেউ আবার কাছে এসে টেবিলের সামনে দাঁড়ায় একটা দুটো পত্রিকার পাতা ওল্টায়, তারপরে চলে যায়। বুঝতে পারি ওদের মধ্যে এখনও লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে ধারণাটা ঠিক ততটা স্পষ্ট নয়। গল্প উপন্যাসের বই পর্যন্ত ঠিক আছে তারপর থেকে সবকিছু অস্পষ্ট।
কলকাতা বইমেলায় যে লিটল ম্যাগাজিনের প্যাভিলিয়ন হয় সেখানে অবশ্য এইধরনের মানুষজনদের দেখা পাওয়া যাবে না। দেখা পাওয়া যাবে না শহরতলীর বইমেলাগুলোতেও। কারণ এখানকার মানুষজনরা সব তৈরি হয়েই মাঠে নামে। কিন্তু যদি আমরা গ্রামীণ বইমেলাগুলোতে যাই তাহলে দেখতে পাব সেখানকার মানুষ লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপারটাই এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি। এমন নয় যে, তাদের টাকা নেই। তারা হাসতে হাসতে গল্প উপন্যাসের বই কিনে ফেলছে। অথচ লিটল ম্যাগাজিন কিনতে এসে তারা কার্পণ্য করবে কেন? আসলে তাদের মনে একটাই প্রশ্ন এইসব কিনে তারা এর মধ্যে কি পাবে?
এইধরনের মানুষগুলোকে যেদিন আমরা লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলের কাছে টেনে আনতে পারবো সেদিন লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকদের আর বিশেষ চিন্তা ভাবনার মধ্যে থাকতে হবে না। বিক্রির পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্যও উঠে আসবে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।