মেহেফিল -এ- কিসসা হোসনে আরা মণি (গদ্য )

যে রাত পোহাবে

মধ্যরাত্রি। শুনশান নীরবতা।
ঝিঁঝিঁর একটানা কনসার্ট আর শিয়ালের হুক্কাহুয়া বাদ দিলে এই আধা গ্রাম আধা শহর অঞ্চলে রাত দশটার পর কোন শব্দ শোনা যায় না। আজ যেন সে আওয়াজও নেই। বাতাস থমকে আছে। গুমোট গরম। বোধহয় বৃষ্টি হবে। আর গরম হবে নাই বা কেন! একেক ঘরে ঘুমিয়ে জনা দশ-বারো করে। দুগ্ধপোষ্য শিশু ছাড়া বাকি সবার জন্য লিঙ্গভিত্তিক শয়নব্যবস্থা। আছে কিছুটা বয়সভিত্তিক ব্যবস্থাও। কিশোর থেকে মধ্যবয়সী পুরুষেরা বাইরের দিকের ঘর-বারান্দা জুড়ে। যাদের খাটে জায়গা হয়নি তারা মেঝেতে-দোরগোড়ায়-টেবিলের তলায় যে যেখানে পেরেছে জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া উপায়ও নেই। শ’দেড়েক মানুষের এক বাড়িতে ঘুমোবার আরামদায়ক বন্দোবস্ত তো আর সম্ভব নয়।
বাড়িটা বলতে হয় বড়োই। মালিক ছিলেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও টাকাওয়ালা। খাওয়া-বসা-শোওয়া মিলিয়ে ঘর আছে দশ-বারো খানা। সারাবছর ওগুলোর বেশিরভাগই নাকি ফাঁকা পড়ে থাকে। ছেলে-  মেয়েরা সব দেশের একেক প্রান্তে একেক শহরে বাস করে। ঈদ-চাঁদ এলে যেন ঘরের অকুলান না হয় তাই এত বড়ো বাড়ি করা। যদিও সেটা ক্কচিৎ হয়Ñ এক ঈদে সব ছেলে-জামাই চাকরিতে ছুটি পায় না, ঘরও সব ভর্তি হয় না। তবে আজ বোধহয় কোনটাতেই দুই হাত জায়গা খালি পড়ে নেই।
প্রতাপশালী মানুষের মৃত্যু। শত্রু-মিত্র সবাই ভেঙ্গে পড়ে একনজর শেষ দেখা দেখতে। লোকটার স্ত্রী-সন্তানেরা আছাড়ি-পিছাড়ি কাঁদে। স্বজন নারীরা সুর মেলায়। কিš‘ স্বজন পুরুষদের কাজ অনেক। তারা শুকনো চোখে গম্ভীর মুখে তাদের কর্তব্য করে। মানুষ মারা গেলে তার হ্যাপা কম না। নিজে মরে পরিবার-পরিজনকে আধমরা করে ফেলে। আত্মীয়-কুটুমদেরকে খবর দেয়া, লাশ ধোয়া, কাফন পরানো, দুনিয়া ঝেঁটিয়ে আসা চোদ্দ গুষ্ঠির আত্মীয়-অনাত্মীয়জনকে মুখ দেখানো, কবর খোঁড়া, বাঁশ কাটা, চালি বাঁধা, মাদ্রাসা-এতিমখানায় খবর দিয়ে চ্যাংড়া হুজুরের দল আনিয়ে খতমে কোরআন-লাখ কলেমা পড়ানো, জানাজা ইত্যকার ফ্যাকড়া সেরে লাশ কবর¯’ করার পর পাহারা দাও মাস কয়েক।
কবরে আবার পাহারা কেন?
