।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস

কবিতাগুচ্ছ: জীবনের খন্ডচিত্র

এক:

গভীরে প্রবেশ করার পর
তিমি মাছটি বুঝতে পেরেছিল,
উপঢৌকণে রাখা ভালোবাসাখানি
আসলে বড়ই অগভীর…!
কিন্তু ততদিনে শরীরে বিষবৃক্ষের
বীজ আরোপিত হয়ে গেছে…
কপট আস্থায় !
ছায়াপটকে পিছনে ফেলে,
ফেরা হয়নি তার আর কোনদিন…
জলের কাছাকাছি,
কোনো এক বিষুবরেখার সম দৈর্ঘ্যে ।

দুই:

ভাঙনের পথ ধরে
আবহমান কাল হেঁটে যেতে যেতে,
আলাদা করে আর ভাঁটার মাহাত্ম্য
বিশেষ আকর্ষণ করে না…
মোহিত করে না জোয়ারের আসার খবরও।
ঝলসানো জ্যোৎস্নায়, শ্যাওলারা
মাঝে মাঝেই শুধু মনে করায়,
জন্ম আর মৃত্যুর অকপট
সহাবস্থানটুকু!
আদরের এই জীবন নদীতে,
বাকী সব কিছুই মিথ্যে এবং শুধু মিথ্যেই…

তিন:

ছন্দপতন হতে না হতেই,
গোটা একটা রাস্তা
শ্মশান হয়ে গেল…!
অন্ধকার বুঝিয়ে দিয়ে গেল,
শালগ্রামও আসলে একটা শিলাখন্ডমাত্র!
কেবলই তঞ্চকতার আকর…
অস্থানিক, নিরঙ্কুশ, নির্বিকার।
আঁধারে মিশে যাওয়া অপরাহ্ণের আলোর মতো!
আসলে দেবতাও যে দানব হয়!
ট্যারেন্টুলা তাকে গিলে খাওয়ার আগে,
পাখীটা যে তা বুঝতেই পারেনি কোনদিন…

চার:

আগাছার প্রতারণায়,
বিশ্বাসের শিকড়গুলি উপরে যায়,
শিকার হতে হয় শ্বাপদের।
হৃৎপিন্ডের হয় সর্বনাশ,
শুধু ক্ষয়, ক্ষতচিহ্ন আর অদৃশ্য রক্তপাত!
অথচ মস্তিষ্কের মসৃণ কারুকাজের,
করুণ সেজে থাকার জয় হয়
মেকী কান্নার দু-এক ফোঁটায়।
চারিদিকে শুধুই স্তাবক!
নিপুণ অছিলা…অভিনয়।
মেলোড্রামা বা সার্কাস – যাই ভাবা হোক না কেন,
সেও বড় কম পড়ে যায়…!
জীবনের জলছবি এ নয়…তা কি হয় কখনো!

পাঁচ:

না চাইতেও কখন যেন
অনবধানেই কিছু কিছু অক্ষর
লেখা হয়ে যায় প্যাপিরাসে…
কত বর্ষা আর ঝড়ের দাপটেও
তার দাগ মোছে না !
অনেকটা সেই হাত ফসকে পড়ে যাওয়া
সিলভার নাইট্রেটের মত।
শীতের আবেশ জড়ানো
কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে,
হ্যামিলটনের বাঁশীওয়ালার
মিষ্টি সুর শুনবে বলে অপেক্ষমান
জীবনের দিকে তাকিয়ে,
মুচকি হাসে শ্রোয়েডিঙ্গারের
বিড়াল ছানা …
আর অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের
যাবতীয় দর্শন ও উপলব্ধির
সব মাত্রাকে অতিক্রম করে
আকাশের বুকে তখন ব্যাপ্ত হই আমি…
আমরা সবাই।
ধ্রুব সত্য শুধু ঐ এক মুঠো ছাই !
আমাতেই তখন সমগ্র চরাচর…
মুক্তি…দেবযান আর মনফকিরা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।