সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে গোবিন্দ ব্যানার্জী (পর্ব – ৮)

পাহাড়ী গ্রাম সূর্যোন্ডি

আদিম পৃথিবীর সুঘ্রাণের ভিতর যে নীরবতা, আর
নৈঃশব্দের গভীরে যে অপেক্ষা… তার তুলনা এসে
পড়লে, ধ্যান ভাঙতে দেরী হয়ে যায়। অর্থাৎ এখন
সময় মহুলের সুগন্ধে বিমোহিত হওয়ার। গুরুপদ
ব’সে আছে আগামীকালের পরিকল্পনাটা সাজিয়ে
নেয়ার জন্যে। গার্গীর মেয়েটা মা’র পাশে চিৎ হ’য়ে
শুয়ে আছে। মনযোগ দিয়ে মোবাইল স্ক্রীনে কিছু
একটা করার চেষ্টা করছে। হাতে উঠে আসছে
নরম টাটকা মহুয়ার আমেজ। এমনকি গার্গীও হাত
বাড়িয়ে বলছে… আগে কখনো মহুলের স্বাদ নেয়া
হয়নি, আজ একটু… শঙ্করদা, অল্প একটু দাও।

যদিও রাত বেশী হয়নি। কিন্তু রাতের খাওয়ার
ব্যবস্থা করতে হবে এখনই। এবং এই সময় মহুলও
শেষ হ’য়ে গেছে। টুটুন শুয়ে প’ড়ে একটু কাছে এসে কানের কাছে কিছু বলতে চাইছে শব্দহীন। শুনতে
না পেয়েও বিছানা ছেড়ে নেমে পড়তে হ’চ্ছে। কালি
বলছে… গার্গীদি, তুমি মেয়েকে নিয়ে ঘরে থাকো,
আমরা রাতের খাওয়ার ব্যবস্থা ক’রে আসছি।
ঘরের বাইরে এসে টুটুন বলছে… একদম বাইরে
চলো, বাস স্ট্যান্ডের উল্টো দিকে আমার পরিচিত
একটা হোটেল আছে, ওখান থেকেই যা হোক নিয়ে
ঘরে এসে খাওয়া যাবে। অতএব নীহারিকার দীর্ঘ
সবুজ পথ পেরিয়ে, উন্মুক্ত খাওয়ার জায়গাটাও
পেরিয়ে চলেছি। শঙ্কর কম কথা বললেও, কাজের
কাজটা ঠিক সময়ে ওই করে। যেমন এক্ষণে…
মহুল তো শেষ হ’য়ে গেছে দাদা। গুরুপদকে ব’লে
খানিকটা আনানো করা যায় কি না একটু দেখুন।
সে কথা গুরুপদকে যখন বলছি, তখন আমরা ঐ
বর্ণনা করা হোটেলের সামনে এসে গেছি। এবং
টুটুন সকলের জন্যে চা’য়ের অর্ডার দিয়ে দিচ্ছে।
গুরুপদর সঙ্গে একটি ছেলে আছে, এখানে হয়তো
অপেক্ষা করছিল এতক্ষণ। আর ওদের সঙ্গে আছে মোটরসাইকেল। মহুলের কথাটা প্রসঙ্গে ও রাজি
হ’য়ে গেল। একই সময়ে চা’য়ের গ্লাস ধরা হাত দ্রুত
ওঠানামা করছে ঠোঁটের কাছে। শঙ্কর উঠে পড়ল
বাইকের পিছনে। আর টুটুন হোটেলে কর্মরত কম
বয়েসী ছেলেটিকে রুটি, তরকারি ও গোটাকয়েক
ডিম ওমলেট তৈরী ক’রে প্যাকিং-এর কথা ব’লে
দিচ্ছে। ছেলেটি আধ ঘন্টা সময় চেয়ে নিল।

কিছুটা সময় চ’লে দিতে হ’চ্ছে শূন্যতার দিকে।
যদিও তার ফাঁকে ফাঁকে আমরা ব’লে নিচ্ছি মূল
পরিকল্পনার টুকিটাকি। হাত উঁচু ক’রে পিছনের
স্টেডিয়ামটা দেখাচ্ছি কালিকে। বাঁ’দিকে রয়েছে
লাইব্রেরী। সেদিকে চাইতেই অন্ধকার থেকে উঠে
আসছে অভিজিৎদার দীর্ঘ শরীর। অথচ তার
সাথে প্রথম দেখা সেই হিমালয় তীর্থাবাসে। ও হোঃ
গাড়োয়াল! সেবারই কেদার ট্রেক ক’রে সোজা চ’লে
এসেছি কালিদাসবাবুর ডেরায়। তারপর সুদীর্ঘ
ব্যবধান। বছর কয়েক আগে এখানে আবার দেখা।
উনিই আবিষ্কার করলেন পরিবার হোটেলে দুপুরে
খাওয়ার সময়। এতদিন পর ঐ আঁধার মাঠ পার
হ’য়ে ওনাকে এগিয়ে আসতে দেখছি স্মৃতি ডিঙিয়ে।

ইতিমধ্যে ওরা এসে পড়েছে। গুরুপদ ও শঙ্কর।
এখন গোটাকতক প্লাস্টিকের গ্লাস দরকার। এবং
গুরুপদর সাথে আগামীকালের কাজ সম্পর্কিত
কথাও… ও সকাল ন’টায় এসে যাবে নীহারিকায়।
বেশ, তাই হবে। ও বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে। সঙ্গের ঐ
ছেলেটিও পিছনে উঠে ব’সেছে।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।