আরে বাবা! জীবনের চেয়ে জীবনহীন দেহটা কি কম দামী? বরং বেশি। জীবনের বেলায় দামে পার্থক্য থাকতেই পারে। রাজা-রাজড়ার জীবন আর আবুল-কাবুলের জীবনের দাম নিশ্চয় সমান নয়। কিন্তু জীবনআধারের দামের বেলায় রাজায়-প্রজায় ফারাক বিশেষ নেইÑ সব একই উপাদানে তৈরি কিনা। কোন প্রকার ট্যাগিং ছাড়া অর্থাৎ নাম-পরিচয়হীনভাবে মাল বিক্রয় করলে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষণের বাজারে ট্রাম্পের হাড় আর কুড়িগ্রামের মঙ্গা মফিজের কঙ্কাল নিশ্চয় সমান দামে বিকোবে। তাই কবরের চারপাশে বেড়া দিতে হয় খুব শক্ত করে। শুধু বেড়া দিয়েই নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। বেড়া দিয়ে শেয়াল আটকানো গেলেও মানুষ আটকানো যায় না জেনে কবরের পাশে পাহারা দিতে হয় রাত-বিরেতেও। তা সে কাজ পালা করে করবার জন্য মুরুব্বীরা টিম গঠন করে দেছেন। শহরবাসী উঁচু দরের আত্মীয়ের আত্মীয় বলে সে টিমে আমার নামটা নেই। কাজেই নিশ্চিন্তে ঘুমানো যেতে পারে।
গত দুই রাতে ঘুম প্রায় হয়ই নি। মরাবাড়িতে ঘুম আশা করা অন্যায়। কিন্তু মানুষের শরীর তো! আজ সবাই শোককে সাময়িক সমাধি দিয়ে হলেও ঘুমে কাদা। এমনকি মৃতের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সেই মর্সিয়াগীতিও বিরাম নিয়েছে। পরশু কুলখানি। কাল সকালেই শুরু হবে সেই যজ্ঞদজ্ঞ আয়োজন।
নাহ্, বৃষ্টি না হলে বুঝি ঘর-বাড়ি জুড়োবে না। এদিকে বৃষ্টি হলে কুলখানির আয়োজনে সমস্যা হতে পারে। আবার এই গরমের দরুণ আজ রাতেও ঘুম না হলে বিপদÑ কাল সারাদিন খাটাখাটনি করতে হবে। শহুরে সুশীল হওয়ার এই এক সমস্যাÑপরিবেশের তারতম্যে অনভ্যাসের বায়ু মাথা চাড়া দেয়। অন্যরা তো এই গরমেও ঠিকই ঘুমো”েছ! কারো কারো নাক ডাকা দারুণ এক কনসার্টে রূপ নিয়েছে। এদের মধ্যে গায়ে গা লাগায়ে শুয়ে থেকে আমার ত্রাহি মধুসূদন অব¯’া। যখনকার ঘটনা তখন পৃথিবীর কোন কোনে মোবাইল ফোনের জন্ম হলেও বাংলাদেশের আমজনতা তার নাম শোনেনি। কাজেই নির্ঘুম রাত্তিরের একাকীত্ব মোচনের জাদুকরী দাওয়াই হাতের পাশে মজুদ ছিল না। নিরুপায় আমি ঘুটঘুটে আন্ধারে আকাশ-পাতাল ভাবতে থাকলাম। অন্ধকার এমনই ঘন যে নিজের হাত-পাও নজরে আসে না। এ ঘরটাতে ডিমলাইটের কোন বালাই নেই। বাইরে থেকে কোন আলো যে ভেতরে আসবে মফস্বলের প্ল্যানবিহীন ঘরবাড়িতে তেমন উন্নত ব্যবস্থাও নেই। ঠিক জানলার ওপারেই আগাছায় ছাওয়া আম-কাঁঠালের পুরনো বাগান……..
একঘেঁয়ে লাগছে। আসল গল্পটা পাড়ো।
এটা গল্প না, ঘটনা। আসল ঘটনা তো বলবোই। কিন্তু তার আগে পরিবেশ-পরিস্থিতির বর্ণনা না শুনলে তুমি এটাকে ঠিক উপলব্ধি করবে না, হয়তো ভুল বুঝবে।
ভুল বোঝার মতো কিছু এতে থাকলে আমি ভুল বুঝতেই পারি, তা তুমি যতই পরিবেশের ভুতুড়ে বর্ণনা দাও না কেন।
এটা ভুতুড়ে গল্প নয়। নিতান্তই মানবিক ঘটনা। হয়তো খুব ‘কমন’ ঘটনা নয়। তবে এমন যে ঘটে না, তাও হয়তো নয়।
এতো হয়তো-কিš‘ কোরো না তো। সোজা-সাপটা গল্পটা বলো। আমি আবার বেশিক্ষণ রহস্য সামনে করে বসে থাকতে পারি না।
বলছি। তবে তুমি একটু ধৈর্য্য ধরলে আমার বলাটা সহজ হয়। এমনিতেই এটা এমন এক ঘটনা যা ডিটেইল বলতে গেলে লজ্জ্বার মাথা খেয়ে তবে…….
