||নারীতে শুরু নারীতে শেষ|| বিশেষ সংখ্যায় গোবিন্দ ব্যানার্জী (গুচ্ছ কবিতা)

ঝুরঝুরে বিকেলগুলো

এক

ছেঁড়া খোড়া একটা ছায়া এসে পড়ে
আর সবুজ বুগিয়ালটা আড়ামোড়া ভেঙে
পথগুলোকে গুটিয়ে টেনে নেয়,
তখনই সময়েরা মুঠো খুলে গুনে নেয় নিজেদের
তবু রোজই কেউ কেউ হারিয়ে যায় বিকেলে।

দুই

যখন আর দরোজা বন্ধ করতে হয় না
তখন ঝুরঝুরে বিকেলগুলো এসে গল্প করে
তারপর ছাদ ডিঙিয়ে নিয়ে চ’লে যায় –
আকাশের আবিষ্ট কাঁধ ছুঁয়ে
আমাকে হাঁটতে শেখায়
সেদিন গল্পগুলো জমে ওঠে খুব।

তিন

ঠন ঠন ক’রে শব্দটা হয়েই চলে
একটা বোবা কান্নার মত
অথবা কাঠ পোড়া গন্ধের মত,
ছায়াগুলো হুল্লোড় করতে করতে
সদর দরজা পার হয়ে যায় তখন।

চার

চোখের ভিতর ধূলো জমে গেলে
পুরোনো রুমালগুলো চিনে নিতে পারি,
বয়সের গন্ধেরা সার বেঁধে ব’সে থাকে
উৎসুক, এই বুঝি ডাকনাম পড়ে গেল কেউ।

পাঁচ

এই তো, সময়ের তুলতুলে শরীর
গড়িয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল কেউ,
রঙিন জামার মত হাতছানি লোভ
শ্যাওলার থেকে ঘন রং সময়েরা
চোখ তুলে চেয়ে থাকে, ডাকে ইশারায়।

ছয়

দেয়ালে টাঙিয়ে রাখতে গিয়ে
দু’তিনটে বিকেলের গা থেকে
ছাইয়ের মত মৃত্যুর গান উড়ে গেল,
ছাদের কার্নিসে বসে সারাটা সন্ধ্যা
তারা নগরের বিস্ফোরন শুনেছিল।

সাত

সীমান্ত পেরিয়ে আসতে আসতে
ঝুরঝুরে বিকেলগুলো বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে,
কাঁধের পুটুলিতে মুখ বাঁধা সময়েরা
দম বন্ধ হয়ে মারা গেছে ছোটোবেলাতেই
তারপর আর গলা টিপতে হয়নি কাউকে।

আট

যারা গান গাইতে গাইতে নদী পার হচ্ছিল
তারা অনেকগুলো মৃতদেহ সৎকার করেছিল,
আর মেলা থেকে ফেরার সময়
যে মেয়েটা হারিয়ে গিয়েছিল একদিন
তার কথা ভেবে
সন্ধ্যাপ্রদীপ উড়িয়ে দিচ্ছিল হাওয়ারা।

নয়

ঘুমিয়ে পড়লেই ডানা ঝাপটানোর শব্দ
স্বপ্নের ভিতরে বসে ছড়ানো এ্যালবাম গুছিয়ে নিই
ভোঁতা নদী মুখ গুঁজে শুয়ে থাকে অস্পষ্ট
পাতা উল্টে দিলেই হলুদ পাতা খসে পড়ে,
বাকলে হাত ছোঁয়ালে চোখ নামিয়ে নেয় সময়।

দশ

পালকগুলো উড়তে উড়তে বালিকা হয়ে যায়
চু-কিৎকিৎ, বুড়ি-বসন্তের টকি শো
দেখতে দেখতে হারিয়ে ফেলেছি সময়
ঢ্যামনা শরীর আনচান ক’রে উঠলেই
মাঠের অন্ধকারে দপদপে আগুন জ্বলে ওঠে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।