ধারাবাহিক কিশোর উপন্যাসে এ এফ এম সেবগাতুল্লা (পর্ব – ১৫)

সাবির সুবীর আর মাতলা নদী
সাবির কিছুটা সংকোচে দাদুর কাছে জানাল ওদের উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানীরিক্ষার কথা , যে পরীক্ষানীরিক্ষায় দাদুও আছেন! দাদু শুনেতো অবাক! এবারে সুবীর আসল কথাটা পাড়ল। কলকাতা বিস্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সাবির-সুবীরের উদ্যোগে দাদুর চিকিৎসা করানো হয়েছিল ঠিকিই কিন্তু দাদুর অজান্তে দাদুর শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দাদুর ডি,এন,এ এর সাথে আমঝাড়ার ফিসারির কাছে যে ঢিবি খুঁড়ে সাবির সুবীর আর টিঙ্কু মামা যে কংকাল আবিষ্কার করেছিল ,সেই কংকালের সাথে দাদুর জেনেটিক মিল পাওয়া গেছে।
ক্রমে এটাই প্রমানিত হয়েছে যে আলঙ্গনরত যে বড় আর ছোট কংকাল উদ্ধার হয়েছে সেটা নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নীরিক্ষায়, বিষেশত ডি,এন,এ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে ওই ক্ষয়ে যাওয়া বড় কংকালটি হল দাদুর মায়ের, আর ছোট কংকালটি যেটা হৃষ্টপুষ্ট নয় সেটা দাদুর সেই ছোট ভাইয়ের! প্রায় সত্তর বছর আগে যে ভয়ংকর নৌকাডুবি হয়েছিল সেই স্মৃতি আজও বিশেষত গ্রামের বৃদ্ধ মানুষদের নাড়িয়ে দেয়।
অতপর দাদু যখন জানতে পারলেন ফিসারির কাছে উদ্ধার হওয়া কংকালটির একটি তার মায়ের ওপরটি তার ফেলে আসা শৈশবের
আদরের ছোট ভাইয়ের! ফলে দাদু এবং দাদুর পরিবার কংকাল দুটি ফিরে পাবার জন্য আবেদন নিবেদন করতে লাগল। এই আবেদন নিবেদন ক্রমে দাবিতে পরিনত হয় । এই দাবি ক্রমে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল। আর এই ঘটনা মিডিয়াকে প্রভাবিত করল। এমন একটি বিরল ঘটনা যা সহজেই জনমানষকে প্রভাবিত করে, এটা হল সেই ঘটনা। মিডিয়াতে এই ঘটনার খবর পরিবেশন করার সাথে সাথে সাবির সুবীর, টিঙ্কু মামাকে নিয়ে স্টোরি করা হয়। ওরাই যে কংকালের আবিস্কারক তা সবাই জানতে পারে। আর সাবির-সুবীরের উদ্যোগেই কংকালের রহস্য উন্মচিত হয়েছে তা প্রায় গোটা বাংলার জানা হয়ে গেছে।
কিছুদিন পরে সরকারি মহল থেকে কংকাল দুটি গ্রামে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
আজ সেই দিন , আজ আসবে দাদুর মায়ের ও ভাইয়ের সেই উদ্ধার হওয়া কংকাল ! পুরো ঘটনাটা আজ মিডিয়া কভারেজ করছে। সাবির-সুবীরের আর দাদুর বাড়ির লোকজনের কংকালের সাথে আসার কথা। আজ এসেছে টিঙ্কু মামা, দিব্যেন্দু কাকা ,গবেষকরা কয়েক জন সরকারি লোকজন। আর এসেছে কালিকাপুর, সোনারপুর ,কলকাতা থেকে সাবির-সুবীরের বন্ধু বান্ধব। ঠিক হয়েছে আজই কংকাল দুটি কবরস্থ করা হবে ! সেই মত গ্রামের কবরস্থানে একটি বড় আর একটি ছোট কবর খোঁড়া হয়েছে !
আজ কবরস্থ করার দিনে দূরদুরান্ত থেকে লোকজন এসেছে। হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষের সমাগম ঘটেছে আমঝাড়া গ্রামে। সবাই এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকতে চাইছে।
এই ঘটনার সাথে কিছুটা মিল পাওয়া যায় ফ্রান্সের একটি পাহাড়ি গ্রামের ঘটনা। সেই গ্রামে এক বৃদ্ধা শৈশবে তার বাবা মা কে হারায়। তার স্মৃতিতে আবছা হয়ে আছে তার বাবা মায়ের কথা। তার বাবা ছিলেন পশুপালক। একদিন ওই পাহাড়ের কাছে ভেড়া চরাতে গেছিলেন তার বাবা।
চলবে