সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ৮৩)

সোনা ধানের সিঁড়ি
১২০
আমি নিজের থেকেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠিয়ে থাকি ----- কবিতা লেখার একেবারে শুরু থেকেই এটা আমি করে আসছি। হ্যাঁ, এটা অবশ্য ঠিক আজ বেশিরভাগ জায়গা থেকেই ইনবক্সে কবিতা পাঠাবার অনুরোধ আসে। কিন্তু তবুও আমি আজও অনেক জায়গাতেই নিজের থেকেই কবিতা পাঠাই।
পাশাপাশি আমি অনেক কবিকেই বলতে শুনি, তিনি নিজের থেকে কোথাও কবিতা পাঠান না। শুধু তাই নয় তিনি এটাকে তাঁর আদর্শ বলে মানেন। কারণ তাঁর মতে নিজের থেকে কোনো পত্রপত্রিকায় কবিতা পাঠালে কবির সম্মান থাকে না। এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী অনেক কবিই আমার বন্ধু। তাদের সঙ্গে আমার কোনোদিন কোনো সংঘাত হয় নি আর ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ আমি মনে করি, কে কি করবে সেটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেখানে আমি তাঁর বন্ধু বলে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি আমার বক্তব্য জানতে চায় আমি তাকে আমার বিশ্বাসের কথা জানিয়ে দি।
ব্যক্তিগত জীবনে আমি একাধিক লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করেছি এবং বর্তমানে "ছায়াবৃত্ত" নামে যে পত্রিকাটি সম্পাদনা করছি সেটি এই নভেম্বরে আঠারো বছরে পা দিল। লেখার আহ্বান জানিয়ে যে পোস্ট করা হয় তা যদি সব কবি তাঁর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যটি বজায় রাখার জন্যে কোনো কবিতা না পাঠান তাহলে পত্রপত্রিকাগুলির কি দশা হবে? অবশ্য অনেক সম্পাদকই আমাকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলে উঠবেন, কোনো সমস্যাই হবে না। কারণ তাঁদের পত্রিকা প্রকাশিত হয় পুরোটাই আমন্ত্রিত কবিদের নিয়ে এবং তাঁরা বিশ্বাসও করেন এগুলিই আসল পত্রিকা। প্রকাশ্যে লেখার আহ্বান জানালে নাকি সেই পত্রিকার জাত থাকে না।
আমার কেবলই মনে হয়, আমি যখন নিজে থেকে কোনো জায়গায় লেখা পাঠানোকে প্রশ্রয় দিচ্ছি না তখন আমি নিজের একটা আলাদা শ্রেণী তৈরি করে ফেলছি এবং পাশাপাশি এই ভাবনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছি যারা নিজের থেকে লেখা পাঠায় তারা অনেক সস্তা। অথচ মুখে বলব, লিটল ম্যাগাজিন একটা আন্দোলন। মঞ্চে উঠে বলব, আমরা কিছুতেই এই আন্দোলন থেকে সরে যাবো না। অথচ বাস্তবে এই বিভাজন নীতিকে বজায় রেখে চলব। অনেকেই বলবেন, অনেক সম্পাদকেরই সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা নেই। তাঁদের পত্রিকার মান খুবই নিম্নমানের ------- এসব কথা মাথায় রেখেও বলছি, এই বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা মানে নিজের সঙ্গে নিজে প্রতারণা করা। তাছাড়া অগ্রজরা যদি অনুজদের দিকে দৃষ্টি না দেন তাহলে লিটল ম্যাগাজিনের এই অন্ধকার ঘুচবে না। আমি দেখেছি আজকের অনেক সম্পাদকই অগ্রজদের থেকে কিছু শিখতে চান। তাই আমাদের সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। কারণ লিটল ম্যাগাজিনের একজন কর্মী হিসাবে আমি কিছুতেই আমার দায়িত্বকে এড়িয়ে যেতে পারি না।