কবিতায় স্বর্ণযুগে গোবিন্দ ব্যানার্জী (গুচ্ছ কবিতা)

একটা জং ধরা গানের লাইন
ধুলোর ভিতর আপনমনে
ডিগবাজী খাচ্ছিল সময়টা
পদস্খলিত হচ্ছিল কনেকগুলো সিঁড়ি
অনেকটা সামনে এগিয়ে যেতেই
কেমন বুড়োটে মার্কা হয়ে গেল
মুখের আর গলার ল্যালল্যালে চামড়া
ভয়ে গলা আড়ষ্ট হয়ে যেতেই
উল্টো বাতাসকে জাপটে ধ’রে
পিছনের স্টার্টিং পয়েন্ট পেরিয়ে গেল সে
প্রায় যৌবনের কাছাকাছি পৌঁছতেই
দড়িটা ঘ্যাঁচ ক’রে কেটে গেল…
অমনি হুড়মুড়িয়ে ছত্রখান হয়ে ছড়িয়ে পড়ল
সাদা কালো একগাদা ছবি।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পাল্টে নিলাম জামা
একটা পুরোনো জং ধরা গানের লাইন থেকে
মরচেগুলো তুলে দিতেই
ঝকঝকে রোদ্দুর হয়ে গেল
কিন্তু… সুরটা মনে পড়ছিল না কিছুতেই
ফিরে যাচ্ছি আঠরর কাছে
পিতা
আমার আঠারর যৌবনকে
টেনে নিয়ে গিয়েছিলে
নিঃঝুম বাগানে
কোমরে হাত ঢুকিয়ে
বের ক’রে নিয়েছিলে আমার প্রতিবাদ
পুঁতে রেখেছিলে মৃত্তিকার খাদে
তারপর পাঠিয়ে দিয়েছিলে অচেনা নগরে
পড়াশোনা আর পাশের মায়াজালে
জড়িয়ে জড়িয়ে হারিয়ে দিয়েছিলে
আমার আগ্নেয় নিশানা…
মাথা নীচু ক’রে ছিলাম
ঝুঁকে পড়েছিলাম মাটির মুখোমুখি
এখন দেখো
আশ্চর্য গাছের মত মাথা ফুঁড়ে উঠছে
ছিঁড়ে যাচ্ছে আকাশের মত তোমার নির্দেশ
একটা গোটা দেশের হৃদপিন্ড দেখতে পাচ্ছি
আর দ্রুত ফিরে যাচ্ছি আঠারর কাছে
মৃত্তিকার সেই গভীর খাদ থেকে
এইবার শুরু করতে চাই একটা বিধ্বংসী যুদ্ধ…
জেগে উঠো বন্ধু
ইতি
লেখার পর থামিয়ে দিলাম প্রবাহ
যেন একটা ঝড়
বা অন্যভাবে
রিদমিক স্লোগান
কোনঠাসা জবাবদিহি এবং এঁড়ে ঈশ্বর
দুইই সমার্থক…
আচ্ছা বলতো
(অপসন থাকছে)
নেতিয়ে পড়ার আগে চিঠিটা কি ছিঁড়ে ফেলবে?
মানে ঝামেলা তো ওখানেই…
তারপর ধরো… তোমার স্বাধীনতা
মানে স্বকীয়তা… মূল্যমানের
অন্ততঃ গড়পড়তা ওজন কতো…! জানো?
বাদ দাও… বাতাসের সোঁদা গন্ধ নাও
টালমাটাল সেতুটা কিন্তু পেরোতে হবে ভাইটি
জাঁহাবাজ হও অথবা বিনয়ী…
স্কিল তো তখন
যাকগে… কটু কথা থাক…
বেশ। আগামীকাল চুটিয়ে জেগে উঠো বন্ধু
দেখা হচ্ছেই…
রূপকথা বুনে চলেছে
বৃষ্টিমাখা নরম মাটিতে শুয়ে আছি
একটা স্রোত ছুঁয়ে আছে শ্রুতি
দূর থেকে আদিম কোন সুর অবিরাম
ঝমঝমিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে ঘুম
পাঁজরে জ’মে উঠছে কাদার সোঁদা গন্ধ
সেই ছায়ার ভিতরে কোন নক্ষত্র নেই
অথচ আকাঙ্খিত আনাগোনা বিচ্ছিন্ন সময়ের
অতল ঘুমের শিকড়ে স্তুপাকৃতি চেতনা এসে
আদুরে রূপকথা বুনে চলেছে অবচেতনায়
এত সন্তর্পণে… এত মগ্নতায়…
ঠোঁট মেলালেই হবে
পথ চিবোতে চিবোতে ইতিহাস থেকে
উঠে আসছে কয়েকটা অদৃশ্য চরিত্র,
তাদের প্রাজ্ঞতা এবং প্রাচীনতা সন্দেহাতীত
একদল জড়ো হতে চাইছিল আদিম সহবাসে
আর যারা কোরাসের দিকে ছিল
তারা অনবরত হাততালি দিচ্ছিল অন্ধ বিশ্বাসে
সরবত কত রকমের হতে পারে
সে সব নিয়ে তর্ক বিতর্ক এবং সমাধান
লিখে ফেলছিল কেউ একচেটিয়া অধিকারের গর্বে
যারা খাদ্যহীন হয়ে যাবে ধীরে ধীরে
তাদের তালিকা ধ’রে কার্তুজ গণনা করা হচ্ছিল
মঞ্চে তখনও নিভু আলোর ভিতরে
মাথা ঝুঁকিয়ে কয়েকজন রাষ্ট্রের কিংবদন্তী
ছবির উপর আঁক কাটছিল আর
কেউ কেউ প্রবল আপত্তিতে মাথা দোলাচ্ছিল
অভিনয়ের তৃতীয় রজনী অতিক্রান্ত প্রায়
জঙ্গলে আলো কালোর কাদা মেখে
যারা পাহারা দিতে নেমেছিল
তাদের গাঢ় ঘুমের পাশে পড়ে আছে
ছেঁড়া স্বপ্নের আদ্যিকালের ধুলধুবুরি চাটাই
মোরাম বিছিয়ে দেয়া হচ্ছে পথে পথে
চিবোনো পিন্ডগুলো উগরে তুলে
বিলিয়ে দেয়া হচ্ছে দয়ালু হাতে
চলুন… সমবেত গান গাইবার সময় আসন্ন
লেখাটা যদিও নেই… ঠোঁট মেলালেই হবে