T3 || কালির আঁচড় পাতা ভরে, কালী মেয়ে এলো ঘরে || লিখেছেন গীতালি ঘোষ

হেমন্ত-লক্ষ্মী
অনেক অনেক দিন পরে এ শহরে হেমন্ত যেন সন্তর্পণে পদার্পণ করেছে। সেই মন কেমন করা বিষণ্ণতার গন্ধ মেখে আজ সে আমাদের মধ্যে এসেছে। পুজো পরিক্রমার পরে ভোরের আকাশ হাল্কা কুয়াশাচ্ছন্ন, খুব কাছের জিনিস তেমন দৃষ্টিগোচর হয় না…. হাল্কা একটা শীতের আমেজ যেন হঠাৎ ধরা পড়ছে। রঙিন রঙিন প্রজাপতিগুলো হঠাৎ করে কেমন ব্রোঞ্জের ডানা মেলে উড়তে শুরু করছে। সেই জীবনানন্দের প্রিয় মর্বিড হেমন্ত কাল এই শহরের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। ছোটবেলা মনে পড়ে যাচ্ছে… সেই নাক সুড়সুড় করা… গলা খুসখুস করা… বিমল করের অনেক উপন্যাসের মত…. কেমন এক মনকেমনকরা ভালো লাগায় ডুবে যাওয়া। ভারি ভালো লাগছে আজ… শিশির ঝরা ভোরে লক্ষ্মী ঋতুর আগমন… বহু বহুদিন পরে… মন ভালো হয়ে গেল।
ভাবতে ভালো লাগল… এই অবসন্ন ঋতুতে মাঠ ভরে উঠবে সোনালী ধানে… নূতন ধান্যে হবে নবান্ন। সকলের ঘর ভরে উঠবে নতুন ফসলে। সন্তান থাকবে দুধে ভাতে। তাই তো হেমন্ত এক লক্ষ্মীমন্ত ঋতু। বিষাদের অবগুন্ঠনে ঢাকা এক আনন্দময় কাল। দীপালিকায় আলো জ্বালিয়ে, আকাশ প্রদীপ জ্বেলে সকল পূর্বজকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে হেমন্তিকা এক অপরূপ আবেশ ছড়িয়ে আসে গোপন পদসঞ্চারে। অনবধানে এই ঋতুকে আমরা হারিয়ে ফেলি।
আমাদের ইঁট কাঠ পাথরের শহরে এসেছে আজ সেই হেমন্তের মরে যাওয়া রোদ্দুর। সেই রোদ্দুরে আমরা আজ মন প্রাণ ভরে ভিজতে থাকি।।