কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির

কবিতা গুলো না আসলে
ঐ তো দ্যাখ, কবিতা হেঁটে যাচ্ছে
কোমরসমান ডুবে যাওয়া অশ্রজলের
বন্যায় আশ্রয়হীন অথচ আকাশটা কী
ভীষণ পরিষ্কার! চাঁদের আলোর বন্যায়
ভেসে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, খেলার মাঠের
সবুজ ঘাসের ডগায় লেগে থাকা
শিশিরবিন্দু গুলো হাসছে কী সুন্দর!
কবিতা গুলো কলা গাছের ভেলায় চেপে
নিরুদ্দেশের পথে চলেছে একাকী
মৌন ধীর পায়ে পায়ে,
চলে যাচ্ছে প্রাণহীন এ শহর ছেড়ে।
হেমন্ত সন্ধ্যায় শিউলির গন্ধে মাতাল
প্রেমিকের হাত ধরে সলাজ নতমুখে
হেঁটে চলেছে যৈবতি কন্যা, তার উচ্ছাসে
উপচে পড়া হাসিমুখ দেখে জ্যোৎস্না
রাতও তার পিছু নিয়েছে হেসে হেসে!
সবকিছুই চলছে ঠিকঠাক, শুধু কবিতাই
বিষণ্ণ ভীষণ, কবির কলমে আর আসছে
না কোনো অমল কবিতা, বেরুচ্ছে শুধু
গলগল করে হৃদয়ের লাল কষ্ট,
নীল কষ্টের মেঘেরা উড়ে যাচ্ছে
দিকহীন নিরুদ্দেশের পথে।
কবিতা আর ধরা দিচ্ছে না কবির
হৃদয়ের পুঁইডগার মতো নরম কলমের আগায়,
কবির চক্ষু তাই রক্তজবা , চুল গুলো উস্কুখুস্কু,
ছড়িয়ে আছে পানের লাল পিক যত্রতত্র,
পাণ্ডুলিপির পাতার ওপর মরা পোকামাকড়,
নিঃশব্দ কান্নারা ভিড় করে আছে
কবির সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে,
কবি তাই ভীষণ অসহায়,
এমন উদাসবাউল মনে কবিরও
ইচ্ছে করছে তাই হারিয়ে যেতে
দিকশূন্যপুরে যে কোনো সময়!
অথচ কবিতা গুলো না আসলে
কবির জীবনে আর থাকে কী!