বুঝেছি। আমি চুপ করলাম এবং অসীম ধৈর্য্য ধারণ করে থাকলাম। তুমি শুধু লজ্জ্বার মাথা না, চোখ-কান-হাত-পা সব হজম করে গল্পটা, থুড়ি, ঘটনাটা বলতে শুরু করো।
বেশ, শোনো, আমি হালকা চালেই বলার চেষ্টা করছি। তারপরও যদি এটা গুরুগম্ভীর শোনায় তবে তুমি শুধরে দিও।
গম্ভীর শোনালে ক্ষতি নেই। আমি সব রসের গল্পই হজম করতে জানি। তুমি হাস্য রসের সাথে করুণ রস মিশিয়ে বা বীর রস ঢেলেও বলতে পারো।
ওসব কিছু নয়। আমি আমার মতো করেই বলতে চেষ্টা করছি। শোন তাহলেÑ
ঘুম আসে না আসে না করেও কখন জানি ঘুম এলো। কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম ঠিক জানি না। এক সময় ঘুম ভাঙ্গল নরম চাপে ও কোমল ভারে।
প্রথম মনে হলো এটা স্বপ্ন। ঘুমের ঘোরে যেকোন সোমত্থ পুরুষই এমন স্বú্ন মাঝে মাঝে দেখে থাকে। কিছুক্ষণ নিঃসাড় পড়ে থেকে বুঝতে পারলাম যে এটা স্বপ্ন নয়।
সে আমার পরে হালকা করে চেপে থেকে হালকা ভাবেই সব ম্যানেজ করে নিল। আমার দেহ ঠিক যেন ম্যাজিকের মতোই তার সব নিঃশব্দ নির্দেশ পালন করলো। সত্যিই, শরীরটা কী এক আশ্চর্য জাদুখানা! ঠিক বুঝে নেয় কোন অঙ্গের কী চাওয়া।
কেউ কিছু বুঝতে পারলো না?
তা বুঝতে পারলে কি আর আজ এই গল্প তোমাকে করতে পারি?
হ্যা, তাও ঠিক। সেরাতেই ওরা তোমাকে ধরে……তা তোমার আশেপাশে যারা শুয়ে ছিল তারা কি কুম্ভকর্ণ?
সারাদিনের খাটাখাটনির শরীর। তাছাড়া আমরা দেহ সঞ্চালনে ছিলাম সর্বো”চ সতর্ক। আমাদের নিঃশ^াস-প্রশ^াসও আমরা জোর করে চেপে ছিলাম।
কী দারুণ আন্ডারস্ট্যান্ডিং! তুমি তাকে চিনেছিলে?
না।
সে তো তোমার ঘনিষ্ঠ কেউ হতে পারে। হয়তো তুমি শুধু ব্যাভিচার নয়, অজাচারই করে বসেছো।
আমি কী করেছি আমি জানি না। আমি শুধু জানি যে সেটা আমার জীবনে প্রথম এবং বিস্মৃতি না ঘটলে জীবনে কখনোই আমি তা ভুলতে পারবো না।
হুম, জীবনে প্রথম বলে শুধু নয়, তুমি ভুলতে পারবে না কারণ তুমি আর কখনোই অমন রহস্যের পুনরাবৃত্তি পাওনি।
তাও হতে পারে। বেহেশতি মেওয়াও নিয়মিত খেতে হলে মানবের রসনা তাতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
জানি। মানুষের এই ‘স্বভাবদোষ’ই জগতটাকে নতুনের প্রতি বাসনাব্যাকুল করে রাখে। আর এ কারণেই পৃথিবীটা দীর্ঘমেয়াদে একঘেঁয়ে নয়। তারপর বলো।
হ্যা, শোনো। আমরা বিযুক্ত হলাম। আমি উঠে সোজা ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানের এক কোনে পেয়ারা গাছটার নীচে দাঁড়ালাম। আকাশে শুক্লা একাদশীর চাঁদ। গাছের নীচটা ছায়াঢাকা।
শুক্লা একাদশী! বাহ্! এ যে একবারে কাব্যি কাব্যি গন্ধ!
