শনিবারের লেখায় দেবাশীষ মণ্ডল

বেতন

শিক্ষক রতন বাবু ,ব্যাঙ্কে বেতন তুলতে গিয়ে ভাবল কিসের জন্য সে এ বেতন তুলছে!যে কাজের জন্য তার এই বেতন (পারিশ্রমিক)সেই পরিশ্রম না করে কেন নিতে হবে এই পারিশ্রমিক ।ভাবতে ভাবতে তাঁর শিক্ষিত বিবেক কেমন যেন বিচলিত হয়ে পড়ে,যেন বারে বারে বলতে থাকে তুমি বিনাশ্রমে এই পারিশ্রমিক নিওনা।

শিক্ষক রতন কুমার মিস্ত্রী একজন স্কুলশিক্ষক। শিক্ষকতা তার পেশা।এই শিক্ষকতা করে আসছেন বিগত বিশ বছর। কিন্তু কোভিড নাইন্টিনের বিষের(ভাইরাস )জন্য আর সব পরিষেবার মতো বন্ধ হয়েছিল স্কুল শিক্ষা। শিক্ষা দেওয়ার জন্য যখন এই বেতন ,তবে কি তিনি বিনা শিক্ষা দানে নিতে পারেন এই বেতন?

এই জিজ্ঞাসার উত্তর হয়তো সঠিক কেউ দিতে পারবেন না।কারন যুক্তি তক্কো করে করে বিস্তারিত হয়ে যাবে এই পারিশ্রমিকের বিনিময়ের কারন,অ-কারনের ব্যকরণ।

কিন্তু, শিক্ষক রতন বাবুর মতো কতজন শিক্ষক মহাশয় এই দোদূল্যমান সাকোয় পা রেখেছেন সে খবর কেউ রাখেনি বা রাখতে চাননি । শুধুমাত্র প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষকরা তো ছুটির আমেজে কাটিয়ে দিচ্ছেন এই লকডাউন, করোনা মহামারীর দৌলতে।এ যেন শাপে বর সম।

আমার মনে প্রশ্ন জাগে শিক্ষক বা শিক্ষিকা রা কি সত্যি মনে মনে ভাবেন নি কবে শুরু হবে বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সচল এবং স্বাভাবিক শিক্ষা দান।নাকি খুব সাচ্ছন্দ্যো চালাচ্ছিলেন খোলা আকাশের নিচে খোলা ময়দানের(পাড়ায় শিক্ষালয়) শিক্ষা দান।

মনে বিস্ময় হয় সত্যি কি শিক্ষক, শিক্ষিকারা ওভাবে বেতন তুলতে আনন্দ পেতেন! না ওনাদের বেতন তুলার আনন্দ শুধুই;শুধু মাএ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দানের বেতটা কে অন(চালু)করে।

শিক্ষক রতন বাবুরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দানের বেতটা অন(চালু)করুন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দানের জন্য।বেতন তো মানুষের জীবনযাপনের চাহিদা পূরনের একগুচ্ছ মূল্য মাএ, সে যে যার পেশায় পেয়ে থাকেন। ছুটি বা বন্ধ সেটা তো যে কোন প্রতিষ্ঠানেই থাকে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।