গদ্যানুশীলনে দেবাশীষ মণ্ডল

কবজ
তিন মেয়ের পর যদি একটা ছেলে হত তাহলে খুব ভালো হত অন্তত বংশের পরিচয় টা থাকত এই ভেবে স্ত্রী কে সঙ্গে নিয়ে মধ্যবিত্ত অমল চললেন এক নামজাদা গুণীনের কাছে। গুণিন মশাই অমলের স্ত্রী কে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে একটা জাবদা কবজ দিলেন মাএ দু’হাজার টাকার বিনিময়ে।তার সঙ্গে কি ভাবে কবজটি অঙ্গে ধারন করতে হবে বলেদিলেন এবং সঙ্গে কি কি নিয়ম মানতে হবে তাও বলেদিলেন । অসহায় দম্পতি তা দৃঢ়চিত্তে মেনে চলবে অঙ্গীকার বা সঙ্কল্প নিয়ে বাড়ি ফিরলেন এবার পুত্র সন্তান ঠেকায় কে এই আনন্দের আত্মহারা হয়ে।কিন্তু তার ঠিক দশ মাস পর আবার অমলের স্ত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করলেন।
এবার অমল রেগে মেগে আগুন হয়ে সোজা গেল সেই গুণিনের কাছে ।গিয়ে বললো আপনি এত মিথ্যুক কেন।কয় আপনার কবজে তো আমার পুত্র সন্তান হলো না?ফেরত নিন এই কবজ বলে ছুঁড়ে দিল গুণিনের সামনে দিকে।
গুণিন কবজটি হাতে নিয়ে স্ব-মচকিহাস্যে খুলতে খুলতে বললেন না আমি মিথ্যে বলিনি আমি সত্য কথায় লিখেছি।এই দেখ কবজের ভেতর কি লেখা আছে তুমি নিজেই পড়ে নাও
অমল কবজ হাতে নিয়ে দেখল তাতে লেখা-‘কন্যা সন্তান’।অমল অবাক হয়ে চেয়ে থাকল গুণিনের মুখের দিকে আর ভাবল আসলে এই লেখা টি তার পুত্র সন্তান পাবার কবজ নয়।এটা আসলে গুণিনের রক্ষা কবজ ছিল।