ঠাট্টা নয়। আমি কিš‘ আগেকার দিনের মানুষের মতো বাংলা পঞ্জিকায় দিন-মাসের হিসাব রাখি। এটা আমার শখ বলতে পারো।
হুম, তারপর……
কতক্ষণ যেন দাঁড়িয়েছিলাম। তারপর একসময় মনে হলো, কেন আমি এখানে দাঁড়িয়ে? ওকে নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে? কিš‘ ওতো এমন কিছু বলেনি। আরে! ও তো কোন কথাই বলেনি। তাহলে আমি কেন ধরে নিলাম যে সে তার পরিচয় আমার কাছে গোপন রাখতে চায়? নাকি আমিই চাই না তাকে চিনতে? যাহোক, পা টিপে টিপে ঘরে ঢুকে আমার শোয়ার ¯’ানটা খুঁজে নিলাম। মনে হ”িছলো, এই বুঝি সে এখনো ওখানে! কিš‘ না, আমার ¯’ানটা আমি ফাঁকা পেলাম। শুয়ে পড়লাম এবং প্রতি মুহূর্তে ‘এই বুঝি সে আসে!’ আশঙ্কা ও আকাক্সক্ষা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সময়মতো, অর্থাৎ আমার ঘুম থেকে ওঠার স্বাভাবিক সময়েরও দুই ঘন্টা আগে বিছানা ছাড়তে হলো। সারাদিন নানা কাজের চাপের মাঝেও মন ও চোখ ইতিউতি অনুসন্ধান করে চললো। নাহ্, এমন কাউকে পেলাম না যার চেহারা বা অভিব্যক্তিতে গতরাতের কিছুমাত্র ছাপ দেখতে পাওয়া যায় ।
মনটা যেন কেমন করতে থাকলো। এই কেমন ভাবটা বাড়তে বাড়তে দিনশেষে এমন হলো যে কখন রাত ঘনাবে আর আমি কালকের সেই জায়গাটাতে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকার সুযোগ পাবোÑ এই প্রতীক্ষাটা অসহনীয় হয়ে উঠতে লাগলো। পরদিন সকালে কুলখানি। তিন হাজার লোকের খাওয়ার আয়োজন। আজ সন্ধ্যা থেকেই গরু-খাসি জবাই করা শুরু হয়েছে। সারারাত চলবে রান্নার আয়োজনের কাজ। সুবহে সাদিকের সময় সারি সারি ডেগ চড়বে ইটপাতা চুলায় লাকড়ির আগুনে। আমার পরে এখন তেমন কোন কাজের ভার নেই। কাজেই আমি ঘুমাতে পারি।
কালকের সেই স্থানটা আজ অনেকটা ফাঁকা। কিছুটা আলসে ও ঘুমকাতুরে যারা তারা ইতস্ততঃ শুয়ে আছে। আমি চেষ্টা করলাম ঠিক কালকের জায়গাটাতেই শুতে। পাছে সে আজ এলে আমাকে খুঁজে পেতে সমস্যা হয়! অমন করে ঠোঁট বাকাচ্ছ কেন? হাসছো, নাকি ঘেন্না করছো?
কিছু না। আমার দিকে আপাতত তাকিয়ো না। গল্পটা শেষ করো।
এটা গল্প নয়।
ঐ হলো। বাস্তব ঘটনা। তুমি তারপর বলো।
তারপর কিছু নয়। সে আসেনি। কেউই আর আসেনি। আমি প্রায় সারারাত জেগে থেকে বাইরে বাবুর্চিদের রান্নাবান্নার বিচিত্র কলতান শুনতে পেলাম।
ব্যাস্, এই?
না, শুধু এই হলে কি আর তোমাকে এটা শোনাতে বসি?
তাহলে?
আসল ঘটনা শুরু হলো এর ঠিক এক বছর পর থেকে। হঠাৎই একটা মোটা খাম পেলাম ডাকযোগে। প্রেরকের নাম ঠিকানা নেই। খুলতেই বেরিয়ে পড়লো গোটাকয়েক ছবিÑ একটি মাস দুই-তিনেকের শিশুর।
যাচ্ছলে! তামাশা তো বেশ!
হ্যা, তামাশাই বটে। এভাবেই চললো কিছু দিন। আমি ছয় মাস, নয় মাস, এক বছরের ছবি পেতে থাকলাম। সেসব ছবি দেশের বিভিন্ন জেলার ডাকঘরের ছিলমারা। শিশুটির চেহারার সাথে আমার পরিচিত কোন নারীমুখের মিল খুঁজতে বহু চেষ্টা করতাম। বহু নির্জন সময়ে আমি ছবিগুলো সময় নিয়ে দেখতাম। খুব ইচ্ছে করতো আমার স্বজনদেরকে ছবিগুলো দেখিয়ে জানতে চাইতে যে তারা কার সাথে এর মিল খুঁজে পায়। কিন্ত যেসব কারণে আমি তা করতে সাহসী হইনি তার মূলটা এইÑ শিশুটির চোখদুটো একদম আমার মতো দেখতে।
শিশুটি ছেলে না মেয়ে?
প্রথম দিকে বোঝা যায়নি। এমন পোষাক পরাতো যা ছেলে-মেয়ে যে কারোর হতে পারে। আর সে দেখতেও এমন মিষ্টি যে কী বলবো! কিন্তু পরে পাঁচ বছরের ছবিটা দেখে আমি বুঝতে পারি যে কিছু একটা গণ্ডগোল আছে। ফ্রক পরা সত্ত্বেও বাচ্চাটাকে কিছুটা ছেলে ও কিছুটা মেয়ের মতো দেখাচ্ছে।
সে কী!
