কবিতায় স্বর্ণযুগে দেবাশীষ মণ্ডল (গুচ্ছ কবিতা)

১| ক্ষিদে
অনেক সময় খেতে পেলেও
খাওয়া হয়না খাবার!
ক্ষিদে থাকে উদরে!
আবার ক্ষিদে না থাকলেও তো
খাওয়া হয় যত অখাদ্য!
যখন ভরা পেট।
আবার কেউ দিন দিন—
শাল পাতা বা সোনার থালায়,
খাবার পেয়েও ফেলে দেয়–
উচ্ছিষ্ট ফেলার পাএে।
কেউবা আবার তা খাবার জন্য
তাকিয়ে থাকে লোলুপ দৃষ্টিতে।
কিন্তু—-আবার!
সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো
পাগল লোকটা কুড়িয়ে খাচ্ছে —
ডাস্টবিনের যত এঁটো খাবার,
পেট ভরানোর চাহিদায়!
২| পকেট
বাবা! দেখনা কত বড়ো পকেট!
বাবা বলে,এ,এ এই এততো বড়ো।
খুশি হয়ে ছেলে বলে– “এইটায় আমার চাই।”
বাবা দেখে এ তো অনেক দামি।
নিজের প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দেখে টাকার বহরটা ।
আর মনে মনে ভাবে, বড়ো পকেট, কিন্ত বহরটা যে আমার খুব ছোটরে খোকা!
কিন্ত ছোট্ট শিশু প্যান্ট টি আনন্দে বগল দাবা দিয়ে রাখে আর মিটি মিটি হাসে।মনে মনে ভেবে নেয় কোন পকেটে কোন ফটাকা রাখা যায়।
কদিন পরেই তো পূজো।
তা দেখে বাবার কষ্টে বুক ফেটে যায় ।
আবার আনন্দে অশ্রু নামে দুচোখ বেয়ে।
ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে পকেট থেকে কিছু নোটের সাথে কত গুলো খুচরো কয়েন দিয়ে, ছেলের পছন্দের প্যান্ট টি নিয়ে হাসতে হাসতে দোকান থেকে বের হয়।
ছোট্ট শিশুটি হাসতে হাসতে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলে —“পকেট” টা কততো বড়ো!
বাবা চোখের কোন মুছে নিয়ে বলে—-হ্যাঁ।