গদ্যের পোডিয়ামে দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই
চুপচাপ বসে থাকি এখন। কাজ থাকে না কিছু। পায়ের নার্ভ শুকিয়ে এখন হুইলচেয়ার আশ্রয়ী। পাহাড়ের এই ধারটায় থাকতে ভালো লাগে। বড়ো মনোরম। বড়ো আপন লাগে পাহাড় আমার। সারাদিন কথা বলি ওর সাথে। আমার জীবনের গল্প বলে গেলে ও চুপ করে শোনে।ফেলে আসা বাড়ির গল্প, সম্পর্কগুলোর গল্প। শুনতে শুনতে ও উদাস হয়ে যায়।বুঝি আমার জন্য কষ্ট হয় ওর। এতো কিছু ছিল, এতো কিছু দেওয়ার পরও একা এখানে কেন? ওর মুখচোখে প্রশ্নটা লেগে থাকে। হাত বাড়িয়ে ওর সব প্রশ্ন মুছিয়ে দিলে হঠাৎ ও বলে ওঠে, তাহলে এভাবে একা একা দাঁড়িয়ে থাকাই শ্রেয়। চাওয়া পাওয়ার হিসেব থাকে না শেষে এসে। হেলে পড়া সূর্যের আলোমাখা ওর মায়াবী মুখের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকি।ভাবি জীবনের সত্যটা বোধহয় এখানেই পড়ে থাকে অবহেলায়।অথচ পথ শেষে একেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকা? নাকি দিন গোনা পরম পিতার ডাকের অপেক্ষায় !