হ্যা, ওর এই সমস্যা ধরা পড়ার পর আমি আমার মধ্যে এক অদ্ভূত উদ্বেগ অনুভব করতে লাগলাম। বাচ্চাাটাকে দেখার জন্য, ওর কোন উপকারে আমি লাগতে পারি কিনা তা জানার জন্য মনটা সারাক্ষণ কেমন করতে লাগলো। কিন্তু আমি যে ওর ঠিকানা জানি না।
চুপ হয়ে গেলে কেন? তারপর কী হলো?
তারপর! তারপর যা হয়েছে তা কি তুমি দেখতে চাও? পারবে তুমি তা স্বাভাবিকভাবে নিতে?
দয়া করে রহস্য না বাড়িয়ে আমাকে সব বলো। কিছু দেখাবার থাকলে দেখাও।
বেশ তবে দেখো……
একটি পেনড্রাইভ। কম্পিউটারে সংযোগ, দুইটি ক্লিক।
হাই বাবা! বাবা, আমি তোমার সন্তানÑ ইয়োর বায়োলজিক্যাল চাইল্ড। আমি তোমাকে দেখিনি। এমনকি তোমার কোন ছবিও নয়। মায়ের কাছে তোমার কোন ছবি নেই, থাকার কথাও না। আমার মায়ের আঁকাআঁকির হাতটাও নেই যে তোমার কোন স্কেচ এঁকে দেখাবে। মায়ের ভেতরে কোন সাহিত্যগুনও নেই যে সুন্দর করে তোমার চেহারা বর্ণনা করবেÑ এমন বর্ণনা যা শুনে আমি তোমাকে মনের চোখে এঁকে নিতে পারি। তবু স্বল্পভাষী মায়ের মুখ থেকে তোমার যেটুকু পরিচয় জানতে পেরেছি তাতে মনে হয় তুমি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়, পৌরুষদীপ্ত চেহারার মানুষ। অবশ্য মা এটা না বললেও আমি এমনই অনুমান করতাম কারণ একজন নারী তার গর্ভে সন্তানের বীজ প্রোথিত করার উদ্দেশ্যে হোক কি নিছক যৌনতৃপ্তির জন্যই হোক, স্বাধীন নির্বাচনের সুযোগ পেলে অবশ্যই বেছে নেবে কোন সুদর্শন, সুস্বা¯ে’্যর অধিকারী পুরুষকে। তোমার হয়তো মনে হতে পারে যে এটা আমি কী করে বুঝতে পারিÑ আমি তো…..। তোমরা অনুভব করো কিনা জানি না, বিধাতা আমাদেরকে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করেছেন কিন্তু‘ সৌন্দর্যের প্রতি ঝোঁক দিয়েছেন অতিমাত্রায়। আমাদের কারো কারো সাজগোজের উৎকটতা দেখে তোমরা হাসাহাসি করো, কিন্তু তোমরা ভেবে দেখো না যে, এই সজ্জাপ্রবণতা আমাদের স্বভাবগত। যারা নিজেরা সাজতে পছন্দ করে তারা কিন্তু তাদের চারপাশকেও সজ্জিত দেখতে চায়। যদিও এই সাজসজ্জার ব্যাপারে ব্যক্তিবিশেষে রুচির ভিন্নতা থাকে। তবুও মোটের উপর আমাদের সবারই একটা কমন সৌন্দর্যবোধ থাকে এবং সেই বোধ থেকে আমরা অন্যের রুচিবোধের ব্যাপারটা বুঝতে পারি।
এই যে খুব ‘আমরা আমরা’ করছি, ভেবো না যে আমি আমাদের কমিউনিটির সাথে বাস করি বা ওদের সাথে খুব মেলামেশা করি। আমি আমার মা ও পালকবাবার সাথে আর পাঁচজন সাধারণ শিশুর মতই জীবনের প্রথম দশটি বছর কাটিয়েছি। বাবা না বলে পালকবাবা বলছি কারণ তিনি আমাকে পালন করেছেন বা করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু একজন বাবা যেমন তার সন্তানকে নিজের অংশ বলে মনে করেন তা তো তিনি আমাকে ভাবতে পারেননি। আমার জন্মদান প্রক্রিয়া নিয়ে তার কোন আপত্তি না থাকলেও আপত্তি হলো আমার জননাঙ্গ নিয়ে। তিনি নিজের জননাঙ্গের অক্ষমতাকে মেনে নিলেও আমার জননাঙ্গের অপূর্ণতা মানতে পারেন নি ।
এরপর গত দশ বছর আমার একা থাকার কাল এবং সেই সাথে সময় নিজের হাতে নিজেকে গঠনের। তোমরা যাকে ভালো ক্যারিয়ার বলো তা গড়বার মতো যোগ্যতা ও অধ্যবসয় আমার ছিলো এবং আছে। কিন্তু দিনে দিনে আমি আবিষ্কার করছি যে আমার সব যোগ্যতা ও গুন জননাঙ্গত্রুটির ছায়া গ্রাস করে নিচ্ছে।
