প্রেমই সবচেয়ে বড়ো রোগ
জ্বী, একদমই ঠিক!
প্রেমই সবচেয়ে বড়ো রোগ পৃথিবীতে,
এর চেয়ে বড়ো কোনো রোগ আর হয় না
এবং এই রোগে আক্রান্ত হবার মতো
মজাও আর কিছুই নেই পৃথিবীতে।
কারো প্রেম রোগ সেরে গেলে
সেই মানুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন নগরীর
মতোই অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে!
যদি কারো রোগটা থাকে আমৃত্যু,
তবে সে মরেও অমর,
ক্ষয় থাকবে আর ভালোবাসা?
সেটা তো ক্ষণিকের মোহমায়া মাত্র!
বড়োজোর দুনিয়া ছেড়ে গেলেই শেষ!
হয়তো কয়েকটা দিন কিংবা কিছু বছর
অথবা আমৃত্যু বিষণ্ণতায় কাটাবে,
তার বেশি কিছু নয়!
প্রেম কিভাবে হয়?
প্রেম হয় কাউকে না দেখেই পরম ভক্তি,
ভয় ও ভালোবাসা থেকে !
এখানে কোনো জাগতিক কামবাসনা
থাকে না, চাওয়া পাওয়ার কোনো
আকাঙ্ক্ষা থাকে না, শুধুই তাঁর
পরম আশ্রয়ে অলৌকিক ও অদেখা
আরশের ছায়ায় আশ্রয় ধন্য হওয়াই
উদ্দেশ্য থাকে এমনকি কুরআনে বর্ণিত
হুর, গেলমান ও মাছের কলিজা ভুনা
এবং জীবন্ত পাখির ঝলসানো রোস্ট
খাবার বাসনাও উবে যায় প্রেমিকের,
সে শুধু চায় তার প্রেমাস্পদ মহান স্রষ্টাকে।
ভালোবাসার ক্ষেত্রে তা হয় না!
এখানে থাকে জাগতিক কাম বাসনা!
যে প্রিয়ার চুলের গন্ধ একসময়
নিজেকে পাগল করে তোলে,
মোহাবিষ্ট করে রাখে তার শরীরের
নিজস্ব ঘ্রাণ, তা একদিন জীবন ও
জীবিকার তাড়নায় ফিকে হয়ে আসে!
শরীর ও মন একদিন পুরনো হয়ে যায়
বহুল ব্যবহৃত শাড়ির মতো রঙ
জ্বলে গিয়ে ফিনফিনে এবং শতচ্ছিন্ন
দাগ লেগে থাকে তার সেখানে!
ভালোবাসা শেষ রাতের ম্লান চাঁদের
মতো হয়ে যাবে কখনো অবহেলায়,
কখনো আর্থিক দৈন্যতায়!
যে প্রিয়ার কোলে মাথা রেখে
একটা সময় ভাবতে গল্প শুনবে কিংবা
তার গুনগুন সুরে গান শুনবে
বকুলের গন্ধে মাতাল জ্যোৎস্না রাতে,
তাও একদিন আর ইচ্ছে করবে না
যদি না দুইজনেরই মন তখনো
এক না থাকে কিন্তু প্রেম থাকবে
অনন্তকাল ব্যপী মানুষের হৃদয়ে অম্লান,
চির জাগরুক এবং থেকে থেকেই
সে উজ্জ্বলতা বাড়াবে আর নতুন নতুন
আলোয় উদ্ভাসিত হবে মানুষের জীবনে।
(কবিতাটি উৎসর্গ করলাম প্রিয় কবি আপু কোহিনুর রহমানকে, যিনি আমার ” আমার স্বীকারোক্তি ” নামের একটি কবিতায় মন্তব্য লিখতে গিয়ে আমাকে কবিতাটি লিখার জন্য আমার মনন ও মগজের বাগানে পানি দিয়ে আমকে উসকে দিয়েছেন লিখার জন্য। কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা প্রিয় কবি আপু।)