গুচ্ছ কবিতায় হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাবা
ফোনে সব কথা বলা যায় না
চিঠিতেও কি সব বলা যায় ?
আমি জানি না,তুমি জানো ?
হঠাৎ করে সুখ এলে যেমন হয়
হঠাৎ করে দুঃখ এলে কেমন
এর পরের শব্দ অক্ষর আর পড়া যায় না
আবেগ।ঝাপসা সব ঝাপসা লাগে।
অক্ষরের গায়ে জল পড়লে যেমন হয়
চোখের জল. ..একশ তে এক শ আবেগ …
বাবা বাবু বাবাই যে নামেই ডাকি না কেন
শব্দ মাত্রা অক্ষর উপমা উৎপ্রেক্ষা কম পড়ে যায়
জানি জন্ম আকস্মিক বেপথু মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী
তার মাঝে তুমি সত্য নিত্য তুমি পিতা হি পরমন্তপ …
শবসাধনা
নিজের ভেতরে ভৈরবী আর মালকোষ
আগলে রেখেছো শিবরঞ্জনী ঝঞ্ঝা
উঠে এলো যত কড়ি ও কমলে সব দোষ
তোমার সঙ্গে মিল দিতে তবু মন যায়
তোমার সঙ্গে মিল দিতে তবু মন চায়
রাগ জীবনের সব চেয়ে বেশি জরুরি
আঘাতে আঘাতে রৌদ্রপাতের মহিমা
পারাপারহীন ভেসে থাকে জিন পরী
শুদ্ধ নি এর সঙ্গে মিশেছে কড়ি মা
এমন ই তো হয় শেকড় ছড়ায় মাটিতে
এমন ই তো হল তোমার আমার জীবনে
কত সহজেই দেয়া নেওয়া সারা
স্বপ্নের মায়া তছনছ সম্পর্কের হননে
পাথর তবে কি গড়িয়ে গেছিল জলে
শাখা নেই তবু আঁকড়ে ধরেছি পল্লব
ধ্রুপদ ধামারে এমন কথায় বলে
প্রতি মুহূর্ত্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব …
আজ প্রতি মুহূর্ত্তে খুঁড়ে খুঁড়ে দেখি সেই শব…….
দূরের বর্ষা
দূরের বর্ষা তুমি
তুমি এসে জানালায় দাঁড়ালে
জানলাও অসাড় নয়
অসাড় এখন শুধু ভিজে যাওয়া টুকু
ভিজে ভিজে কতবার বৃষ্টি হয়েছি
দেখেছি বৃষ্টির চলে যাওয়া টুকু
যাওয়া যে এতোই কঠিন
পাওয়ার চেয়েও তার তীব্র অভিলাষা
এখন সে তীব্র বারিধারা ম্লান হয়ে এলো
ম্লান হলো ঝর ঝর ঝরে যাওয়া টুকু
মানুষ বোঝেনা তবু দিগন্ত ডাকে
সমস্ত পোষাক খুলে চেনা যায় তাকে