বাবা, এই পৃথিবীর বড় অংশটাই তোমাদের মানে পুরুষদের দখলে। তোমরা তোমাদের ইচ্ছেমত পৃথিবীটাকে সৃষ্টি করো, বদলে দেও, ধ্বংস করো। নারীরা তোমাদের সৃষ্টিকে রচনা করে, বদলকে ত্বরান্বিত করে, হয়তো ধ্বংসেও সহায়তা করে। কিন্তু আমরা কী করি? তোমাদের সৃষ্টি-ধ্বংসের খেলার মাঝে আমাদের ভূমিকা নিছকই ক্লাউনের। আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা মানুষ ক্লাউন ছাড়া আর কোন ভূমিকাতেই বা সফল অভিনয় করতে পারে? তাই পৃথিবীর এ রঙ্গশালায় আমাদের উপস্থিতি গৌণ ও কৌতুকপ্রদ।
একটা সময় পর্যন্ত আমি ওদের সাথে মিশতাম না। পথে-ঘাটে, হাট-বাজারে ওদের দেখলে মুখ ফিরিয়ে নিতাম। আমাকে এমনটাই করতে আমার মা শিখিয়েছিলেন। পাছে ওরা আমাকে ওদের একজন বলে চিনে ফেলে এই ভয়ে ওদের উপস্থিতি বুঝলেই আমি ভেতরে ভেতরে সিঁটিয়ে যেতাম। আমার যখন আট বছর বয়স তখন একদিন আমি আমাদের দিনাজপুরের বাসার পাশে একটা ছোট্ট মাঠে খেলতে থাকাকালে প্রথম ওদের নজরে পড়ে যাই। তারপর ওরা এমন যন্ত্রণা শুরু করে যে পালকবাবা তার হেড অফিসে দেনদরবার করে বদলীর ব্যবস্থা করে আমাদের নিয়ে রাজশাহী চলে আসেন। কিভাবে যেন ওরা আমাদের এখানকার ঠিকানাও একদিন পেয়ে যায়। পরে বুঝেছি যে ওরা দারুণ সংগঠিত। হয়তো দিনাজপুরের ওরা বাবার অফিসে খোঁজ নিয়ে রাজশাহীর ওদেরকে জানিয়েছিল। সেদিন প্রথম আমার পালকবাবা উচ্চারণ করে এমন কিছু চরম কথা যা থেকে আমি বুঝতে পারি আমার জন্মবৃত্তান্ত, সেই বৃত্তান্তের হীনতা, এই পৃথিবীতে আমার অবস্থান, মানুষ হিসাবে মানুষের চোখে আমার মূল্যায়ন। তখন আমার বয়স দশ বছর।
সেদিনই প্রথম আমি যাই ওদের ডেরায়। ওরা আমাকে লুফে নেয়। আদরে আদরে এক হুলস্থুল পরিবেশ তৈরি হয়। ওদের সে আদরের সাথে আমার পূর্বপরিচয় ছিল না। ওদের সে আদর আমার মায়ের করা আদরের থেকে অনেক ভিন্ন। তবু আমি সে আদরে এমন এক আন্তরিকতা অনুভব করি যা আমি এতদিন কোথাও পাইনি। কেন জানি মনে হয় ওরাই আমার সত্যিকারের আপন মানুষ। এতদিন যেন সবাই আমাকে নেহাত করুণা করেই সহ্য করেছে।
আমি বদলে গেলাম। ভেতরে ভেতরে। কেউ জানলো না। শুধু আমি বুঝলাম আমার সে বদল।
আমি একা হলাম। কেউ জানলো না আমি কতটা একা। বাইরে আমার মা আমাকে তার স্নেহের ছায়ায় ঘিরে থাকলো। পালক বাবা তার দায়িত্ব পালন করে যেতে লাগলো প্রায় প্রশ্নাতীত নিষ্ঠতায়। তবু আমি জানলাম আমি একা। এতবড় পৃথিবীতে আমার সত্যিকার আপন কেউ নেই।
এদিকে আমার শরীরটাও বদলাতে থাকলো। আমাকে দেখে যেকেউই বুঝে ফেলতে লাগলো যে আমি তাদের চেয়ে আলাদা। শুরু হলো সমাজের অত্যাচার। সবাই আমার দিকে এমন করে তাকাতে লাগলো যেন তারা আমার পোষাক ফুঁড়ে বড়ই অনুসন্ধিৎসার সাথে দেখে নিচ্ছে ভেতরটা। আমি কুঁকড়ে যেতে থাকলাম। নিজেকে মনে হতো কেন্নোর চেয়েও ঘৃণ্য কোন কীট। কিন্তু আমার মতো কীটেরা যেখানে চাক বেঁধে থাকে সেখানে আমি আর ঘুনাক্ষরেও যেতাম না। বড়িমা আমাকে যেতে মানা করেছিল। ও হ্যা, তোমাকে তো বড়িমার কথা কিছু বলাই হয়নি। বলছি…….
