সঞ্জীবনী প্রথম যেদিন মিমিকে দেখেছিল, বাঁচিয়েছিল একটি বড়োসড়ো অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার হাত থেকে। কোলে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট মিমিকে।সেদিন মিমিও সঞ্জীবনীর বুকে মাথা রেখে, বেঁহুশ হয়ে “মা” বলে ডেকেছিল। সঞ্জীবনীর মধ্যে জেগে উঠেছিল মা-এর একটি রূপ।
সেই ঘটনার পর, বহুবার সঞ্জীবনী মিমির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাকে মিমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মিমিও অনেকবার সঞ্জীবনীর কাছে আসার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল।
ঠিকই তো, সঞ্জীবনীকে ছোট্ট মিমির কাছে কেন আসতে দেবে এই সুস্থ সমাজ। সে যে, নপুংসক, হিজড়া, ছক্কা। কারোর কারোর চোখে তো আবার, সে মানুষের পর্যায়েই পড়ে না।
তবে, সঞ্জীবনী নিজের চেষ্টা চালিয়ে যায়। একদিন সে খবর পায়, মিমির দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। ইমিডিয়েটলি কিডনি না পেলে তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। সে সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায় মিমির চিকিৎসারত ডাক্তারের কাছে। জন্মগত একটি কিডনির অধিকারী সঞ্জীবনী, ডাক্তারের সাথে কথা বলে সবার অজান্তেই আরো একবার মিমির প্রাণ সঞ্চারকারিণী হয়ে ওঠে।
আজ, হসপিটালের মর্গে পড়ে থাকা, সাদা কাপড়ে মোড়া সঞ্জীবনীর মৃতদেহটি যেন একটি কথাই বলে চলে,”মিমি, আমায় একবার “মা” বলে ডাক!!”