কোনো ডিভোর্সি নারী অথবা তিনি যদি সন্তানের জননী হন, কোনো অবিবাহিতা নারী যদি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে একা একাই পৃথিবী চষে বেড়ান, কোনো নারী যদি বন্ধুতার হাত ধরে পুরুষদের মদ্যপানের আসরে অংশগ্রহণ করেন তাহলে সেই নারীকে কি সবাই অবাধ অনায়াস আর সহজলভ্য বলে ধরে নেন? হ্যাঁ, আমি পুরুষদের দিকে বিশেষভাবে আঙুল তুলতে চাইলেও পুরুষরাই আমার একমাত্র লক্ষ্য নয়। আসলে নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় সব মানুষরাই এইসমস্ত নারীদের সম্পর্কে এইরকম ভাবনাই ভেবে থাকেন। আর ঠিক এই জায়গায় দাঁড়িয়েই বুঝতে পারা যায় আমরা কত হাজার বছর পিছিয়ে আছি।
নারী স্বাধীনতা, নারীর অধিকার নিয়ে একের পর এক আলোচনা সভা হচ্ছে, পাতার পর পাতা লেখা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু এত সবকিছুর পরেও আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি? নারীকে আর কবে আমরা মানুষ ভাবতে শিখব? কজন মানুষ চায় নারী নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মানুষের মতো মাথা তুলে দাঁড়াক?
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া নারী ভোগের সামগ্রী নয়, সে তোমার কাছে সম্মানের, শ্রদ্ধার পাত্র, আর পাঁচটা মানুষের মতো সেও একজন মানুষ —— সভ্যতার এত বছর পরও এই প্রাথমিক শিক্ষাতেই আমরা পাশ করতে পারলাম না। সত্যিই এ বড় লজ্জার! আমরা কিছুই শিখলাম না। অনেক বছর আগে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল বলে গেছেন, তোমার পাশের মানুষটা ঠিক তোমারই মতো একজন মানুষ —— এই ভাবনায় আমরা ক’জন উত্তীর্ণ হতে পেরেছি? সামান্য এগিয়েই আঙুলে গাঁট গোনা থেমে যাবে। এই আসল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া মানুষদের অন্য আলোচনার কি অধিকার আছে বলতে পারেন?
আচ্ছা দিনের শেষে তো আমরা বাড়ি ফিরে যাই। সেই বাড়িতে তো আমাদের একটা মা আছেন, সেই মাকে দেখে আমাদের কি কিছুই মনে পড়ে না? মাকেও কি আমরা মানুষ ভাবতে পেরেছি? এক একসময় খুব হতাশ হয়ে পড়ি। আমাদের চারপাশে এরা কারা। মৃত্যু তো আমার হাতে নয়। এখনও যদি কয়েক বছর বাঁচতে হয় তাহলে কাদের নিয়ে বাঁচবো?