রাজশাহীর যে বস্তিতে ওরা থাকে সেখানে বড়িমা ওদের গডমাদার। বড়িমার আসল নাম আমার জানা নেই। ওখানকার সবাই তাকে বড়িমা বলে ডাকে এবং প্রচণ্ড সমীহ করে। আমি যেদিন গিয়েছিলাম সেদিন ওদের কার যেন ছিল জন্মদিন। জানো বাবা, ওরা জন্মদিনও পালন করে। করবে না? লালনভক্ত বড়িমা বলে, এমন মানব জীবন আর কী হবে……। মানুষ হয়ে জন্মানোটাই নাকি বড় ভাগ্যের ব্যাপার। কে কিভাবে কার দ্বারা জন্মালো, কে কোন লিঙ্গ নিয়ে নাকি না নিয়ে জন্মালো, সেটাও নাকি কোন ব্যাপার না। বড়িমার কথা ও ব্যক্তিত্ব আমাকে অল্প সময়েই কেমন মোহিত করে ফেললো।
বড়িমা আমার পুরো পরিস্থিতি শুনলেন। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, তুই পারবি, তোকে দিয়ে হবে। শুধু তুই আমাকে কথা দে, যদ্দিন তুই পারার উপযুক্ত না হবি তদ্দিন তুই এখানে আসবি না। এখানে না, কোনখানেই না। আমাদের ছায়াও তুই সজ্ঞানে মাড়াবি না। তুই তৈরি হ। তারপর আসিস। আলো নিয়ে আসিস।
আমাকে দিয়ে কী হবে, কেন আমাকে ওখানে যেতে নিষেধ করা হলো, কী আলো আমি নিয়ে ফিরব তা সেদিন আমি তেমন না বুঝেও কী এক ঘোরের বশে বড়িমাকে কথা দিলাম, হাঁ, তাই হবে।
বাবা, সেই আলো আমি এখন খুঁজে ফিরছি। আমি আলো হাতে ওদের কাছে যেতে চাই। তুমি হয়তো ভাবতে পারো, আমি কি বড়িমার কথা মতো তৈরি হয়েছি? এই তৈরি বলতে বড়িমা কী বুঝিয়েছিলেন?Ñ আমার শিক্ষা? ক্যারিয়ার? অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা?  ব্যক্তিত্বের বিকাশ? উচিৎ-অনুচিৎ, ভুল-শুদ্ধ বুঝবার ক্ষমতা? নাকি স্বাধীনতা-স্বকীয়তা-মানবিকতাবোধ নিজের মাঝে লালন ও অন্যের মাঝে উন্মেষ ঘটানোর যোগ্যতা অর্জন? কেন যেন মনে হচ্ছে আমি এখন তৈরি। এর চেয়ে বেশি তৈরি হতে গেলে বড় দেরি হয়ে যাবে। আরো পরে সমাজের তথাকথিত একজন হয়ে উঠলে আজ আমি যা করতে চাইছি তা করতে সক্ষম নাও হতে পারি। জানোই তো, ক্লিব লিঙ্গ যখন ক্ষমতাধর হয় তখন সে নিজের ক্লিবত্ব লুকাতে বড় বেশি রকম ‘পুরুষ’ হয়ে ওঠে। স্বীয় যোগ্যতায় ক্লিবত্বকে সমাজের মুখের উপর স্বাভাবিক বলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে তারা নিজেদের লিঙ্গপরিচয় লুকিয়ে রাখে বলেই ক্লিবলিঙ্গীয়রা সমাজের চেখে আজো ট্যাবু।
যাহোক, কথা এই যে, আমি এখন বড়িমার কাছে যেতে চাই। তবে ওদের একজন হয়ে হাট-বাজারে তোলা তুলতে, ভিক্ষা মাঙতে, বাচ্চা নাচাতে, চাঁদা চাইতে, বেশ্যাগিরি করতে কিংবা এই সমাজের মুখের উপর কাপড় তুলে দেখাবার হুমকি দিতে নয়। আমি সমাজকে হুমকি দিতে চাই না, বরং সমাজমানসে বদল ঘটাতে চাই। আর এ কাজে তোমার সহযোগিতা চাই।
নিশ্চয় এবার তোমার ভুরু কুঁচকে গেছে। তুমি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছো। কিভাবে তুমি আমাকে সাহায্য করবে, তাই তো? খুব ছোট্ট দুটো কাজ তোমাকে করতে হবে, বাবা। আমি যে তোমার ঔরসজাত সন্তান তা তুমি সমাজের সম্মুখে স্বীকার করবে। আমাকে তোমার উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা দেবে। তোমার একরাতের ক্ষণিকের দূর্বলতা ও রহস্যকে তুমি স্বাভাবিক বলে স্বীকৃতি দেবে। কি, পারবে না? তুমি এটা করতে পারলে আমি পারবো আমারটুকু করতে। শুধু তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়, আমরা যে সমাজের আর পাঁচজনের মতোই স্বাভাবিক মানুষ, আমাদেরকে দেখে যে উপহাস করবার কিছু নেই, রস উথলে ওঠা দাঁত কেলানো হাসি যে আমাদের প্রাপ্য নয়, তা আমি বুঝিয়ে দিতে শুরু করবো সমাজকে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রকে বাধ্য করবো তার পরিচালন দলিলে আমাদের অস্তিত্ব স্বীকার করতে। আমাদেরকে বিশেষ নাগরিক বলে ঘোষণা করে আমাদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে।
বাবা, পবিত্র ধর্মগ্রন্থ’সমূহের মতোই আমাদের মহান সংবিধানেও আমাদের বিষয়ে কোথাও কিছু বলা নেই। ধর্মে যেমন ইহকালের জন্য নারী-পুরুষের জীবনবিধান নির্দেশিত হয়েছে, পরকালে বিচার-পুরস্কার-শাস্তির বিষয়ে কেবল নারী ও পুরুষের কথা বলা হয়েছে,সংবিধানের কিছু ধারায় তেমনি নারী-পুরুষের সমতা ও সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে। ধর্মপ্রবর্তক ও সংবিধানপ্রণেতা উভয় শ্রেণীই আমাদের কথা ভুলেছে, বাবা। আবার আমাদের সংবিধানের একটা ধারায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠিীর বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা কি পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী নই? তাহলে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কেন আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদেরকে ভুলে আছে?
হ্যা, আজ আমি রাষ্ট্রের কাছে বিশেষ অধিকার চাইছি। কিন্তু যেদিন তুমি আর আমি সমান মানুষ বলে গন্য হবো সেদিন কোন বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে না। ঠিক যেমন যেদিন মানুষের জন্মমাত্রকেই স্বাভাবিক বলে গন্য করা হবে সেদিন ‘বাস্টার্ড’ বলে কোন শব্দ থাকবে না। কোন শিশুকে তার পিতৃপরিচয় নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগতে হবে না। কোন কোকিলকে কাকের বাসায় ডিম পেড়ে সাধুর ভেক ধরে কাল কাটাতে হবে না। তুমি বলতে পারো, এমন সমাজ তো ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা-অষ্ট্রেলিয়ার দেশে দেশে, এশিয়ার কিছু দেশেও এ ঢেউ লেগেছে, এতে নতুনত্ব কী। নতুনত্ব নেই বাবা, তবে স্বাভাবিকত্ব আছে। এই স্বাভাবিকতাটাই আমাদের চিন্তা জগতে বড় অনুপস্থিত। নইলে দুজন নারী-পুরুষ পরস্পরের পছন্দে কিছু একান্ত সময় কাটালো, তাদের সন্তান হলোÑ এক্ষেত্রে তারা বিবাহিত কিনা অর্থাৎ ধর্ম বা সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক তাদের এ মিলন অনুমোদিত কিনা এ প্রশ্ন আসে কেন? একইভাবে কোন শিশু কী লিঙ্গ নিয়ে জন্মেছে তার উপর তার গ্রহনযোগ্যতা ও মর্যাদা নির্ভর করে কেন?
এই কেনগুলো তুমি একটু ভেবে দেখো, বাবা। আর ভাবো তুমি আমার জন্য কতটা সৎ হতে পারো। ভণ্ডামিই যেখানে ‘জীবনবিধান’ সেখানে সৎ হতে পারার চেয়ে শক্ত কাজ তো আর নেই।
বাই বাবা। তোমার সন্তান তোমার জবাবের অপেক্ষায়……….
তুমি কি তাহলে ওকে স্বীকৃতি দিতে চাইছো?
স্বীকৃতির প্রথম ধাপ তো এইমাত্র পেরুলাম।
তুমি এর পরিণতি জানো?
আশাকরি, এভাবে যুগ যুগ ধরে অন্যায়গুলো চলতে দেয়ার চেয়ে তা খারাপ নয়।
বেশ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।