কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

হলুদিয়া অনুভূতি
শীতের শীর্ণ নদীর কষ্টের
পরাগরেনু লেগে থাকা
ভালোবাসার প্রজাপতি
পরিযায়ী পাখিদের মতোই
উড়ে যায় দূরে
অদৃশ্যমান কোনো এক
বরফ ঢাকা পাহাড়ের দিকে!
ততোদিনে হৃদয়ে জমেছে
কতো অভিমানের হলুদ পাতারা,
ওরা উড়ে উড়ে
ঝরে পড়ছে বুকের গহীনে!
বোবা কান্নারা অনুভূতির পাঁজর ভেঙে
বেরিয়ে আসতে চায় অথচ
অভিমানের গাঢ় মেঘ সীমান্তের
সতর্ক প্রহরীর মতো সজাগ দৃষ্টি রেখে
জানিয়ে দেয় এই নিষিদ্ধ শহরে
ভালোবাসার কোনো স্থানই নেই,
আছে শুধু নকশীকাঁথায় মোড়া
থরে থরে সাজানো ভালোবাসার লাশ!
এ যেনো কোনো এক যুদ্ধে
পরাজিত সৈনিকদের অবহেলায়
পড়ে থাকা অবিশ্বাস, সন্দেহ আর
ঘৃণায় দৃষ্টিহীন দৃষ্টি নিয়ে
নিঃসীম শূন্যের দিকে
অর্থহীন তাকিয়ে থাকা!
তবুও মানুষের হৃদয়ে উথলে ওঠে
অবিরাম ভালোবাসার নদীর জোয়ার ,
জাগায় প্রাণে প্রাণে শরতের
ছাতিমফুলের সুঘ্রাণ মাখানো মদিরতা,
বেঁচে থাকার জন্য অকুল তৃষ্ণার
জলের মতো শুভ্র প্রেম!