প্রতিমুহূর্তে বেহাত হতে-হতে
বর্ণ হয়ে আলখাল্লায় জীর্ণজোড়া হই
চেতনায় অণুজীবেরা আরও কঠোর
রক্তের মহাসমুদ্রে শব্দেরা স্থির
এই দেহে পোকা লেগে গেছে শবের শরীর
আমাদের আলখাল্লা বর্ণের জোড়াতালি
আকাশে সংশপ্তক বিস্তীর্ণ চাঁদের চাদরে
দুরভিসন্ধি!
দু- মুঠো দাও আদরে আদরে পাশাদান খেলি
যতটা না ভাবি তারচেয়েও বেশি ভাবি
দীঘল নদী বা গভীর সমুদ্র প্রকৃতির দান
কেউ বলেনি কাউকে দুদ্দাড় চলে যেতে
আমাদের পচনশীল দেহে তবু কিছু চেতনা
আর বোধ ছিল
চলে যেতে হল-
অবোল কুহু-কেকা সাধউষ্ণ দেহের সন্তাপ
কিছু-কিছু কথা আর জ্বর ছোঁয়াচ পৃথিবীর
একশত আশি ডিগ্রী ত্রিভুজ চরাচর রচি
পিথাগোরাসের ভূমিতে দাঁড়িয়ে
যেখানে জল্লাদ ব্যাধ কিরাত করাত কবি ছবি
সব মিলেমিশে একাকার
অরণ্য তুমি একাকীত্ব বহন কর?
সব পাখি তো নীড়ে ফিরে আসে দৈনন্দিন শেষে
মানুষ পেটে খিল দিয়ে ঘুমোয় সঙ্গীহীন রাতে
ভয়ে- ভয়ে কন্ঠে আর হৃদয়ের শব্দে
রক্ত চোরাস্রোতে খেলা করে যায় অক্সিজেনে
আমাদের মুঠো থেকে যা ঝরে পড়ে
তা শব্দ নয় বালির গুঁড়ো বাতাসে মেশে
কবিয়াল সন্ধ্যায় নষ্ট মেঘেরা টেক্কা-মারে
অনেক ভেবেছে অনেক ভেবেছে অনেক ভেবেছে
সুগন্ধী আর স্যানিটাইজারে সেলফী এসেছে
বত্রিশ-চৌষট্টি আর ওদিকে
আটচল্লিশ মেগা-পিক্সেলের লেন্সে বরফট্টাই
অরণ্য ঘুমিয়ে পড়েছে
পর্বত আরও গভীর ঘুমে
ঝর্ণার কলতান পাখিদের নিবিড় ঘুম পাড়াচ্ছে
বাঘেরা পথ হারানো বালিকাদের রাস্তা বাতলে দেয়
শুধু চৌখুপী মঠের লোকেরা কাল-রাত্তিরে
ভয়াবহ নৃশংস ধর্ষক হয়ে ওঠে
অথচ উপনিষদ ভালবাসা ঢেলে সাজিয়েছিল
বেদে খুঁজেছি বশীকরণ মন্ত্র
তোমায় বশ করব বশীকরণে চপলা সুন্দরী
একদিন মৎস্যকন্যার ত্রিশূলে মৃত্যু জানি
প্রতিটি পলে-পলে যে ঢেউ উঠে আসে তটে
সে ঢেউয়ের কাছে আমাদের শরীর বাঁধা
প্রতিমুহূর্তে আমাদের টেনে নিতে চায় স্বখাত-সলিলে
আমাদের জীর্ণ পচা শরীরের মূল্যবোধহীন বোঝা
নীল জল নীল তিমি হা-করে বসে
দুয়ারে কড়া নেড়ে অণুজীব মাইক্রোনে
ঘরে- বাইরে ওপরে-নিচে আজ শুধু যুদ্ধ
এবং ভেতরে আরও ভয়াবহ মানসিক যুদ্ধ
যুদ্ধ তো চেয়েছিলিস! তাই পুরাণে কাব্যে মহাকাব্যে
বীরগাঁথা আর যুদ্ধ- যুদ্ধ কথাই পেয়েছিলাম
অনেক গভীর ভালবাসলেও নীলাচল হয়
নীলাচলের সূর্যরশ্মি দূরে জাহাজের মাস্তুলে
ঢাকা পড়ে আছে
নীলজল নীলতিমি হা-করে বসে আছে
পচেছে শরীর অনেক যে-টুকুও আছে তা-
কিছুটা চেতনার আর কিছুটা বোধের মনস্তাপ