কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

একজন মধ্যবিত্তের প্রায় প্রৌঢ় অর্ধমানুষ
এখন ঘুম খুব সহজেই আর আসে না
চোখে, নিদ্রাহীন কৃষ্ণচূড়া চোখ দুটো
কচলাতে কচলাতে একসময় চুপ করে
ঘর থেকে বেরিয়ে হাঁটতে থাকি আমার
প্রিয় শহরের অলিগলি, চোখের সামনে
তখন উঠে আসে বন্ধ দোকানপাটের
সামনে গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন কোনো
পথশিশু গুটিশুটি মেরে গভীর ঘুমে মগ্ন!
ঘুমের মধ্যেই ওর খালি পেটের উত্থানপতন
দেখে মনে হচ্ছিলো ও কোনো স্বপ্ন দেখছে।
ওর পাশেই একটি বেওয়ারিশ কুকুরও
ঘুমাচ্ছে, ঘুমের ভিতরে ঐ শিশুটির চোখ
হয়তো স্বপ্নে কাচ্চি বিরিয়ানির লোভনীয়
গন্ধে পেট মুচড়ে উঠছে বারবার,
ঘুম ভাঙা চোখে তাকে দেখলাম পেপসির
বোতল হতে কিছু জল খুব দ্রুততার সাথে
শেষ করে একদলা থু থু রাস্তার ওপর
ফেলে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।
একটা ছোট্টো পাখি কে তখন উড়ে যেতে
দেখলাম ডানা ঝাপটিয়ে অজানা গন্তব্যের
পথে, এবার আরো একটু একটু করে
এগিয়ে গেলাম অলিগলি পথ ধরে
মীরপুর রোডে, এখানে দেখি একজন মা
তার কোলের শিশুকে আর একজনের
কোলে দিয়েই দ্রুত এদিক ওদিক দেখে
নিয়ে একজন মোটা লোকের সাথে একটি
রিকশায় উঠে পড়লো খিস্তিখেউড়ের বন্যা বইয়ে দিয়ে, ওর শরীরের উৎকট পারফিউম
এর ঘ্রাণ রাস্তার পাশে থাকা
মিউনিসিপালিটির ময়লা পরিবহনের
ট্রাকের সঙ্গে মিশে গেলো।
এভাবে প্রতিদিনই মানুষের স্বপ্নের
হত্যাদৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে করতে ফিরে চলি
আবার নিজের ডেরায় নিদ্রাহীন, তন্দ্রাহীন,
ক্লান্ত এবং নিজের অক্ষমতায় হতাশ
একজন মধ্যবিত্তের প্রায় প্রৌঢ় অর্ধমানুষ!